চারঘাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন পরিবারের বসতবাড়ি পুড়ে ছাই
- আপডেট সময়ঃ ০৮:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
- / ৪৯ বার পড়া হয়েছে।

চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর চারঘাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি পরিবারের বসতবাড়ি ও কাঠের নকশাঁ তৈরির কারখানা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ভোর চারটার দিকে চারঘাট-বাঘা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পৌরসভার আট নং ওয়ার্ড এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত মুক্তার হোসেনের তিন সন্তান মকবুল হোসেন, মোস্তাক হোসেন ও শিশির হোসেনের পাশাপাশি টিনের চালের পাকা বাড়ি। ভোর চারটার শিশির হোসেনের বাড়ির সামনের অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এ সময় সকল পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। চারঘাট-বাঘা সড়ক দিয়ে এ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় ড্রাইভার বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখে গাড়ি থামিয়ে বাড়ির লোকজনকে ডাকাডাকি শুরু করে।
পরে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও ঘরের কোনো জিনিস রক্ষা করতে পারেনি। তিন ভাইয়ের পাশাপাশি থাকা ১৩টি ঘরে আগুন লাগে। ঘরে থাকা আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজসহ ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও নগদ টাকা সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়াও দুইটি দোকান ভাড়া নিয়ে কাঠের নকশাঁ তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছিলেন বাপ্পি ইসলাম নামে একজন ভাড়াটিয়া। তার ১০ লাখ টাকা দামের নকশাঁ তৈরির সিএনসি মেশিন ও সকল কাঠ পুড়ে গেছে।
ভুক্তভোগী শিশির হোসেনের স্ত্রী সীমা খাতুন বলেন,
আমার স্বামী অসুস্থ। এনজিও থেকে খণ নিয়ে ছোট্ট একটা দোকান তৈরি করে সংসারটা চালিয়ে নিচ্ছিলাম। তিল তিল করে গড়ে তোলা আমার পুরো সংসার আগুনে ছাই হয়ে গেছে। আমার এক মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে ও অন্যটা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। তাদের বই-খাতা, স্কুল ড্রেস পর্যন্ত পু্ড়ে গেছে। এখন আমাদের পরনের পোশাক ছাড়া আর কিছুই নেই। সরকার সাহায্যে এগিয়ে না এলে আমাদের পথে বসতে হবে।
চারঘাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা ধারনা করছি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। দেড় ঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আরো ৫০ লাখ টাকার জিনিসপত্র আগুনে পোঁড়ার হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমরা সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাদের বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















