০১:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

বাগমারায় শিশুর ফাঁদে ধরা অতিথি পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করলেন সরকারি কর্মকর্তা

বাগমারা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:২১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১২৭ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাগমারার বড় বিহানালী এলাকায় ফাঁদ পেতে একটি অতিথি পাখি (শামুকখোল) শিকার করে বাড়ি ফিরছিল ১৩ বছর বয়সী এক শিশু। পরিবারের সঙ্গে খাওয়ার উদ্দেশ্যে শিকার করা পাখিটি নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি আর তার কাছে থাকেনি—এক সরকারি কর্মকর্তার মানবিক উদ্যোগে মুক্ত আকাশে ফিরে যায় পাখিটি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সন্ধ্যার আগে বড় বিহানালী স্কুল মাঠ এলাকায় ফাঁদ হাতে ও শিকার করা একটি শামুকখোল নিয়ে ফিরছিল শিশুটি। এসময় ঘটনাটি নজরে আসে খুলনা অঞ্চলে কর্মরত কর পরিদর্শক এমামুল হকের। তিনি শিশুটিকে কাছে ডেকে জানতে চান কীভাবে ও কেন সে পাখিটি ধরেছে।

শিশুটি জানায়, পাখিটি জবাই করে পরিবার নিয়ে খাবে। তবে অতিথি পাখি শিকার করা ঠিক নয়—এমনটি জানালে সে নিজের ভুল বুঝতে পারে। পরে শিশুটি পাখিটি বিক্রি করতে রাজি হলে ৫০০ টাকায় সেটি কিনে নেন এমামুল হক।

এরপরই তিনি মুখ ও পা বাঁধা অবস্থায় থাকা শামুকখোলটি নিয়ে বড় বিহানালী বিলে যান এবং সেখানে পাখিটিকে অবমুক্ত করেন। পাখিটি উড়াল দিলে উপস্থিত সবার মধ্যেই আনন্দের উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।

মুরারী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা কলেজশিক্ষক ফরিদ উদ্দিন বলেন, “শিশুটি ৫০০ টাকা পেয়ে খুশি হয়েছে। কৌতূহল থেকে সে ফাঁদ বানিয়ে পাখিটি ধরেছিল। শীতে বিলে অতিথি পাখি আসে, আর এমামুল হক পাখিটিকে কিনে ছেড়ে দিয়ে সত্যিই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

তবে শিশুটির পরিচয় জানাতে বা সাক্ষাৎ করাতে স্থানীয়রা অস্বীকৃতি জানান। তারা জানান, শিশুটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আর কখনো পাখি ধরবে না।

সরকারি কর্মকর্তা এমামুল হক বলেন, “সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। পাখিটিকে মুক্ত করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। পাখিটির সঙ্গী ছিল না, একাই উড়াল দিল। ডানা মেলে আকাশে উড়ে যেতে দেখার মুহূর্তটি ছিল অবর্ণনীয়।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগমারায় শিশুর ফাঁদে ধরা অতিথি পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করলেন সরকারি কর্মকর্তা

আপডেট সময়ঃ ০৬:২১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

বাগমারা প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাগমারার বড় বিহানালী এলাকায় ফাঁদ পেতে একটি অতিথি পাখি (শামুকখোল) শিকার করে বাড়ি ফিরছিল ১৩ বছর বয়সী এক শিশু। পরিবারের সঙ্গে খাওয়ার উদ্দেশ্যে শিকার করা পাখিটি নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি আর তার কাছে থাকেনি—এক সরকারি কর্মকর্তার মানবিক উদ্যোগে মুক্ত আকাশে ফিরে যায় পাখিটি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সন্ধ্যার আগে বড় বিহানালী স্কুল মাঠ এলাকায় ফাঁদ হাতে ও শিকার করা একটি শামুকখোল নিয়ে ফিরছিল শিশুটি। এসময় ঘটনাটি নজরে আসে খুলনা অঞ্চলে কর্মরত কর পরিদর্শক এমামুল হকের। তিনি শিশুটিকে কাছে ডেকে জানতে চান কীভাবে ও কেন সে পাখিটি ধরেছে।

শিশুটি জানায়, পাখিটি জবাই করে পরিবার নিয়ে খাবে। তবে অতিথি পাখি শিকার করা ঠিক নয়—এমনটি জানালে সে নিজের ভুল বুঝতে পারে। পরে শিশুটি পাখিটি বিক্রি করতে রাজি হলে ৫০০ টাকায় সেটি কিনে নেন এমামুল হক।

এরপরই তিনি মুখ ও পা বাঁধা অবস্থায় থাকা শামুকখোলটি নিয়ে বড় বিহানালী বিলে যান এবং সেখানে পাখিটিকে অবমুক্ত করেন। পাখিটি উড়াল দিলে উপস্থিত সবার মধ্যেই আনন্দের উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।

মুরারী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা কলেজশিক্ষক ফরিদ উদ্দিন বলেন, “শিশুটি ৫০০ টাকা পেয়ে খুশি হয়েছে। কৌতূহল থেকে সে ফাঁদ বানিয়ে পাখিটি ধরেছিল। শীতে বিলে অতিথি পাখি আসে, আর এমামুল হক পাখিটিকে কিনে ছেড়ে দিয়ে সত্যিই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

তবে শিশুটির পরিচয় জানাতে বা সাক্ষাৎ করাতে স্থানীয়রা অস্বীকৃতি জানান। তারা জানান, শিশুটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আর কখনো পাখি ধরবে না।

সরকারি কর্মকর্তা এমামুল হক বলেন, “সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। পাখিটিকে মুক্ত করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। পাখিটির সঙ্গী ছিল না, একাই উড়াল দিল। ডানা মেলে আকাশে উড়ে যেতে দেখার মুহূর্তটি ছিল অবর্ণনীয়।