১০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

দাম না থাকায় লোকসানে রাজশাহীর পানচাষিরা

মোঃ নাসিরউদ্দিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৯ বার পড়া হয়েছে।

 

মোঃ নাসিরউদ্দিন সটাফ রিপোর্টার

বরজে পান পেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম, অথচ বাজারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। সার, কীটনাশক, খৈল, সেচ, শ্রমিকের মজুরি ও বরজ তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও রাজশাহীর হাটে পানের দর কমেছে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলে আনতে না পেরে চরম লোকসানে পড়েছেন জেলার পানচাষিরা।
রাজশাহীর মিষ্টি পানের কদর রয়েছে দেশ-বিদেশে। এ পান জিআই স্বীকৃতিও পেয়েছে। জেলার অন্যতম বৃহৎ পান বিক্রয়কেন্দ্র মোহনপুরের মৌগাছি হাটে গিয়ে চাষিদের এমন দুর্দশার চিত্র দেখা গেছে।
মোহনপুরের পানচাষি মশিউর রহমান জানান, এক বিঘা জমিতে বরজ তৈরি ও চারা রোপণ করতেই প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়। বছরজুড়ে পরিচর্যায় আরও প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়। অর্থাৎ বছরে মোট প্রায় দুই লাখ টাকা খরচের বিপরীতে এক লাখ টাকার পান বিক্রি করাও এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঁশসহ বরজ তৈরির উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বিড়া পানের দাম অন্তত ৮০ টাকা হলে ভালো হতো বলে জানান তিনি।
মোহনপুরের ত্রিমোহনী এলাকার চাষি মো. রমজান আলী বলেন, ১০ কাঠা জমিতে পান চাষ করেছেন। বরজ পরিচর্যায় বছরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। খৈল, সার, কীটনাশক ও সেচে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়। অথচ হাটে প্রতি বিড়া পানের দাম বলা হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা। তাঁর ভাষ্য, প্রতি বিড়া অন্তত ৫০ টাকা না পেলে টিকে থাকা কঠিন।
মোহনপুরের কেশরহাটের পানচাষি তমেজ উদ্দিন বলেন, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ সব খাতেই খরচ বেড়েছে। কিন্তু হাটে সেই তুলনায় বাড়েনি পানের দাম। বর্তমানে ছোট আকারের পান মানভেদে প্রতি বিড়া ১০ থেকে ২৫ টাকা এবং বড় আকারের পান ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় এ দাম অনেক কম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী রহমত শেখ বলেন, পানের দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে এবং কমলে দাম বাড়ে। বর্ষাকালে উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কম থাকে। তিনি বলেন, তারা যে বাজারে পান নিয়ে বিক্রি করেন, সেখানেও দাম কম। ফলে চাষিদের কাছ থেকে কম দামে পান কিনতে হচ্ছে। শীতকালে পানের দাম কিছুটা কম থাকে বলেও জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক পাপিয়া রহমান মৌরী বলেন, চলতি বছর রাজশাহী জেলায় ৫ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে পান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ হাজার ৮২৫ মেট্রিক টন। গত বছর জেলার নয়টি উপজেলায় ৪ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৭৯ হাজার ৬৮১ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, পান রপ্তানির উপযোগী করা এবং চাষিরা যাতে ভালো দাম পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দাম না থাকায় লোকসানে রাজশাহীর পানচাষিরা

আপডেট সময়ঃ ০৯:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

 

মোঃ নাসিরউদ্দিন সটাফ রিপোর্টার

বরজে পান পেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম, অথচ বাজারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। সার, কীটনাশক, খৈল, সেচ, শ্রমিকের মজুরি ও বরজ তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও রাজশাহীর হাটে পানের দর কমেছে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলে আনতে না পেরে চরম লোকসানে পড়েছেন জেলার পানচাষিরা।
রাজশাহীর মিষ্টি পানের কদর রয়েছে দেশ-বিদেশে। এ পান জিআই স্বীকৃতিও পেয়েছে। জেলার অন্যতম বৃহৎ পান বিক্রয়কেন্দ্র মোহনপুরের মৌগাছি হাটে গিয়ে চাষিদের এমন দুর্দশার চিত্র দেখা গেছে।
মোহনপুরের পানচাষি মশিউর রহমান জানান, এক বিঘা জমিতে বরজ তৈরি ও চারা রোপণ করতেই প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়। বছরজুড়ে পরিচর্যায় আরও প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়। অর্থাৎ বছরে মোট প্রায় দুই লাখ টাকা খরচের বিপরীতে এক লাখ টাকার পান বিক্রি করাও এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঁশসহ বরজ তৈরির উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বিড়া পানের দাম অন্তত ৮০ টাকা হলে ভালো হতো বলে জানান তিনি।
মোহনপুরের ত্রিমোহনী এলাকার চাষি মো. রমজান আলী বলেন, ১০ কাঠা জমিতে পান চাষ করেছেন। বরজ পরিচর্যায় বছরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। খৈল, সার, কীটনাশক ও সেচে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়। অথচ হাটে প্রতি বিড়া পানের দাম বলা হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা। তাঁর ভাষ্য, প্রতি বিড়া অন্তত ৫০ টাকা না পেলে টিকে থাকা কঠিন।
মোহনপুরের কেশরহাটের পানচাষি তমেজ উদ্দিন বলেন, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ সব খাতেই খরচ বেড়েছে। কিন্তু হাটে সেই তুলনায় বাড়েনি পানের দাম। বর্তমানে ছোট আকারের পান মানভেদে প্রতি বিড়া ১০ থেকে ২৫ টাকা এবং বড় আকারের পান ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় এ দাম অনেক কম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী রহমত শেখ বলেন, পানের দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে এবং কমলে দাম বাড়ে। বর্ষাকালে উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কম থাকে। তিনি বলেন, তারা যে বাজারে পান নিয়ে বিক্রি করেন, সেখানেও দাম কম। ফলে চাষিদের কাছ থেকে কম দামে পান কিনতে হচ্ছে। শীতকালে পানের দাম কিছুটা কম থাকে বলেও জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক পাপিয়া রহমান মৌরী বলেন, চলতি বছর রাজশাহী জেলায় ৫ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে পান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ হাজার ৮২৫ মেট্রিক টন। গত বছর জেলার নয়টি উপজেলায় ৪ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৭৯ হাজার ৬৮১ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, পান রপ্তানির উপযোগী করা এবং চাষিরা যাতে ভালো দাম পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।