১০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতের সমন গায়েব করে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

আরিফুজ্জামান রঞ্জু মান্দা প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:১৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১১৩ বার পড়া হয়েছে।

আরিফুজ্জামান রঞ্জু মান্দা প্রতিনিধি :
নওগাঁর মান্দা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলায় আদালতের সমন গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে। সমন না পাওয়ায় নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
উপজেলার রামনগর ও বড়পই গ্রামের দুটি ঘটনায় ভুক্তভোগীরা পুলিশের বিরুদ্ধে ‘সমন বাণিজ্যের’ অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, বাদীপক্ষের লোকজনের সঙ্গে যোগসাজশ করে সমন গোপন রেখে তাঁদের হয়রানি করা হয়েছে। ঘটনাগুলো এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
রামনগর গ্রামের ভুক্তভোগী মিঠু কুমার প্রামাণিক জানান, দুর্গাপূজার দশমীর দিন হরিতলা মণ্ডপে আরতি খেলার সময় প্রতিবেশী দোলন দাসের সঙ্গে শুভ কুমারের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় গতবছরের ১৮ অক্টোবর বিষয়টি মীমাংসা হয়। তবে মীমাংসার প্রায় চার মাস পর গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রতিবন্ধী শুভ কুমার ও তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
মিঠু কুমার প্রামাণিকের অভিযোগ, মান্দা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে আদালতের সমন গায়েব করেছেন। এতে তাঁরা নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হতে না পারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে বড়পই গ্রামের ভুক্তভোগী কামাল হোসেন বলেন, মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ছাড়াই তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে প্রসিকিউশন দেন সহকারী উপপরিদর্শক সোহেল রানা। সমন গোপন রেখে তাঁর বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করানো হয়। পরে গত শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। রোববার তিনি আদালত থেকে জামিন পান। তাঁর অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নওগাঁ জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শাহরিয়ার শিমু বলেন, প্রসিকিউশন মামলায় আদালতের জারি করা সমন পুলিশের মাধ্যমে বিবাদী পক্ষের কাছে পৌঁছানোর কথা। এটি করা না হলে তা হবে বেআইনি। বিষয়টির সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি আদালতে খোঁজখবর নিতে বলে মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে মান্দা থানার সহকারী উপপরিদর্শক সোহেল রানা বলেন, এ বিষয়ে ওসি স্যার সব জানেন। এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।#

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতের সমন গায়েব করে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

আপডেট সময়ঃ ০৬:১৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

আরিফুজ্জামান রঞ্জু মান্দা প্রতিনিধি :
নওগাঁর মান্দা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলায় আদালতের সমন গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে। সমন না পাওয়ায় নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
উপজেলার রামনগর ও বড়পই গ্রামের দুটি ঘটনায় ভুক্তভোগীরা পুলিশের বিরুদ্ধে ‘সমন বাণিজ্যের’ অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, বাদীপক্ষের লোকজনের সঙ্গে যোগসাজশ করে সমন গোপন রেখে তাঁদের হয়রানি করা হয়েছে। ঘটনাগুলো এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
রামনগর গ্রামের ভুক্তভোগী মিঠু কুমার প্রামাণিক জানান, দুর্গাপূজার দশমীর দিন হরিতলা মণ্ডপে আরতি খেলার সময় প্রতিবেশী দোলন দাসের সঙ্গে শুভ কুমারের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় গতবছরের ১৮ অক্টোবর বিষয়টি মীমাংসা হয়। তবে মীমাংসার প্রায় চার মাস পর গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রতিবন্ধী শুভ কুমার ও তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
মিঠু কুমার প্রামাণিকের অভিযোগ, মান্দা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে আদালতের সমন গায়েব করেছেন। এতে তাঁরা নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হতে না পারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে বড়পই গ্রামের ভুক্তভোগী কামাল হোসেন বলেন, মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ছাড়াই তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে প্রসিকিউশন দেন সহকারী উপপরিদর্শক সোহেল রানা। সমন গোপন রেখে তাঁর বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করানো হয়। পরে গত শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। রোববার তিনি আদালত থেকে জামিন পান। তাঁর অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নওগাঁ জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শাহরিয়ার শিমু বলেন, প্রসিকিউশন মামলায় আদালতের জারি করা সমন পুলিশের মাধ্যমে বিবাদী পক্ষের কাছে পৌঁছানোর কথা। এটি করা না হলে তা হবে বেআইনি। বিষয়টির সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি আদালতে খোঁজখবর নিতে বলে মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে মান্দা থানার সহকারী উপপরিদর্শক সোহেল রানা বলেন, এ বিষয়ে ওসি স্যার সব জানেন। এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।#