০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বাগমারার ভবানীগঞ্জে সাবেক মেয়রের বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

শামীম রেজা
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:১৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • / ১৩ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাক প্রামাণিকের বাসভবনে ককটেল হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আব্দুর রাজ্জাক প্রামাণিক।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শুক্রবার দিবাগত দুর্বৃত্তরা তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। আকস্মিক এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে সৌভাগ্যক্রমে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তচক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ নেই। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও একটি মহল তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

তিনি প্রশাসনের প্রতি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ককটেল, গুলি কিংবা সন্ত্রাসের ভয় দেখিয়ে আমাকে বা আমার পরিবারকে জনগণের পাশে থাকা থেকে বিরত রাখা যাবে না। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমি জনগণের পাশে থাকব।


এর আগে হামলার প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গোডাউন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান, সাবেক সদস্য সচিব শামসুজজোহা সরকার বাদশা, তাহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আ,ন,ম, শামসুর রহমান মিন্টু, সহ স্থানীয় নেতারা। বক্তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান। এ সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি তাজা অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং একটি ককটেল বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগমারার ভবানীগঞ্জে সাবেক মেয়রের বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

আপডেট সময়ঃ ০৪:১৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাক প্রামাণিকের বাসভবনে ককটেল হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আব্দুর রাজ্জাক প্রামাণিক।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শুক্রবার দিবাগত দুর্বৃত্তরা তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। আকস্মিক এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে সৌভাগ্যক্রমে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তচক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ নেই। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও একটি মহল তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

তিনি প্রশাসনের প্রতি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ককটেল, গুলি কিংবা সন্ত্রাসের ভয় দেখিয়ে আমাকে বা আমার পরিবারকে জনগণের পাশে থাকা থেকে বিরত রাখা যাবে না। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমি জনগণের পাশে থাকব।


এর আগে হামলার প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গোডাউন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান, সাবেক সদস্য সচিব শামসুজজোহা সরকার বাদশা, তাহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আ,ন,ম, শামসুর রহমান মিন্টু, সহ স্থানীয় নেতারা। বক্তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান। এ সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি তাজা অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং একটি ককটেল বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।