০২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

বিদেশে পাড়ি দিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন বাগমারার আনামুল

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:১৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৭৯ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

ভ্যানচালক ইয়ানুস আলী আশা করেছিলেন, ছেলে আনামুল হক সৌদি আরবে গিয়ে পরিবারের দুঃখ দূর করবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—বাড়ি ফিরলেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে। এখন ঋণের বোঝা আর ছেলের রেখে যাওয়া স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিশেহারা ইয়ানুস আলী।

রোববার দুপুরে আনামুল হকের লাশ নিজ গ্রাম রাজশাহীর বাগমারার মাড়িয়া ইউনিয়নের গোয়ালপাড়ায় পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় এক আদম ব্যবসায়ী আতিক হোসেনের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান আনামুল। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। সেখানে ‘আলী আবদুল্লাহ আল-মাকরামি কম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ নেন।

বিদেশ যাওয়ার মাত্র ১৪ দিন পর, ১ অক্টোবর সৌদি আরবের আফিফ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। ওই দুর্ঘটনায় মিশর, সুদান ও পাকিস্তানের নাগরিকসহ আটজনের মৃত্যু হয়, তাঁদের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন আনামুল হক।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর পর ১৪ দিন তাঁর লাশ আফিফ শহরের একটি হাসপাতালের মর্গে ছিল। পরে দূতাবাসের সহায়তায় লাশ দেশে আনা হয়।

নিহতের বাবা ইয়ানুস আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঋণ কইরা বেটারে বিদেশ পাঠাইলাম, ভাবছিলাম অনেক টাকা লইয়া আসবে। এখন সব শেষ। বেটার বউ-ছাওয়াল নিয়া কীভাবে থাকমু!”

স্ত্রী বিলকিস বানু বলেন, ১৪ দিন স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। পরে দূতাবাসে ফোন করে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন।

স্বজনেরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী আতিক হোসেন মৃত্যুর পরেও তাঁদের কাছ থেকে টাকা দাবি করেন। তাঁর মোবাইল এখন বন্ধ রয়েছে।

এই বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও আতিক হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিদেশে পাড়ি দিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন বাগমারার আনামুল

আপডেট সময়ঃ ০৭:১৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

ভ্যানচালক ইয়ানুস আলী আশা করেছিলেন, ছেলে আনামুল হক সৌদি আরবে গিয়ে পরিবারের দুঃখ দূর করবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—বাড়ি ফিরলেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে। এখন ঋণের বোঝা আর ছেলের রেখে যাওয়া স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিশেহারা ইয়ানুস আলী।

রোববার দুপুরে আনামুল হকের লাশ নিজ গ্রাম রাজশাহীর বাগমারার মাড়িয়া ইউনিয়নের গোয়ালপাড়ায় পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় এক আদম ব্যবসায়ী আতিক হোসেনের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান আনামুল। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। সেখানে ‘আলী আবদুল্লাহ আল-মাকরামি কম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ নেন।

বিদেশ যাওয়ার মাত্র ১৪ দিন পর, ১ অক্টোবর সৌদি আরবের আফিফ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। ওই দুর্ঘটনায় মিশর, সুদান ও পাকিস্তানের নাগরিকসহ আটজনের মৃত্যু হয়, তাঁদের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন আনামুল হক।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর পর ১৪ দিন তাঁর লাশ আফিফ শহরের একটি হাসপাতালের মর্গে ছিল। পরে দূতাবাসের সহায়তায় লাশ দেশে আনা হয়।

নিহতের বাবা ইয়ানুস আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঋণ কইরা বেটারে বিদেশ পাঠাইলাম, ভাবছিলাম অনেক টাকা লইয়া আসবে। এখন সব শেষ। বেটার বউ-ছাওয়াল নিয়া কীভাবে থাকমু!”

স্ত্রী বিলকিস বানু বলেন, ১৪ দিন স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। পরে দূতাবাসে ফোন করে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন।

স্বজনেরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী আতিক হোসেন মৃত্যুর পরেও তাঁদের কাছ থেকে টাকা দাবি করেন। তাঁর মোবাইল এখন বন্ধ রয়েছে।

এই বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও আতিক হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।