০২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আসন্ন বাঘা উপজেলা নির্বাচন: নতুন সমীকরণে আলোচনার কেন্দ্রে স্বজন

শাহিনুর রহমান সুজন:
  • আপডেট সময়ঃ ০২:১১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ০ বার পড়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন স্থানীয় তরুণ, যুবক ও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ চেয়ারম্যান পদে রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান স্বজনকে দেখতে চান,এমন আলোচনা এখন উপজেলাজুড়ে জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে স্বজনের প্রতি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, সংগঠন পরিচালনায় দক্ষতা এবং স্থানীয় সমস্যায় সরাসরি অংশগ্রহণ,এসব কারণে তিনি অনেক ভোটারের নজরে এসেছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে,পরিবর্তনের প্রত্যাশায় তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন। তাদের মতে, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক উপজেলা প্রশাসন গড়ে তুলতে অভিজ্ঞ, শিক্ষিত ও সংগঠিত নেতৃত্ব অপরিহার্য।

তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থিতা ঘোষণা ও দলীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী তালিকা নির্ধারণ ও প্রচারণা শুরু হলে নির্বাচনী মাঠের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, বাঘা উপজেলার প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন আড়ানীর কৃতি সন্তান মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ, যিনি ১৯৮৫ সালে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় পর আবারও আড়ানী থেকে নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। আলোচনায় থাকা মাসুদুর রহমান স্বজনও আড়ানীর সন্তান এবং আড়ানী মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক গণিত শিক্ষক আনিসুর রহমানের পুত্র।

ভৌগোলিকভাবে বাঘা উপজেলার অবস্থান ২৪.১৯১৭° উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮.৮৩৩৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। প্রায় ১৮৫.১৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলায় প্রায় ৪৬ হাজার ৭১১টি পরিবার বসবাস করে।
উপজেলার সীমানা,
উত্তরে চারঘাট ও বাগাতিপাড়া উপজেলা, পূর্বে লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা, দক্ষিণে দৌলতপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গি এলাকা।

প্রশাসনিক কাঠামোয় বাঘা উপজেলা ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত। পৌরসভা দুটি হলো,আড়ানী ও বাঘা পৌরসভা। ইউনিয়নগুলো হলো,আড়ানী, বাজুবাঘা, বাউসা, গারগাড়ি, মনিগ্রাম, পাকুরিয়া ও চকরাজাপুর। উপজেলাটিতে মোট ৯৯টি মৌজা ও ৭৮টি গ্রাম রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনকে ঘিরে বাঘা উপজেলার রাজনৈতিক পরিবেশে এখন উৎসবমুখর আমেজ বিরাজ করছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের আগ্রহ, নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে আলোচনা এবারের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এদিকে, উপজেলার শিক্ষিত সমাজ, স্কুল-কলেজের শিক্ষকসহ সচেতন নাগরিকদের অনেকেই সৎ, যোগ্য ও শিক্ষিত নেতৃত্বের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মাসুদুর রহমান স্বজনের মতো প্রার্থীকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলে মত দিয়েছেন।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আসন্ন বাঘা উপজেলা নির্বাচন: নতুন সমীকরণে আলোচনার কেন্দ্রে স্বজন

আপডেট সময়ঃ ০২:১১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন স্থানীয় তরুণ, যুবক ও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ চেয়ারম্যান পদে রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান স্বজনকে দেখতে চান,এমন আলোচনা এখন উপজেলাজুড়ে জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে স্বজনের প্রতি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, সংগঠন পরিচালনায় দক্ষতা এবং স্থানীয় সমস্যায় সরাসরি অংশগ্রহণ,এসব কারণে তিনি অনেক ভোটারের নজরে এসেছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে,পরিবর্তনের প্রত্যাশায় তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন। তাদের মতে, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক উপজেলা প্রশাসন গড়ে তুলতে অভিজ্ঞ, শিক্ষিত ও সংগঠিত নেতৃত্ব অপরিহার্য।

তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থিতা ঘোষণা ও দলীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী তালিকা নির্ধারণ ও প্রচারণা শুরু হলে নির্বাচনী মাঠের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, বাঘা উপজেলার প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন আড়ানীর কৃতি সন্তান মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ, যিনি ১৯৮৫ সালে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় পর আবারও আড়ানী থেকে নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। আলোচনায় থাকা মাসুদুর রহমান স্বজনও আড়ানীর সন্তান এবং আড়ানী মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক গণিত শিক্ষক আনিসুর রহমানের পুত্র।

ভৌগোলিকভাবে বাঘা উপজেলার অবস্থান ২৪.১৯১৭° উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮.৮৩৩৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। প্রায় ১৮৫.১৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলায় প্রায় ৪৬ হাজার ৭১১টি পরিবার বসবাস করে।
উপজেলার সীমানা,
উত্তরে চারঘাট ও বাগাতিপাড়া উপজেলা, পূর্বে লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা, দক্ষিণে দৌলতপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গি এলাকা।

প্রশাসনিক কাঠামোয় বাঘা উপজেলা ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত। পৌরসভা দুটি হলো,আড়ানী ও বাঘা পৌরসভা। ইউনিয়নগুলো হলো,আড়ানী, বাজুবাঘা, বাউসা, গারগাড়ি, মনিগ্রাম, পাকুরিয়া ও চকরাজাপুর। উপজেলাটিতে মোট ৯৯টি মৌজা ও ৭৮টি গ্রাম রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনকে ঘিরে বাঘা উপজেলার রাজনৈতিক পরিবেশে এখন উৎসবমুখর আমেজ বিরাজ করছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের আগ্রহ, নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে আলোচনা এবারের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এদিকে, উপজেলার শিক্ষিত সমাজ, স্কুল-কলেজের শিক্ষকসহ সচেতন নাগরিকদের অনেকেই সৎ, যোগ্য ও শিক্ষিত নেতৃত্বের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মাসুদুর রহমান স্বজনের মতো প্রার্থীকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলে মত দিয়েছেন।