রংপুরে বাঁশের সাঁকো বেয়ে উঠতে হয় সেতুতে, দুর্ভোগে ২৫ হাজার মানুষ
- আপডেট সময়ঃ ০৩:১১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ৯৭ বার পড়া হয়েছে।
ডিপিডি নিউজ ডেক্সঃ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের রামনাথেরপাড়া এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু স্থানীয়দের কোনো কাজে আসছে না। প্রায় এক বছর আগে মূলসেতুর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করায় তৈরি হয়েছে এমন বিড়ম্বনা। ফলে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছেন আশপাশের পাঁচ গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, হেরিংবন সড়কের মাত্র ১০০ মিটার দূরে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে এটি ব্যবহারের অনুপযোগী। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা সেতুর দুই পাশে বাঁশের সাঁকো বসিয়েছেন। হযরতপুর ইউনিয়নের নানকর, ফতেপুর, রামনাথের পাড়া, সদূরপাড়া ও কাঠালী গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো বেয়ে চলাচল করছেন। ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।
কাঠালী গ্রামের বাসিন্দা নিতাই চন্দ্র বলেন, ‘আমাদের কষ্টের শেষ নাই। ১০ মাস আগে ব্রিজের কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় আমরা ব্যবহার করতে পারছি না। এখন এই ব্রিজে উঠতে আমাদের বাঁশ ছাড়া গতি নেই।’ রামনাথের পাড়ার বাসিন্দা ধনেশ্বর রায় বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না। বৃষ্টির সময় বাঁশের মই পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন আমরা নিজের খরচে সাঁকো বানাই। ভারি জিনিসপত্র তো নিয়েই যাওয়া যায় না।’
আরও পড়ুন: ৫ গ্রামের ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা আবেদ আলী বলেন, ‘ব্রিজের জন্য হাহাকার অবস্থার পরিবর্তন হলো না। ঠিকাদার ব্রিজ বানিয়ে দিলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি আমরা ব্যাবহার করতে পারছি না। নিজেরা বাঁশের সাঁকো বানিয়ে ব্যাবহার করছি কিন্তু ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। কোনোরকমে মানুষ আর ছোট ছোট ভ্যান, অটো পার করা যায়। এই অবস্থার উন্নতির দরকার।’
সেতু নির্মাণের ঠিকাদার মেসার্স মুনতাহা কনস্ট্রাকশনের আব্দুর রহিম বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হবে। ব্রিজের পাশে পানি থাকায় সংযোগ সড়কের কাজ করা সম্ভব হয়নি।’ পজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান সরকার জানান, সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত বিল দেয়া হয়নি। আমরা কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য তাগাদা দিচ্ছি।
আরও পড়ুন: চেঙ্গী নদীর ওপর ব্রিজ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকৌশলী বাদশা আলমগীর জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অধীনে ব্রিজ-কালভার্টের কাজগুলো পিআইও দেখেন। কাজ বুঝে নিয়ে ঠিকাদারকে বিল দেবে ওই দফতর। এখানে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুলতামিস বিল্লাহ বলেন, ‘আগের ইউএনও চলে গেছেন। আমি অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। বিষয়টি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ও পিআইওর সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




















