০৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটায় ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা

আবু বাক্কার সৈকত, রাবিঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৫৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৪৬ বার পড়া হয়েছে।

আবু বাক্কার সৈকত, রাবিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটায় ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার দিনগত রাত ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতেতে বলা হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতিতে রোববার জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়েছে।

এর আগে, পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন কিছু শিক্ষার্থী। কোটা বাতিলের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আমরণ অনশনে নামেন ৭-৮ জন শিক্ষার্থী। এতে অসুস্থ হন দুজন।

প্রশাসনের নির্বিকার অবস্থান মেনে নিতে না পেরে শনিবার উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল ইসলাম মাসউদ, প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান ও জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারসহ আরও অনেককে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে তারা শিক্ষকদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান।

এতে উপ-উপাচার্য, একজন উপ-রেজিস্ট্রার, রাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শুভ ও সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মারসহ ৭-৮ জন আহত হন।

হাতাহাতির একপর্যায়ে উপ-উপাচার্য জুবেরী ভবনের দ্বিতীয় তলায় চলে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সেখানে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত হন। তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সেখানে জড়ো হতে থাকেন। শিক্ষার্থীরা জুবেরী ভবনের ভেতরে স্লোগান দিতে থাকেন। কিছু শিক্ষার্থী দোতলায় উঠে কয়েকটি ঘরের জানালা ভাঙচুর করেন।

পরে রাত ১০টার দিকে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলীম এক ঘোষণায় বলেন, আগামীকাল (রোববার) শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন।

এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ফুঁসে ওঠেন আন্দোলনকারীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মধ্যরাতে ১৭টি হল থেকে একযোগে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আন্দোলন শুরু করেন তারা। তাদের আন্দোলনের মুখে রাত ১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে পোষ্য কোটায় ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা আসে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটায় ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা

আপডেট সময়ঃ ০২:৫৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আবু বাক্কার সৈকত, রাবিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটায় ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার দিনগত রাত ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতেতে বলা হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতিতে রোববার জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়েছে।

এর আগে, পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন কিছু শিক্ষার্থী। কোটা বাতিলের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আমরণ অনশনে নামেন ৭-৮ জন শিক্ষার্থী। এতে অসুস্থ হন দুজন।

প্রশাসনের নির্বিকার অবস্থান মেনে নিতে না পেরে শনিবার উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল ইসলাম মাসউদ, প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান ও জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারসহ আরও অনেককে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে তারা শিক্ষকদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান।

এতে উপ-উপাচার্য, একজন উপ-রেজিস্ট্রার, রাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শুভ ও সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মারসহ ৭-৮ জন আহত হন।

হাতাহাতির একপর্যায়ে উপ-উপাচার্য জুবেরী ভবনের দ্বিতীয় তলায় চলে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সেখানে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত হন। তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সেখানে জড়ো হতে থাকেন। শিক্ষার্থীরা জুবেরী ভবনের ভেতরে স্লোগান দিতে থাকেন। কিছু শিক্ষার্থী দোতলায় উঠে কয়েকটি ঘরের জানালা ভাঙচুর করেন।

পরে রাত ১০টার দিকে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলীম এক ঘোষণায় বলেন, আগামীকাল (রোববার) শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন।

এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ফুঁসে ওঠেন আন্দোলনকারীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মধ্যরাতে ১৭টি হল থেকে একযোগে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আন্দোলন শুরু করেন তারা। তাদের আন্দোলনের মুখে রাত ১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে পোষ্য কোটায় ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা আসে।