বাগমারায় সংরক্ষিত নারী এমপির ডিও লেটার প্রত্যাখ্যান করে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময়ঃ ০৩:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার সাঁকোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে একজনকে মনোনয়নের জন্য সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের দেওয়া ডিও লেটার প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শিকদার বাজারে সাঁকোয়া শিকদারী এলাকার সচেতন এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি রাজশাহী অঞ্চলের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা সাঁকোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে শিকদারী এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেনকে মনোনয়নের জন্য একটি ডিও লেটার প্রদান করেন।
এ সময় বক্তারা দাবি করেন, ইকবাল হোসেন বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম আব্দুস সোবাহান চৌধুরীর ভাতিজা। এছাড়া তিনি ঝিকরা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ফৌজদারের শ্যালক। তাদের দাবি, স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনে তিনি তাদের পক্ষে কাজ করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিকদারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও চাকরির কারণে ইকবাল হোসেন দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে নওগাঁর রানীনগরে বসবাস করছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে সেখানেই তার স্থায়ী বসবাস এবং তিনি বর্তমানে রানীনগরে শিক্ষকতা করছেন। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন এলাকায় বসবাস না করা একজন ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনয়নের জন্য ডিও লেটার দেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিদ্যালয়ের স্বার্থে স্থানীয় ও এলাকার হিতৈষী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হোক। দীর্ঘ ২৬ বছর এলাকায় বসবাস করেন না—এমন একজন ব্যক্তিকে কীভাবে ডিও লেটার দেওয়া হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
তারা আরও বলেন, বিএনপির বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগ পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা একজন ব্যক্তিকে কেন সভাপতি পদে মনোনয়নের জন্য ডিও লেটার দেওয়া হলো, সে বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা ওই ডিও লেটার কার্যকর না করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে সাঁকোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ইকবাল হোসেন ডিও লেটারটি প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়েছেন। তবে তাকেই সভাপতি করতে হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ইকবাল হোসেন বলেন, আমার স্থানীয় এলাকা শিকদারী। চাকরির কারণে আমি রানীনগর এলাকায় থাকি। আমি বাগমারার ভোটার এবং বর্তমানে রানীনগরে শিক্ষকতা করছি। প্রায় ২৬ বছর ধরে চাকরির সুবাদে সেখানে অবস্থান করছি। দূরে থাকলেও এতে কোনো সমস্যা নেই। আমাকে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে, আমি সেটি প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দুলাল উদ্দিন মেম্বার, রেজাউল হক, নজরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, দুলাল প্রামানিক, সাইদ আলী, আব্দুর রশিদ, রফিকুল ইসলাম, টুকু, জিয়াউর রহমান, শাহাজান আলী, ফজেল ইসলাম, আব্দুস সাত্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


















