রাজশাহীর দুর্গাপুরে রাস্তা নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়ম
- আপডেট সময়ঃ ১১:০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৩ বার পড়া হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীর দুর্গাপুরে প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকৌশলীর নেপথ্যে মদদে যথাযথ ওয়ার্ক অর্ডার ও তদারকি কর্মকর্তা ছাড়াই সাড়ে ১১ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।সরেজমিন তদন্ত করা হলে রাস্তা নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া যাবে।
প্রশাসনিক অনুমোদন, সংশোধিত কার্যাদেশ (রিভাইজড ওয়ার্ক অর্ডার) এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি কর্মকর্তা (এসও) নিয়োগ ছাড়াই দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কোনো দৃশ্যমান নজরদারি ব্যতিত উপজেলা প্রকৌশলীর নেপথ্যে মদদে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলা মোড় থেকে গগনবাড়িয়া মোড় পর্যন্ত ৭ হাজার ৪৯০ মিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১০ কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার ৩৭৭ টাকা। অন্যদিকে, গুড়খাই থেকে সিরিপুর পর্যন্ত নতুন প্যাকেজের সড়ক নির্মাণে বরাদ্দ এক কোটি ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার ৩৪০ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৬৫০ মিটার আরসিসি ঢালাই কাজের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২ লাখ ৩০ হাজার ৬৮৬ টাকা। এই দুই প্যাকেজে মোট বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা। ঢাকার খিলগাঁওয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং (স্বত্বাধিকারী মোঃ গোলাম মোস্তফা) কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে।
নিয়মানুযায়ী, প্রকল্পের রিভাইজড শিডিউল ও ওয়ার্ক অর্ডার উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পৌঁছানো এবং নিয়মিত তদারকির জন্য সাইট অফিসার (এসও) উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। তবে এগুলোর কোনোটিরই আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা নিয়োগ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাঠপর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের তদারকি না থাকার সুযোগে নিম্নমানের খোয়া, বালু ও সামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। রাস্তার টেকসই হওয়া নিয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। এছাড়া ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী (অতিঃদাঃ) রায়হানুল হক জানান, নতুন রিভাইজড ওয়ার্ক অর্ডার কিংবা এসও নিয়োগের কোনো অফিশিয়াল নথিপত্র এখনো তাঁর কার্যালয়ে পৌঁছেনি। পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এলজিইডি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও তাৎক্ষণিকভাবে রিভাইজড শিডিউল ও এসও নিয়োগের সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। প্রতিবেদকের উপস্থিতিতেই সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, ওয়ার্ক অর্ডার প্রক্রিয়াধীন এবং এসও নিয়োগ এখনো বাকি রয়েছে। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী নিজে দুদিনের মধ্যে সরেজমিন পরিদর্শনের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখানো তিনি এলাকা পরিদর্শন করেননি।
এদিকে কাজের তদারকিতে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মাসুমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন,তবে তিনি তার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার কথা বলেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্মাণ সামগ্রীর মান যাচাই এবং অনিয়ম রোধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদুক) জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



















