তানোরে গভীর রাতে দূর্বৃত্তের দেয়া আগুনে ৫ পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই
- আপডেট সময়ঃ ০৬:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৬৪ বার পড়া হয়েছে।

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে গভীর রাতে বাড়ির প্রধান দরজায় শিকল তুলে পেট্রোল দিয়ে আগুন দেয় দূর্বৃত্তরা। এতে ৫ পরিবারের বসতঘর আসবাবপত্র ও ১৫ লাখ টাকা পুড়ে ছাই হয়েছে।এ ঘটনায় দুজন নারী আহত হয়, তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের (ইউপি) ইলামদহী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশী ও ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও তার আগেই ৫ পরিবারের স্বপ্ন পুড়ে ছাই। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে, থামছে না আহাজারি ও কান্না।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল জানান, গভীর রাতে বাড়ির প্রধান দরজার ছিটকিনি তুলে দিয়ে পেট্রোল ঢেলে দূর্বৃত্তরা বাড়ির লোকজনকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্য আগুন দেয়। আগুনের লেলিহান শিখা দাউদাউ করে জ্বলে উঠে। এসময় বাড়ির মহিলা ক্ষতিগ্রস্ত ফেরদৌসী দেখতে পেয়ে আগুন আগুন বলে চিৎকার দেয়া শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হলে তার দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।কিন্ত্ত তার আগেই ফেরদৌসীর নগদ ১৫ লাখ টাকা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়াও তার বোন বিলকিসের বাড়ি, মোজাম্মেল তার ভাই নুর ইসলামের বাড়ির সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ।
তিনি আরো জানান, ফেরদৌসীর মেয়ে নাসিমার কপাল পুড়ে গেছে। তার বাড়ির সবকিছু পুড়েছে। ফেরদৌসীর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে জানালা ভেঙে বের করা হয়। তার শরীরের কিছু অংশ পুড়েছে।
নাসিমার স্বামী সিরাজুল জানান, সবকিছু কেড়ে নিল আগুন। জীবনের কষ্ট করা সবকিছু নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। আমার স্ত্রী ও শালিকার শরীরের কিছু অংশ পুড়েছে। তাদেরকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নেয়া হয়েছে। পাঁচ পরিবারের ঘরে থাকা ধান চালসহ এমন কোন জিনিস বাকি নেই পুড়তে।
এবিষয়ে ইউপি জামায়াতের আমীর মাওলানা জুয়েল রানা জানান, ফজরের নাজাম পড়তে উঠে দেখি চিৎকার হইহট্টগোল শোনা যাচ্ছে। কাছে গিয়ে দেখি পাঁচ পরিবারের বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এবিষয়ে পাঁচন্দর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সাদিকুল ইসলাম জানান, পাঁচ পরিবারের কোন কিছুই বাকি রইলনা। গভীর রাতে আগুন দেয়া মানে পুড়িয়ে মেরে ফেলা। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা সবাইকে জীবিত রেখেছেন। কিন্তু তাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি ভাবে সহযোগিতা করা একান্ত দরকার। কারন তাদের কাছে কোন কিছুই নেই।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্থরা রীতিমত বাকরুদ্ধ কথা বলতে পারছেন না। শুধু হাউমাউ করে কান্না করছে। আর বলছে সব শেষ হয়ে গেল। এখন কি খাব আর কোথায় থাকব।সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মমিনুল হক মমিন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শন করে পরিবারগুলোকে শান্তনা দেন। তিনি আরো জানান, এটা অমানুষিক ঘটনা। তবে কেউ হতাহত হয়নি এটাই মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা। শান্তনা দেয়ার ভাষা নেই। চেষ্টা করা হবে ক্ষতিগ্রস্ত পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করার।
পাঁচন্দর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সরকারিভাবে কোন সহযোগিতা পেলে তাদের দেয়া হবে।তানোর ফায়ার সার্ভিস জানায়, কে বা কারা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই সবকিছু পুড়ে গেছে। নগদ ১৫ লাখ টাকা পুড়েছে এবং সব মিলে প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ টাকা।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আল মামুন জানান, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার প্রতি দুই বান্ডিল করে টিন ও ৬ হাজার করে টাকাসহ সরকারি নিয়াম অনুযায়ী সহযোগিতা করা হবে। এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খানের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। যার কারনে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।#











এই সমস্ত ঘটনাগুলো নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা নামে আমরা জেনে আসছি। আসলে এগুলো বিজয়ী ও পরাজিত উভয়পক্ষের কিছু উশৃংখল পাতিনেতা ও কর্মীদের কাজ। হিংসার বসবর কি হয়ে নিজ স্বার্থ চরিতার্থের জন্য তারা এসব করে থাকে। এতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য অনেক সময় তারা এসব কাজ করে থাকে। সরকারের উচিত এ সমস্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনা প্রতিরোধে যৌথ বাহিনীর অভিযান আরো কিছুদিন অব্যাহত রাখা