০৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

প্রশাসনিক দক্ষতা ও মানবিকতায় কেশবপুরবাসীর মন জয় করে ঢাকা বিভাগে বদলি ইউএনও রেকসোনা খাতুন

কেশবপুর যশোর প্রতিবেদক
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:০৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / ১ বার পড়া হয়েছে।

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন (১৮৪০৯) ঢাকা বিভাগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি হয়েছেন। প্রায় দেড় বছরের দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি কেশবপুরবাসীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।

২০২৫ সালের ১৭ মার্চ কেশবপুরে যোগদানের পর থেকেই উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও ১৪৪টি গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করেন তিনি। জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি বা স্বল্পতার মধ্যেও উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম সচল রাখা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন গড়ে তুলতে তিনি একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সরকারি সেবাকে দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল, সন্ত্রাসমুক্ত ও উন্নয়নমুখী কেশবপুর গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করেন।

মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন অনন্য। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। এছাড়া অসহায়, দুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন। হাসপাতালের রোগীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাগুলোও স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়ায়।

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আটজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ ছিল তাঁর একটি ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদ চত্বরের সৌন্দর্যবর্ধন, দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান স্থাপন এবং সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে নেওয়া উদ্যোগ সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে অভিযান, উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে তিনি একজন দক্ষ, সৎ, কর্মঠ ও মানবিক প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

ঢাকা বিভাগে তাঁর বদলির খবরে কেশবপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কর্মদক্ষতা ও মানবিকতার প্রশংসা করে নতুন কর্মস্থলে সফলতা কামনা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বেও তিনি তাঁর সততা, দক্ষতা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ধারা অব্যাহত রাখবেন।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রশাসনিক দক্ষতা ও মানবিকতায় কেশবপুরবাসীর মন জয় করে ঢাকা বিভাগে বদলি ইউএনও রেকসোনা খাতুন

আপডেট সময়ঃ ০৯:০৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন (১৮৪০৯) ঢাকা বিভাগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি হয়েছেন। প্রায় দেড় বছরের দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি কেশবপুরবাসীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।

২০২৫ সালের ১৭ মার্চ কেশবপুরে যোগদানের পর থেকেই উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও ১৪৪টি গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করেন তিনি। জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি বা স্বল্পতার মধ্যেও উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম সচল রাখা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন গড়ে তুলতে তিনি একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সরকারি সেবাকে দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল, সন্ত্রাসমুক্ত ও উন্নয়নমুখী কেশবপুর গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করেন।

মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন অনন্য। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। এছাড়া অসহায়, দুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন। হাসপাতালের রোগীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাগুলোও স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়ায়।

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আটজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ ছিল তাঁর একটি ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদ চত্বরের সৌন্দর্যবর্ধন, দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান স্থাপন এবং সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে নেওয়া উদ্যোগ সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে অভিযান, উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে তিনি একজন দক্ষ, সৎ, কর্মঠ ও মানবিক প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

ঢাকা বিভাগে তাঁর বদলির খবরে কেশবপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কর্মদক্ষতা ও মানবিকতার প্রশংসা করে নতুন কর্মস্থলে সফলতা কামনা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বেও তিনি তাঁর সততা, দক্ষতা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ধারা অব্যাহত রাখবেন।