শার্টডাউন রাবি, শঙ্কায় রাকসু: কি ভাবছেন প্রার্থীরা?
- আপডেট সময়ঃ ০২:২৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ৯৯ বার পড়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি:
পোষ্যকোটা ইস্যু, কমপ্লিট শাটডাউন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীর মুখোমুখি অবস্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অচলবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। অন্যদিকে কমপ্লিট শার্টডাউন ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স সমিতি।
এতে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও গতকাল নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা বৈঠকের পর জানিয়েছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে তাঁরা যথাসময়ে নির্বাচন করতে চান। এরপরও তাঁরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে গতকাল থেকেই অনেক শিক্ষার্থী বাসায় চলে যাচ্ছেন। আজ সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের প্রধান দুইটি গেইটে বাড়িমুখি শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রার্থীরাও নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে কথা হয় ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদের সঙ্গে, তিনি বলেন, ‘পোষ্যকোটা বাতিল ও ২৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের দাবিতে আমরা অনড় আছি। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দেখছি। শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি নির্বাচনে সহযোগিতা না করেন, তাহলে নির্বাচন খুবই কষ্টকর হবে। ২০ তারিখের ঘটনায় সব প্যানেলের প্রচার-প্রচারণায় ভাটা পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে গেছেন। প্রশাসনের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই উৎসবমুখর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এ জন্য প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের পালস বুঝে কাজ করতে হবে।’
ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপিপ্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীর বলেন, ‘আমরা পোষ্যকোটা বাতিলের পক্ষে। কিন্তু গুটিকয় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী বেশি তৎপর, তারা নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে। এই পরিস্থিতিতে ঝড়ঝাপটা বেড়ে গেছে। হলে হলে খোঁজ নিয়ে দেখেন, অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে গেছেন। এই মুহূর্তে জানি না, নির্বাচন হবে কি না। তবে আমি নির্বাচন না হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি দেখছি। সেক্ষেত্রে ছাত্রদলের চাওয়া পূজার ছুটির পরেই নির্বাচন হোক।’
‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’ প্যানেলের ভিপিপ্রার্থী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে গেছেন। আর পোষ্যকোটা নিয়ে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’
রাকসুর ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপিপ্রার্থী তাসিন খান বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল পরিস্থিতি নেই, প্রশাসন যদি স্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে তাহলে ২৫ তারিখেই রাকসু হোক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না করে রাকসু দিলে সেটার আমরা বৈধতা দেবো না।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রশাসন ভবন থেকে গাড়ি নিয়ে বের হলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাঁকে আটকে বিক্ষোভ করেন। পরে তিনি গাড়ি থেকে নেমে বাসভবনের দিকে গেলে শিক্ষার্থীরা তাঁর বাসভবনে তালা দেন। পরে উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের দিকে যান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাঁদের জুবেরী ভবনে ঢুকতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এরপর উপ-উপাচার্যসহ কর্মকর্তাদের জুবেরী ভবনে আটকে রেখে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। পরে ১৭ টি হল থেকে শিক্ষার্থীরা বের হয়ে এসে ভিসির বাসভবনের সামনে আন্দোলন করতে থাকেন, তুমুল আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রাত একটার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব পোষ্যকোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। অপরদিকে শিক্ষক লাঞ্চনার প্রতিবাদের কর্মবিরতিতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।




















