০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাগমারার কালিকাপুরে বিনোদনের নতুন ঠিকানা, বিলের ঢেউয়ে মুগ্ধ ভ্রমণপিপাসুরা

শামীম রেজা
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৭২ বার পড়া হয়েছে।

শামীম রেজা, বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কাচারি কোয়ালীপাড়া ইউনিয়নের কালিকাপুর এলাকা এখন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে স্থানীয়দের অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদন স্পটে। বিশাল বিলের স্বচ্ছ পানি, ঢেউ খেলানো জলরাশি, ইটের তৈরি ব্লকের বাঁধ, চারপাশের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি আর বিলের বুকে চলাচল করা নৌকা সবকিছু মিলিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে এখানে।

বাগমারার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। বিশেষ করে বিকেল হলেই কালিকাপুরের বাঁধে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আবার কেউবা প্রিয়জনদের নিয়ে সময় কাটাতে আসছেন এই প্রাকৃতিক পরিবেশে।

বিশাল বিলের পশ্চিম পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত বাঁধটি বর্তমানে দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ। বাঁধের ইটের তৈরি ব্লকের ওপর দাঁড়িয়ে কিংবা বসে বিশাল জলরাশির ঢেউ উপভোগ করছেন অনেকে। পানিতে বাতাসের দোলা আর ঢেউয়ের ছন্দের সঙ্গে দিগন্তজোড়া জলরাশি দর্শনার্থীদের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তির অনুভূতি।

বিলের পানিতে থাকা নৌকাও বাড়িয়েছে আকর্ষণ। অনেকেই নৌকায় ঘুরে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। আবার কেউ কেউ বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে নৌকা চলাচল ও বিস্তীর্ণ জলরাশির দৃশ্য উপভোগ করছেন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগ পর্যন্ত পুরো এলাকা পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়।

প্রকৃতির মাঝে গান-বাজনা, জমে উঠছে আড্ডা
কালিকাপুরের এই স্থানটি শুধু ঘোরাঘুরি কিংবা ছবি তোলার জায়গা হিসেবেই নয়, ধীরে ধীরে সংস্কৃতিচর্চার একটি অনানুষ্ঠানিক স্থান হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে। বিভিন্ন সময় সংস্কৃতিকর্মী ও তরুণরা এখানে এসে গান-বাজনায় মেতে উঠছেন। প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে গান, আড্ডা ও আনন্দে মুখর হয়ে উঠছে বিলের পাড়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই এলাকার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এর পরিচিতি দ্রুত বাড়ছে। ফলে প্রতিদিনই নতুন নতুন দর্শনার্থী আসছেন। অনেকের কাছে বাগমারার এই জায়গাটি এখন স্বল্প খরচে প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে সময় কাটানোর অন্যতম পছন্দের স্থান হয়ে উঠেছে।

সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে কিছু ঝুঁকি
তবে সম্ভাবনাময় এই বিনোদন স্পটটিতে দর্শনার্থীদের জন্য কিছু সমস্যাও রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যাতায়াত ব্যবস্থা। বিনোদন স্পটে পৌঁছাতে যে পথটুকু অতিক্রম করতে হয়, তার বড় একটি অংশ এখনো মাটির। ফলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলে কাদামাটি ও পিচ্ছিল হয়ে পড়া রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ভ্রমণপিপাসুদের।

বিশেষ করে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে যাতায়াতের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের জন্য এই মাটির পথ বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, বাড়ছে উদ্বেগ
দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লেও এখনো এই এলাকায় তেমন কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বিশাল বিলের পানির একেবারে পাশে মানুষজনের অবাধ চলাচল থাকায় শিশু-কিশোরদের নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পানিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন এখানে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, যাতায়াত ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি এখনো সেভাবে গুরুত্ব পায়নি। পানির পাশে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, নিরাপত্তাকর্মী, আলোর ব্যবস্থা এবং জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম রাখা প্রয়োজন।

পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠতে পারে পর্যটনকেন্দ্র
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কালিকাপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে জায়গাটিকে পরিকল্পিতভাবে বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যাতায়াতের মাটির রাস্তা উন্নত করা, দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং বিলের পানির পাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জায়গাটির আকর্ষণ আরও বহুগুণ বাড়বে।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, বিশাল বিলের স্বচ্ছ জলরাশি, ঢেউ খেলানো পানি, ইটের তৈরি ব্লকের বাঁধ, নৌকা, সবুজ গাছপালা এবং খোলামেলা পরিবেশ সবকিছু মিলিয়ে কালিকাপুর ইতোমধ্যে বাগমারার বিনোদনের নতুন ঠিকানা হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এখনই যদি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে কালিকাপুর শুধু স্থানীয় মানুষের বিনোদনের জায়গা নয়, ভবিষ্যতে বাগমারা তথা রাজশাহীর অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, থানার টহল পার্টি সেখানে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে প্রস্তুত বাগমারা থানা পুলিশ।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগমারার কালিকাপুরে বিনোদনের নতুন ঠিকানা, বিলের ঢেউয়ে মুগ্ধ ভ্রমণপিপাসুরা

আপডেট সময়ঃ ০৬:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শামীম রেজা, বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কাচারি কোয়ালীপাড়া ইউনিয়নের কালিকাপুর এলাকা এখন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে স্থানীয়দের অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদন স্পটে। বিশাল বিলের স্বচ্ছ পানি, ঢেউ খেলানো জলরাশি, ইটের তৈরি ব্লকের বাঁধ, চারপাশের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি আর বিলের বুকে চলাচল করা নৌকা সবকিছু মিলিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে এখানে।

বাগমারার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। বিশেষ করে বিকেল হলেই কালিকাপুরের বাঁধে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আবার কেউবা প্রিয়জনদের নিয়ে সময় কাটাতে আসছেন এই প্রাকৃতিক পরিবেশে।

বিশাল বিলের পশ্চিম পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত বাঁধটি বর্তমানে দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ। বাঁধের ইটের তৈরি ব্লকের ওপর দাঁড়িয়ে কিংবা বসে বিশাল জলরাশির ঢেউ উপভোগ করছেন অনেকে। পানিতে বাতাসের দোলা আর ঢেউয়ের ছন্দের সঙ্গে দিগন্তজোড়া জলরাশি দর্শনার্থীদের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তির অনুভূতি।

বিলের পানিতে থাকা নৌকাও বাড়িয়েছে আকর্ষণ। অনেকেই নৌকায় ঘুরে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। আবার কেউ কেউ বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে নৌকা চলাচল ও বিস্তীর্ণ জলরাশির দৃশ্য উপভোগ করছেন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগ পর্যন্ত পুরো এলাকা পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়।

প্রকৃতির মাঝে গান-বাজনা, জমে উঠছে আড্ডা
কালিকাপুরের এই স্থানটি শুধু ঘোরাঘুরি কিংবা ছবি তোলার জায়গা হিসেবেই নয়, ধীরে ধীরে সংস্কৃতিচর্চার একটি অনানুষ্ঠানিক স্থান হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে। বিভিন্ন সময় সংস্কৃতিকর্মী ও তরুণরা এখানে এসে গান-বাজনায় মেতে উঠছেন। প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে গান, আড্ডা ও আনন্দে মুখর হয়ে উঠছে বিলের পাড়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই এলাকার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এর পরিচিতি দ্রুত বাড়ছে। ফলে প্রতিদিনই নতুন নতুন দর্শনার্থী আসছেন। অনেকের কাছে বাগমারার এই জায়গাটি এখন স্বল্প খরচে প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে সময় কাটানোর অন্যতম পছন্দের স্থান হয়ে উঠেছে।

সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে কিছু ঝুঁকি
তবে সম্ভাবনাময় এই বিনোদন স্পটটিতে দর্শনার্থীদের জন্য কিছু সমস্যাও রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যাতায়াত ব্যবস্থা। বিনোদন স্পটে পৌঁছাতে যে পথটুকু অতিক্রম করতে হয়, তার বড় একটি অংশ এখনো মাটির। ফলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলে কাদামাটি ও পিচ্ছিল হয়ে পড়া রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ভ্রমণপিপাসুদের।

বিশেষ করে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে যাতায়াতের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের জন্য এই মাটির পথ বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, বাড়ছে উদ্বেগ
দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লেও এখনো এই এলাকায় তেমন কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বিশাল বিলের পানির একেবারে পাশে মানুষজনের অবাধ চলাচল থাকায় শিশু-কিশোরদের নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পানিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন এখানে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, যাতায়াত ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি এখনো সেভাবে গুরুত্ব পায়নি। পানির পাশে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, নিরাপত্তাকর্মী, আলোর ব্যবস্থা এবং জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম রাখা প্রয়োজন।

পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠতে পারে পর্যটনকেন্দ্র
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কালিকাপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে জায়গাটিকে পরিকল্পিতভাবে বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যাতায়াতের মাটির রাস্তা উন্নত করা, দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং বিলের পানির পাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জায়গাটির আকর্ষণ আরও বহুগুণ বাড়বে।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, বিশাল বিলের স্বচ্ছ জলরাশি, ঢেউ খেলানো পানি, ইটের তৈরি ব্লকের বাঁধ, নৌকা, সবুজ গাছপালা এবং খোলামেলা পরিবেশ সবকিছু মিলিয়ে কালিকাপুর ইতোমধ্যে বাগমারার বিনোদনের নতুন ঠিকানা হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এখনই যদি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে কালিকাপুর শুধু স্থানীয় মানুষের বিনোদনের জায়গা নয়, ভবিষ্যতে বাগমারা তথা রাজশাহীর অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, থানার টহল পার্টি সেখানে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে প্রস্তুত বাগমারা থানা পুলিশ।