০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

তানোরে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা 

আলিফ হোসেন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:১০:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১১১ বার পড়া হয়েছে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর তানোরের নারায়নপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের আলোচিত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলী ওরফে আলার নির্দেশে বিদ্যালয় মোড়ের ১৭টি দোকানে ভাঙচুর ও উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (২০আগস্ট) দুপুরে
প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের নির্দেশ ও তার আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগীতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসব দোকান ভাঙচুর করেছে।এতে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে ১৭টি পরিবার পথে বসেছে।সরকার যখন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে মরিয়া,তখন সরকারি দলের লেবাস পরে মানুষকে কর্মহীন করায় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী রুবেল ইসলাম বাদি হয়ে আলাউদ্দিনসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামি করে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, রুবেল একজন ডিম ব্যবসায়ী, নারায়নপুর স্কুল মোড়ে দোকানের পজিশন কিনে প্রায় ৫ বছর যাবৎ ডিম ব্যবসা করে আসছেন। বৃহস্পতিবার (২০আগস্ট) দুপুরে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের নির্দেশে তার আত্মীয়-স্বজন দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দোকান ভাঙচুর শুরু করে।এসময় রুবেল বাধা দিতে প্রধান শিক্ষক তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেস্টা ও দোকানের ক্যাশ ড্রয়ার থেকে ব্যবসার নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও দোকান ভাঙচুরে তার আরো প্রায় এক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে,বিগত ১৯৮৪ সাল থেকে নারায়নপুর গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে রাস্তার ধারের সরকারি জায়গায় দোকান করে ব্যবসা শুরু করে এসব ব্যবসায়ীরা। আর ৯০ দশকে নারায়নপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়।এর পর থেকেই ওই জায়গার নাম হয় স্কুল মোড়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক কোনো কাগজপত্র ছাড়াই এসব জায়গা স্কুলের দাবি করে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করে আসছে।
সম্প্রতি, স্কুল পরিচালনা কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তিনি তিন দিনের মধ্যে ব্যবসায়ীদের দোকান গুটিয়ে নেয়ার নোটিশ দেন। এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাঙচুর শুরু করেন।
তালন্দ ইউপির সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) আইয়ুব আলী বলেন, নারায়নপুর মৌজায়, খতিয়ান নম্বর-১৫, দাগ নম্বর ১৯৫৪, পরিমান ৪ দশমিক ৩৮ একর সম্পত্তির মালিক আরজান বিবি, রহিম বক্স মন্ডল, আলিম বক্স মন্ডল, রাবেয়া খাতুন, হাজেরা খাতুন ও ছবিজান বেওয়া। এসব সম্পত্তির মধ্যে ২ দশমিক ১৯ একর সম্পত্তিতে স্কুল করা হয়েছে।কিন্ত্ত তারা কেউ এসব সম্পত্তি স্কুলের নামে রেজিষ্ট্রি দেননি।তিনি বলেন,জালিয়াতির মাধ্যমে এসব সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে সেখানে স্কুল করা হয়েছে। তিনি বলেন,স্কুলের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করলেই জালিয়াতির প্রমাণ মিলবে।
ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক  ও রুবেল বলেন, আমরা বার বার বলেছি কাগজপত্রে স্কুলের জায়গা হলে আমরা স্বেচ্ছায় চলে যাবো।কিন্ত্ত হেড মাস্টার কখানোই কাগজ দেখায় না আবার জমি মাপজোক করে না। তারা বলেন, ১৫ নম্বর খতিয়ানের ১৯৫৩ নম্বর দাগ রাস্তার জায়গা এসব জায়গার উপর দোকান রয়েছে।এসব জায়গা স্কুলের হয় কি করে ?
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাঈমা খাঁন বলেন, প্রধান শিক্ষক এবিষয়ে তাকে কিছুই জানায়নি।তিনি বলেন, এবিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করায় প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে তানোর থানার ডিউটি অফিসার বলেন,অভিযোগ হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোরে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা 

আপডেট সময়ঃ ০৬:১০:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর তানোরের নারায়নপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের আলোচিত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলী ওরফে আলার নির্দেশে বিদ্যালয় মোড়ের ১৭টি দোকানে ভাঙচুর ও উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (২০আগস্ট) দুপুরে
প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের নির্দেশ ও তার আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগীতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসব দোকান ভাঙচুর করেছে।এতে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে ১৭টি পরিবার পথে বসেছে।সরকার যখন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে মরিয়া,তখন সরকারি দলের লেবাস পরে মানুষকে কর্মহীন করায় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী রুবেল ইসলাম বাদি হয়ে আলাউদ্দিনসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামি করে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, রুবেল একজন ডিম ব্যবসায়ী, নারায়নপুর স্কুল মোড়ে দোকানের পজিশন কিনে প্রায় ৫ বছর যাবৎ ডিম ব্যবসা করে আসছেন। বৃহস্পতিবার (২০আগস্ট) দুপুরে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের নির্দেশে তার আত্মীয়-স্বজন দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দোকান ভাঙচুর শুরু করে।এসময় রুবেল বাধা দিতে প্রধান শিক্ষক তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেস্টা ও দোকানের ক্যাশ ড্রয়ার থেকে ব্যবসার নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও দোকান ভাঙচুরে তার আরো প্রায় এক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে,বিগত ১৯৮৪ সাল থেকে নারায়নপুর গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে রাস্তার ধারের সরকারি জায়গায় দোকান করে ব্যবসা শুরু করে এসব ব্যবসায়ীরা। আর ৯০ দশকে নারায়নপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়।এর পর থেকেই ওই জায়গার নাম হয় স্কুল মোড়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক কোনো কাগজপত্র ছাড়াই এসব জায়গা স্কুলের দাবি করে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করে আসছে।
সম্প্রতি, স্কুল পরিচালনা কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তিনি তিন দিনের মধ্যে ব্যবসায়ীদের দোকান গুটিয়ে নেয়ার নোটিশ দেন। এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাঙচুর শুরু করেন।
তালন্দ ইউপির সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) আইয়ুব আলী বলেন, নারায়নপুর মৌজায়, খতিয়ান নম্বর-১৫, দাগ নম্বর ১৯৫৪, পরিমান ৪ দশমিক ৩৮ একর সম্পত্তির মালিক আরজান বিবি, রহিম বক্স মন্ডল, আলিম বক্স মন্ডল, রাবেয়া খাতুন, হাজেরা খাতুন ও ছবিজান বেওয়া। এসব সম্পত্তির মধ্যে ২ দশমিক ১৯ একর সম্পত্তিতে স্কুল করা হয়েছে।কিন্ত্ত তারা কেউ এসব সম্পত্তি স্কুলের নামে রেজিষ্ট্রি দেননি।তিনি বলেন,জালিয়াতির মাধ্যমে এসব সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে সেখানে স্কুল করা হয়েছে। তিনি বলেন,স্কুলের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করলেই জালিয়াতির প্রমাণ মিলবে।
ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক  ও রুবেল বলেন, আমরা বার বার বলেছি কাগজপত্রে স্কুলের জায়গা হলে আমরা স্বেচ্ছায় চলে যাবো।কিন্ত্ত হেড মাস্টার কখানোই কাগজ দেখায় না আবার জমি মাপজোক করে না। তারা বলেন, ১৫ নম্বর খতিয়ানের ১৯৫৩ নম্বর দাগ রাস্তার জায়গা এসব জায়গার উপর দোকান রয়েছে।এসব জায়গা স্কুলের হয় কি করে ?
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাঈমা খাঁন বলেন, প্রধান শিক্ষক এবিষয়ে তাকে কিছুই জানায়নি।তিনি বলেন, এবিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করায় প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে তানোর থানার ডিউটি অফিসার বলেন,অভিযোগ হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।