বাগমারায় স্কুলে যেতে নৌকা উপহার, মানবিক উদ্যোগে বদলে যাবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ
- আপডেট সময়ঃ ১১:২৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
- / ৯১ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের ২১৫ নং বীরকয়া ত্রিমোহনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের নদী পারাপারের দুর্ভোগ লাঘবে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তাহমিনা খাতুনের উদ্যোগে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সহযোগিতায় এবং মানবিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলামের আন্তরিক প্রচেষ্টায় উপজেলা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় (২০২৫–২৬)অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি নৌকা দেওয়া হয়। উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে নৌকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন প্রায় ৫০–৬০ জন শিক্ষার্থী নিরাপদে নদী পার হয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বীরকয়া, লাউবাড়িয়া ও কাষ্টনাংলা এলাকার শত শত মানুষও প্রতিদিন রাণী নদী পারাপারে এই নৌকার সুবিধা নিচ্ছেন। বহু বছর ধরে ব্রিজ না থাকা, কাঁচা রাস্তা এবং বর্ষায় বিদ্যালয় চত্বরে জলাবদ্ধতা—এসব সমস্যা এলাকার মানুষকে দীর্ঘদিন ভোগাচ্ছিল। নৌকা বরাদ্দের ফলে সেই কষ্ট এখন অনেকটাই কমেছে।
এদিকে মানবিকতার আরেক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বিনা পারিশ্রমিকে নৌকা চালাচ্ছেন প্রায় ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। তিনি নিয়মিত ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিক্ষার্থীসহ সকল মানুষকে নদী পারাপারে সাহায্য করছেন। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তার এই সেবামূলক কাজ এলাকার মানুষের প্রশংসা কুড়ালেও এখনো তার জন্য কোনো নিয়মিত আর্থিক সম্মানীর ব্যবস্থা হয়নি। জানা গেছে, বছরে একবার জ্যৈষ্ঠ মাসে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিছু ধান সংগ্রহ করাই তার একমাত্র পারিশ্রমিক, নগদ কোনো অর্থ তিনি পান না।
স্থানীয় লাউবাড়িয়া গ্রামের শুকুর আলী, মোসলেম আলী ও আমজাদ হোসেন বলেন, নৌকাটি শুধুই একটি পারাপারের মাধ্যম নয়—গ্রামীণ জনজীবনে এটি মানবিক ও উন্নয়নমুখী প্রশাসনের বড় উদাহরণ। শিক্ষার্থী ও মানুষের নিরাপদ চলাচলের পাশাপাশি ওই বৃদ্ধ নৌকাচালকের জন্য নিয়মিত সম্মানীর ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
বাসুপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, নৌকা পাওয়া অবহেলিত গ্রামের মানুষের জন্য বড় স্বস্তি। “ক্ষুদ্র উদ্যোগ হলেও এর উপকারিতা অসীম,” মন্তব্য করে তিনি দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, নৌকা পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অনেক নিরাপদ হয়েছে। বিদ্যালয়ে যাওয়ার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ হলে সুবিধা আরও বাড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা সহজ করতে আমরা নৌকা দিয়েছি। রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি আগামী সভায় আলোচনায় আনা হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে উপজেলা থেকে করব, না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।” তিনি আরও জানান, নৌকা চালক যদি যোগাযোগ করেন, উপজেলা প্রশাসন তাকে সহযোগিতা করবে।




















