০২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তানোরে কীটনাশক দোকানে রহস্যজনক চুরি

আলিফ হোসেন
  • আপডেট সময়ঃ ১০:৫৭:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৮ বার পড়া হয়েছে।

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোর পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজারে একটি সার ও কীটনাশকের দোকানে রহস্যজনক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এদিন দোতলার জানালার গ্রিল ও ভেতরের গোডাউনের তালা কেটে বহুজাতিক কোম্পানি সিনজেনটার বিপুল পরিমাণ মূল্যবান কীটনাশক লুট করেছে। চুরি হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ২৪ লাখ ৫০০ টাকা বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে গোল্লাপাড়া বাজারের মেসার্স ‘ইসলাম ট্রেডার্সে এই চুরির ঘটনা ঘটে। থানা থেকে মাত্র একশ’ গজ দুরে দোকানের অবস্থান। এ ঘটনায় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে তানোর থানায় লিখিত এজাহার করেছেন।
এদিকে এই চুরির ঘটনায় জনমনে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কেউ কেউ এটাকে রহস্যজনক চুরি বলে মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয়রা বলছে,থানা থেকে মাত্র একশ’ গজ দুরে অবস্থিত একটি দোকান থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকার কীটনাশক মালামাল লুট হয়েছে।এখন প্রশ্ন হলো যে দোকান থেকে ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুট হয় সেই দোকানে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার মালামাল থাকবে সেটাই স্বাভাবিক ? আবার রাত্রি ১২টা পর্যন্ত বাজারে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা থাকে।ফলে রাত্রি ১২টার পর যদি চুরি হয় তাহলে ২৫ লাখ টাকার কীটনাশক মালামাল লুট করতে অনেক সময় এবং অনেক মানুষের প্রয়োজন,এছাড়াও ২৫ লাখ টাকার কীটনাশক মালামাল পরিবহন করতে পিকআপ বা বড় ভুটভুটি দরকার ভুটভুটি-পিকআপ ব্যতিত এতো মালামাল কি সরিয়ে নেয়া সম্ভব ?
এসব বিবেচনায় ভুটভুটি-পিকআপ ব্যতিত এতো বিপুল পরিমাণ মালামাল কিভাবে সরিয়ে নিলো সেটা নিয়ে সাধারণের মনে প্রশ্ন উঠাও স্বাভাবিক। আবার এতোগুলা মালামাল লুট হলো আর বাজারের নৈশপ্রহরীরা টের পেলো না এটাও নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে।কারণ ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুট এটা চুরি নয় ডাকাতি। এছাড়াও দোতলার গ্রীল কেটে ২৫ লাখ টাকার কীটনাশক মালামাল চুরি করা কতটা সম্ভব ? আবার পাশের দোতলায় মানুষ ভাড়া থাকে ইত্যাদি এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অধিকতর তদন্ত করা হলে চুরির প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দোকান মালিক শাটার বন্ধ করে তালা লাগিয়ে বাসায় চলে যান। পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাঁর বাবা দোকান খুলতে এসে দোতলার জানালার গ্রিল এবং ভেতরের গোডাউনের তালা কাটা অবস্থায় দেখতে পান। পরে গুদামে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত উচ্চমূল্যের সিনজেনটা কোম্পানির ইনসিপিও ৮০ মিলিলিটারের ৮১ কার্টন, ইনসিপিও ১০০ মিলিলিটারের ৫৪ কার্টন এবং এমিস্টার টপ ২০ মিলিলিটারের ২০ কার্টন কীটনাশক নিয়ে গেছে চোরেরা।
এবিষয়ে গোল্লাপাড়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান জানান, বাজারে নাইট গার্ডদের নিয়মিত পাহারা চলা অবস্থাতেই চোরচক্র দোকানের পেছনের অংশে দোতলার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। রাত আনুমানিক ২টার দিকে সিনজেনটা কোম্পানির সবচেয়ে দামি কীটনাশকের কার্টনগুলো একটি চার্জার ভ্যানে তুলে মূল সড়ক দিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোরে কীটনাশক দোকানে রহস্যজনক চুরি

আপডেট সময়ঃ ১০:৫৭:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোর পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজারে একটি সার ও কীটনাশকের দোকানে রহস্যজনক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এদিন দোতলার জানালার গ্রিল ও ভেতরের গোডাউনের তালা কেটে বহুজাতিক কোম্পানি সিনজেনটার বিপুল পরিমাণ মূল্যবান কীটনাশক লুট করেছে। চুরি হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ২৪ লাখ ৫০০ টাকা বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে গোল্লাপাড়া বাজারের মেসার্স ‘ইসলাম ট্রেডার্সে এই চুরির ঘটনা ঘটে। থানা থেকে মাত্র একশ’ গজ দুরে দোকানের অবস্থান। এ ঘটনায় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে তানোর থানায় লিখিত এজাহার করেছেন।
এদিকে এই চুরির ঘটনায় জনমনে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কেউ কেউ এটাকে রহস্যজনক চুরি বলে মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয়রা বলছে,থানা থেকে মাত্র একশ’ গজ দুরে অবস্থিত একটি দোকান থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকার কীটনাশক মালামাল লুট হয়েছে।এখন প্রশ্ন হলো যে দোকান থেকে ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুট হয় সেই দোকানে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার মালামাল থাকবে সেটাই স্বাভাবিক ? আবার রাত্রি ১২টা পর্যন্ত বাজারে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা থাকে।ফলে রাত্রি ১২টার পর যদি চুরি হয় তাহলে ২৫ লাখ টাকার কীটনাশক মালামাল লুট করতে অনেক সময় এবং অনেক মানুষের প্রয়োজন,এছাড়াও ২৫ লাখ টাকার কীটনাশক মালামাল পরিবহন করতে পিকআপ বা বড় ভুটভুটি দরকার ভুটভুটি-পিকআপ ব্যতিত এতো মালামাল কি সরিয়ে নেয়া সম্ভব ?
এসব বিবেচনায় ভুটভুটি-পিকআপ ব্যতিত এতো বিপুল পরিমাণ মালামাল কিভাবে সরিয়ে নিলো সেটা নিয়ে সাধারণের মনে প্রশ্ন উঠাও স্বাভাবিক। আবার এতোগুলা মালামাল লুট হলো আর বাজারের নৈশপ্রহরীরা টের পেলো না এটাও নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে।কারণ ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুট এটা চুরি নয় ডাকাতি। এছাড়াও দোতলার গ্রীল কেটে ২৫ লাখ টাকার কীটনাশক মালামাল চুরি করা কতটা সম্ভব ? আবার পাশের দোতলায় মানুষ ভাড়া থাকে ইত্যাদি এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অধিকতর তদন্ত করা হলে চুরির প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দোকান মালিক শাটার বন্ধ করে তালা লাগিয়ে বাসায় চলে যান। পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাঁর বাবা দোকান খুলতে এসে দোতলার জানালার গ্রিল এবং ভেতরের গোডাউনের তালা কাটা অবস্থায় দেখতে পান। পরে গুদামে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত উচ্চমূল্যের সিনজেনটা কোম্পানির ইনসিপিও ৮০ মিলিলিটারের ৮১ কার্টন, ইনসিপিও ১০০ মিলিলিটারের ৫৪ কার্টন এবং এমিস্টার টপ ২০ মিলিলিটারের ২০ কার্টন কীটনাশক নিয়ে গেছে চোরেরা।
এবিষয়ে গোল্লাপাড়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান জানান, বাজারে নাইট গার্ডদের নিয়মিত পাহারা চলা অবস্থাতেই চোরচক্র দোকানের পেছনের অংশে দোতলার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। রাত আনুমানিক ২টার দিকে সিনজেনটা কোম্পানির সবচেয়ে দামি কীটনাশকের কার্টনগুলো একটি চার্জার ভ্যানে তুলে মূল সড়ক দিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।