০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বাগমারায় আইন-শৃঙ্খলায় দৃশ্যমান উন্নতি: যোগদানের এক মাসেই আলোচনায় ওসি জিল্লুর রহমান

শামীম রেজা
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন নবনিযুক্ত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাঁর কার্যকর পদক্ষেপে অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ৩০ মার্চ বাগমারা থানায় যোগদানের পর থেকেই তিনি অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং চুরি-ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে জোরালো ভূমিকা পালন করছেন। এপ্রিল ২০২৬ মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ৪০টি মামলা রুজু হয়েছে এবং সবগুলো মামলাই নিষ্পত্তির আওতায় আনা হয়েছে।

মামলাগুলোর মধ্যে ধর্ষণ-১টি (এজাহারনামীয় আসামি ২ জন, গ্রেফতার হয়নি), নারী ও শিশু নির্যাতন-৩টি, চুরি-১টি (১ জন গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধার), মানবপাচার-৬টি (৯ জন এজাহারনামীয় আসামির মধ্যে ৮/১০ জন আটক, ৭ জন গ্রেফতার এবং ভিকটিম উদ্ধার) এবং অপহরণ-২টি (৫ জন এজাহারনামীয় আসামির মধ্যে ২ জন গ্রেফতার ও ৭ জন ভিকটিম উদ্ধার) উল্লেখযোগ্য।

মাদকবিরোধী অভিযানে থানার পুলিশ ৩টি মামলা দায়ের করে ২ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় প্রায় ২০৫ গ্রাম গাঁজা এবং ১৫৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য অপরাধে ২৪টি মামলা হয়েছে।

অভিযান ও তদারকির পাশাপাশি ওয়ারেন্ট তামিল কার্যক্রমেও এসেছে গতি। সর্বমোট ১১৮টি ওয়ারেন্ট তামিল করা হয়েছে। এর মধ্যে জিআর মামলায় ৫২টি ও সিআর মামলায় ৬৬টি। ওয়ারেন্ট তামিলের অংশ হিসেবে ৮৪ জন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিআর নরমাল ২৫টি (খারিজ ১৬টি), সিআর নরমাল ৬৮টি (খারিজ ৫৯টি), জিআর সাজা ৭টি (খারিজ ২টি) এবং সিআর সাজা ১৮টি (খারিজ ৭টি) নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

প্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষ ওসি জিল্লুর রহমান আধুনিক পদ্ধতিতে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করায় জটিল মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে। নিয়মিত টহল, সিসিটিভি মনিটরিং এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আগের তুলনায় এখন রাতের পরিবেশ অনেক বেশি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ। পুলিশের তৎপরতায় অপরাধ প্রবণতা কমেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্বল্প সময়েই দক্ষতা, আন্তরিকতা ও কার্যকর নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। অপরাধ দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। সকলের সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ বাগমারা গড়ে তুলতে চাই।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগমারায় আইন-শৃঙ্খলায় দৃশ্যমান উন্নতি: যোগদানের এক মাসেই আলোচনায় ওসি জিল্লুর রহমান

আপডেট সময়ঃ ০৬:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন নবনিযুক্ত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাঁর কার্যকর পদক্ষেপে অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ৩০ মার্চ বাগমারা থানায় যোগদানের পর থেকেই তিনি অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং চুরি-ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে জোরালো ভূমিকা পালন করছেন। এপ্রিল ২০২৬ মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ৪০টি মামলা রুজু হয়েছে এবং সবগুলো মামলাই নিষ্পত্তির আওতায় আনা হয়েছে।

মামলাগুলোর মধ্যে ধর্ষণ-১টি (এজাহারনামীয় আসামি ২ জন, গ্রেফতার হয়নি), নারী ও শিশু নির্যাতন-৩টি, চুরি-১টি (১ জন গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধার), মানবপাচার-৬টি (৯ জন এজাহারনামীয় আসামির মধ্যে ৮/১০ জন আটক, ৭ জন গ্রেফতার এবং ভিকটিম উদ্ধার) এবং অপহরণ-২টি (৫ জন এজাহারনামীয় আসামির মধ্যে ২ জন গ্রেফতার ও ৭ জন ভিকটিম উদ্ধার) উল্লেখযোগ্য।

মাদকবিরোধী অভিযানে থানার পুলিশ ৩টি মামলা দায়ের করে ২ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় প্রায় ২০৫ গ্রাম গাঁজা এবং ১৫৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য অপরাধে ২৪টি মামলা হয়েছে।

অভিযান ও তদারকির পাশাপাশি ওয়ারেন্ট তামিল কার্যক্রমেও এসেছে গতি। সর্বমোট ১১৮টি ওয়ারেন্ট তামিল করা হয়েছে। এর মধ্যে জিআর মামলায় ৫২টি ও সিআর মামলায় ৬৬টি। ওয়ারেন্ট তামিলের অংশ হিসেবে ৮৪ জন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিআর নরমাল ২৫টি (খারিজ ১৬টি), সিআর নরমাল ৬৮টি (খারিজ ৫৯টি), জিআর সাজা ৭টি (খারিজ ২টি) এবং সিআর সাজা ১৮টি (খারিজ ৭টি) নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

প্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষ ওসি জিল্লুর রহমান আধুনিক পদ্ধতিতে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করায় জটিল মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে। নিয়মিত টহল, সিসিটিভি মনিটরিং এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আগের তুলনায় এখন রাতের পরিবেশ অনেক বেশি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ। পুলিশের তৎপরতায় অপরাধ প্রবণতা কমেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্বল্প সময়েই দক্ষতা, আন্তরিকতা ও কার্যকর নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। অপরাধ দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। সকলের সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ বাগমারা গড়ে তুলতে চাই।