০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভূমিকম্পের সময় গাজীপুরে কারখানা ভবন থেকে নামতে গিয়ে শতাধিক শ্রমিক আহত।

সুলতান মাহমুদ,গাজীপুর প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:১১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৫৫ বার পড়া হয়েছে।

সুলতান মাহমুদ,গাজীপুর প্রতিনিধি :

গাজীপুরে ভূমিকম্পের সময় কারখানা থেকে তাড়াহুড়ো করে বের হতে গিয়ে টঙ্গী ও শ্রীপুরে দুই পোশাক কারখানার কমপক্ষে দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর এ দুটি ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের অধিকাংশই সিঁড়িতে পড়ে যাওয়া, ধাক্কাধাক্কি ও পদদলিত হয়ে আহত হন।
আহতদের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগে হঠাৎ কয়েকশো শ্রমিকের ভিড় দেখা দেয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইসরাত জাহান এনি জানান, ভূমিকম্পের পরপরই শতাধিক শ্রমিক চিকিৎসা নিতে আসেন। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামের ডেনিম্যাকের সাততলা ভবনে প্রায় দশ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। ভূমিকম্প শুরু হতেই ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকা শ্রমিকেরা একযোগে সিঁড়িতে নেমে আসতে গিয়ে সিঁড়িজুড়ে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়। ভিড়ের মধ্যে দেয়ালে ধাক্কা, সিঁড়িতে পড়ে যাওয়া এবং একে অপরের ওপর চাপা পড়ে শতাধিক শ্রমিক আহত হন।
শ্রমিক মনির হোসেন জানিয়েছেন, ভূমিকম্প শুরু হওয়া মাত্র সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। অথচ কারখানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। শ্রমিকেরা ফটক ভাঙতে গেলে সেটি হুড়মুড় করে পড়ে গিয়ে অনেকে চাপা পড়েন।
কারখানার মানবসম্পদ কর্মকর্তা মহিদুল হাসান বলেন, নিরাপত্তাকর্মীরা ফটক বন্ধ করেছিলেন। এর বাইরে আপাতত কিছু বলা সম্ভব নয়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বলেন, আহত শ্রমিকদের সার্বিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি করা হচ্ছে।
প্রশাসন ও স্থানীয়রা বলছেন, ভূমিকম্পের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে কারখানার গেট বন্ধ থাকা এবং একসঙ্গে কয়েক হাজার শ্রমিকের সিঁড়ি দিয়ে নামার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানার জরুরি মহড়া (ড্রিল) নিয়মিত না হওয়ায় সবাই আতঙ্কে পড়ে ছুটোছুটি শুরু করেন।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভূমিকম্পের সময় গাজীপুরে কারখানা ভবন থেকে নামতে গিয়ে শতাধিক শ্রমিক আহত।

আপডেট সময়ঃ ০৮:১১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

সুলতান মাহমুদ,গাজীপুর প্রতিনিধি :

গাজীপুরে ভূমিকম্পের সময় কারখানা থেকে তাড়াহুড়ো করে বের হতে গিয়ে টঙ্গী ও শ্রীপুরে দুই পোশাক কারখানার কমপক্ষে দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর এ দুটি ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের অধিকাংশই সিঁড়িতে পড়ে যাওয়া, ধাক্কাধাক্কি ও পদদলিত হয়ে আহত হন।
আহতদের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগে হঠাৎ কয়েকশো শ্রমিকের ভিড় দেখা দেয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইসরাত জাহান এনি জানান, ভূমিকম্পের পরপরই শতাধিক শ্রমিক চিকিৎসা নিতে আসেন। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামের ডেনিম্যাকের সাততলা ভবনে প্রায় দশ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। ভূমিকম্প শুরু হতেই ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকা শ্রমিকেরা একযোগে সিঁড়িতে নেমে আসতে গিয়ে সিঁড়িজুড়ে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়। ভিড়ের মধ্যে দেয়ালে ধাক্কা, সিঁড়িতে পড়ে যাওয়া এবং একে অপরের ওপর চাপা পড়ে শতাধিক শ্রমিক আহত হন।
শ্রমিক মনির হোসেন জানিয়েছেন, ভূমিকম্প শুরু হওয়া মাত্র সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। অথচ কারখানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। শ্রমিকেরা ফটক ভাঙতে গেলে সেটি হুড়মুড় করে পড়ে গিয়ে অনেকে চাপা পড়েন।
কারখানার মানবসম্পদ কর্মকর্তা মহিদুল হাসান বলেন, নিরাপত্তাকর্মীরা ফটক বন্ধ করেছিলেন। এর বাইরে আপাতত কিছু বলা সম্ভব নয়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বলেন, আহত শ্রমিকদের সার্বিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি করা হচ্ছে।
প্রশাসন ও স্থানীয়রা বলছেন, ভূমিকম্পের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে কারখানার গেট বন্ধ থাকা এবং একসঙ্গে কয়েক হাজার শ্রমিকের সিঁড়ি দিয়ে নামার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানার জরুরি মহড়া (ড্রিল) নিয়মিত না হওয়ায় সবাই আতঙ্কে পড়ে ছুটোছুটি শুরু করেন।