০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

বর্ধিত সময়ের আগেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি ঠিক করতে চায় কমিশনঃআলী রিয়াজ

ডিপিডি ঢাকা অফিসঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:৪৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১০৮ বার পড়া হয়েছে।

ডিপিডি ঢাকা অফিসঃ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ বিষয়ে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘বর্ধিত এক মাস সময়ের আগেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি ঠিক করতে চায় কমিশন। এর জন্য কোনো অবস্থাতেই এক মাস লাগবে বলে মনে করি না। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত একটি পরিণতি দেখা যাবে।’

আজ বুধবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তৃতীয় ধাপের তৃতীয় দিনের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন।

আলী রীয়াজ বলেন, কমিশনের সভাপতি হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা সার্বিক বিষয়ে জানেন। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের অধিবেশনে যাবেন তিনি। এর আগেই সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁকে অবগত করা হবে।

সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কমিশন চূড়ান্ত খসড়া পাঠিয়েছে বলে জানান আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো ছয়টি উপায়ের পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে কেউ বলছে, বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ বা গণভোটের মাধ্যমে কার্যকর করতে। আবার অনেকেই সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে।

আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘আমাদের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট মতামত সুপারিশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। আপনাদের পক্ষ থেকে যেসব বক্তব্য ছিল, সেগুলোকে আমরা ছয় ভাগে ভাগ করেছিলাম। আপনারা বলেছিলেন, বেশ কিছু বিষয় অধ্যাদেশ এবং নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যায়।’
এসব পদক্ষেপ অত্যন্ত দ্রুত গ্রহণ করতে কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আলী রীয়াজ বলেন, ‘সংবিধানসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আমাদের যে বিশেষজ্ঞ প্যানেল আছে, তারা দুটো কথা বলেছিলেন—একটি হচ্ছে গণভোট, আরেকটি বিশেষ সাংবিধানিক আদেশের কথা। সবকিছু বিবেচনা করে প্যানেলের পক্ষ থেকে আমাদের একটি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেটি আপনাদের সামনে আমরা উপস্থাপন করেছি। আমরা সরকারকে একাধিক পরামর্শ দিতে পারি। বাস্তবায়নের জন্য সেটা তুলনামূলকভাবে সরকারের জন্য সহজতর হবে, বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সাংবিধানিক বিষয়গুলো ক্ষতিয়ে দেখে তাঁরা পদক্ষেপ নিতে পারবেন।’
আলী রীয়াজ জানান, সনদে স্বাক্ষর করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে দুজন করে প্রতিনিধির নাম পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। বেশির ভাগ দলই পাঠিয়েছে। আমরা চাই এ ব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।

তৃতীয় ধাপের এ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন—বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দারের সঞ্চালনায় আজকের বৈঠকে কমিশনের সদস্য হিসেবে আছেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বর্ধিত সময়ের আগেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি ঠিক করতে চায় কমিশনঃআলী রিয়াজ

আপডেট সময়ঃ ০৪:৪৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ডিপিডি ঢাকা অফিসঃ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ বিষয়ে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘বর্ধিত এক মাস সময়ের আগেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি ঠিক করতে চায় কমিশন। এর জন্য কোনো অবস্থাতেই এক মাস লাগবে বলে মনে করি না। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত একটি পরিণতি দেখা যাবে।’

আজ বুধবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তৃতীয় ধাপের তৃতীয় দিনের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন।

আলী রীয়াজ বলেন, কমিশনের সভাপতি হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা সার্বিক বিষয়ে জানেন। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের অধিবেশনে যাবেন তিনি। এর আগেই সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁকে অবগত করা হবে।

সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কমিশন চূড়ান্ত খসড়া পাঠিয়েছে বলে জানান আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো ছয়টি উপায়ের পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে কেউ বলছে, বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ বা গণভোটের মাধ্যমে কার্যকর করতে। আবার অনেকেই সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে।

আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘আমাদের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট মতামত সুপারিশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। আপনাদের পক্ষ থেকে যেসব বক্তব্য ছিল, সেগুলোকে আমরা ছয় ভাগে ভাগ করেছিলাম। আপনারা বলেছিলেন, বেশ কিছু বিষয় অধ্যাদেশ এবং নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যায়।’
এসব পদক্ষেপ অত্যন্ত দ্রুত গ্রহণ করতে কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আলী রীয়াজ বলেন, ‘সংবিধানসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আমাদের যে বিশেষজ্ঞ প্যানেল আছে, তারা দুটো কথা বলেছিলেন—একটি হচ্ছে গণভোট, আরেকটি বিশেষ সাংবিধানিক আদেশের কথা। সবকিছু বিবেচনা করে প্যানেলের পক্ষ থেকে আমাদের একটি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেটি আপনাদের সামনে আমরা উপস্থাপন করেছি। আমরা সরকারকে একাধিক পরামর্শ দিতে পারি। বাস্তবায়নের জন্য সেটা তুলনামূলকভাবে সরকারের জন্য সহজতর হবে, বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সাংবিধানিক বিষয়গুলো ক্ষতিয়ে দেখে তাঁরা পদক্ষেপ নিতে পারবেন।’
আলী রীয়াজ জানান, সনদে স্বাক্ষর করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে দুজন করে প্রতিনিধির নাম পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। বেশির ভাগ দলই পাঠিয়েছে। আমরা চাই এ ব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।

তৃতীয় ধাপের এ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন—বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দারের সঞ্চালনায় আজকের বৈঠকে কমিশনের সদস্য হিসেবে আছেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার।