১১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

তানোরে সীমানা প্রাচীর ভেঙে স্কুলের জমি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন

আলিফ হোসেন
  • আপডেট সময়ঃ ১০:২৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে।

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরের চৌবাড়িয়া-মালশিরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ের সামনের চৌবাড়িয়া-দেলুয়াবাড়ি রাস্তায় ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল চৌবাড়িয়া বাজারের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে।
এদিন মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান, শিক্ষার্থী অভিভাবক রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন, প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন, সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান নান্টু, মোস্তাফিজুর রহমান এবং শিক্ষার্থী রিতু আক্তার ও সোনিয়া আক্তার নদী। বক্তারা অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যালয় ছুটির সুযোগে হোসেনপুর গ্রামের আব্দুল ও তার দুই পুত্র বেলাল ও  হোসেন আলী তাদের লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেন। পরে সেখানে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। বক্তারা বলেন, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চৌবাড়িয়া-মালশিরা উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিদ্যালয়ের খতিয়ানভুক্ত জমি দখলের চেষ্টা এর আগেও করা হয়েছিল। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
জানা গেছে, খতিয়ান নম্বর ১, জেল নম্বর ১৬৩, মৌজা চৌবাড়িয়া,দাগ নম্বর ৪৬৫, শ্রেণী স্কুল,পরিমাণ ২০ শতক।উক্ত জমি ১৯৬২ ও ৭২ সালে স্কুলের নামে এসব জমি রেকর্ড হয়ে আছে। ১৯৬৫ সাল থেকেই স্কুল ওই জায়গা শান্তিপূর্ণ ভাব ভোগদখল করে আসছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,২০ আগস্ট গভীর রাতে হোসেনপুর গ্রামের আব্দুল ও তার  দুই পুত্র বেলাল এবং হোসেন আলী বহিরাগত ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে স্কুলের প্রাচীর ভেঙে সেখানে টিনের বেড়া দিয়ে ঘর করে এবং ঘরে কিছু ফিডের বস্তা(মাছের খাবার) রাখা হয়।এমতাবস্থায় গত ২৩ আগস্ট স্থানীয় অভিভাবক মহল ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা ওই অবৈধ ঘর ভেঙে ফিডের বস্তাগুলো বেলাল ও হোসেনের লোকজনকে বুঝিয়ে দেন।অথচ তারা অভিভাক, স্কুলের শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে প্রচার করছে তাদের ঘর থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। প্রশ্ন এখানেই ভাঙা টিনের ঘরে কেউ কি ২০ লাখ টকার মালামাল রাখে ?
আবার ২০ লাখ টাকার ফিডের বস্তা কি পরিমাণ হতে পারে ? প্রকাশ্যে দিবালোকে কি এই পরিমাণ মালামাল আদৌও লুট করা সম্ভব ? শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ কি আদৌও সেটা করতে পারেন ? এসব বিবেচনায় এটা তো পরিস্কার বেলাল ও হোসেন এসব নিয়ে রীতিমতো লুটের নাটক করছে।
সচেতন মহলের ভাষ্য,যারা শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আশা হোক।
এবিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন বলেন,আব্দুল জাল দলিল সৃষ্টি করে স্কুলের জায়গা জবরদখলের চেস্টা করছে।এবিষয়ে তারা প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বেলাল  এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,পৈতৃক সুত্রে ওই জমি তাদের।তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ২৪মে আদালত থেকে তারা রায় পেয়েছেন। কিন্ত্ত স্কুলের লোকজন এলাকার কিছু বখাটেদের নিয়ে তাদের দোকান ভাঙচুর ও প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছেন।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোরে সীমানা প্রাচীর ভেঙে স্কুলের জমি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট সময়ঃ ১০:২৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরের চৌবাড়িয়া-মালশিরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ের সামনের চৌবাড়িয়া-দেলুয়াবাড়ি রাস্তায় ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল চৌবাড়িয়া বাজারের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে।
এদিন মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান, শিক্ষার্থী অভিভাবক রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন, প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন, সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান নান্টু, মোস্তাফিজুর রহমান এবং শিক্ষার্থী রিতু আক্তার ও সোনিয়া আক্তার নদী। বক্তারা অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যালয় ছুটির সুযোগে হোসেনপুর গ্রামের আব্দুল ও তার দুই পুত্র বেলাল ও  হোসেন আলী তাদের লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেন। পরে সেখানে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। বক্তারা বলেন, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চৌবাড়িয়া-মালশিরা উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিদ্যালয়ের খতিয়ানভুক্ত জমি দখলের চেষ্টা এর আগেও করা হয়েছিল। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
জানা গেছে, খতিয়ান নম্বর ১, জেল নম্বর ১৬৩, মৌজা চৌবাড়িয়া,দাগ নম্বর ৪৬৫, শ্রেণী স্কুল,পরিমাণ ২০ শতক।উক্ত জমি ১৯৬২ ও ৭২ সালে স্কুলের নামে এসব জমি রেকর্ড হয়ে আছে। ১৯৬৫ সাল থেকেই স্কুল ওই জায়গা শান্তিপূর্ণ ভাব ভোগদখল করে আসছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,২০ আগস্ট গভীর রাতে হোসেনপুর গ্রামের আব্দুল ও তার  দুই পুত্র বেলাল এবং হোসেন আলী বহিরাগত ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে স্কুলের প্রাচীর ভেঙে সেখানে টিনের বেড়া দিয়ে ঘর করে এবং ঘরে কিছু ফিডের বস্তা(মাছের খাবার) রাখা হয়।এমতাবস্থায় গত ২৩ আগস্ট স্থানীয় অভিভাবক মহল ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা ওই অবৈধ ঘর ভেঙে ফিডের বস্তাগুলো বেলাল ও হোসেনের লোকজনকে বুঝিয়ে দেন।অথচ তারা অভিভাক, স্কুলের শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে প্রচার করছে তাদের ঘর থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। প্রশ্ন এখানেই ভাঙা টিনের ঘরে কেউ কি ২০ লাখ টকার মালামাল রাখে ?
আবার ২০ লাখ টাকার ফিডের বস্তা কি পরিমাণ হতে পারে ? প্রকাশ্যে দিবালোকে কি এই পরিমাণ মালামাল আদৌও লুট করা সম্ভব ? শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ কি আদৌও সেটা করতে পারেন ? এসব বিবেচনায় এটা তো পরিস্কার বেলাল ও হোসেন এসব নিয়ে রীতিমতো লুটের নাটক করছে।
সচেতন মহলের ভাষ্য,যারা শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আশা হোক।
এবিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন বলেন,আব্দুল জাল দলিল সৃষ্টি করে স্কুলের জায়গা জবরদখলের চেস্টা করছে।এবিষয়ে তারা প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বেলাল  এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,পৈতৃক সুত্রে ওই জমি তাদের।তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ২৪মে আদালত থেকে তারা রায় পেয়েছেন। কিন্ত্ত স্কুলের লোকজন এলাকার কিছু বখাটেদের নিয়ে তাদের দোকান ভাঙচুর ও প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছেন।