০৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনামঃ
তানোরের তালন্দ কলেজে নিয়োগের আগেই আর্থিক লেনদেনের গুঞ্জন
তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
- আপডেট সময়ঃ ০৫:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৯১ বার পড়া হয়েছে।

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ ও কর্মচারি নিয়োগের আগেই বড় অঙ্কের আর্থিক দেনদেনের জোরালো গুঞ্জন উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পচ্ছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে গভর্নিং বডির সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কতিপয় শিক্ষক নেতা।
এদিকে গত ১১ জানুয়ারি তালন্দ গ্রামের বাসিন্দা ও অভিভাবক আব্দুস সালাম রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। এবং অভিযোগের অনুলিপি ডাকযোগে উপাচার্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ট্রেজারার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মহাপরিচালক, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, পরিচালক মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রাজশাহী, মহাপরিচালকের প্রতিনিধি, অধ্যক্ষ রাজশাহী কলেজ, চেয়ারম্যান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহী, তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সভাপতি গভর্নিং বডি তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজ ও অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজ। এছাড়াও রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে জৈষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে পদায়ন দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, তালন্দ তালন্দ লোলিত ডিগ্রি কলেজের
গভর্নিং বডির সভাপতি করা হয় একই কলেজের (অবঃ) অধ্যক্ষ সেলিম উদ্দিন কবিরাজকে। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের দেয়া ডিওলেটার দিয়ে তানোর (চাপড়া) মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এদিকে গর্ভনিং বড়ির সভাপতি সেলিম উদ্দিন কবিরাজ রাজনৈতিক পরিচয়ের কতিপয় শিক্ষক নেতার তদবিরে বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অধ্যক্ষসহ চারটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এনিয়ে কলেজ এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।ফলে এমতাবস্থায় নিয়োগ বোর্ড করা হলে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে কলেজ এলাকার বাসিন্দারা।এমনকি নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন শিক্ষক-কর্মচারি ও স্থানীয় বাসিন্দাগণ।
অভিযোগে প্রকাশ, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ি যোগ্যতা থাকা সত্বেও অধ্যক্ষ পদে ওই কলেজের মাত্র দুজন শিক্ষককে আবেদনের সুযোগ করে দেয়া হয়। বাকিদের যোগ্যতা থাকার পরও আবেদন করতে দেয়া হয়নি। তাদের মধ্যে ওই কলেজের শিক্ষক ওমর আলীকে অধ্যক্ষ পদে এবং চারজন কর্মচারী নিয়োগের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আগামী ১৬ জানুয়ারি নিয়োগ বোর্ড করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিচয়ের কতিপয় শিক্ষক নেতা ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। গত অক্টোবর মাসের ০৬ তারিখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন সাবিহা সুলতানা। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কতিপয় শিক্ষক নেতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি নিয়োগ বোর্ডের জন্য নানামূখী চাপ দেয়া শুরু করেন। কিন্ত্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে চাইলে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করানো হয়। পরে সভাপতি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কতিপয় শিক্ষক নেতা জৈষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নজরুল ইসলামকে পদায়ন করা হয়। এতে জৈষ্ঠ শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও ব্যাপক লবিং-গ্রুপিং সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে অভিযোগকারী আব্দুস সালাম জানান, নিয়োগ দেয়ার জন্য সভাপতির নেতৃত্বে শিক্ষকদের নিয়ে নিয়োগ সিন্ডিকেট তৈরি করা করেছে। যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হবে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে আগে থেকেই সবকিছু ঠিকঠাক করা হয়েছে। আগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাবেহা সুলতানা তাদের কথামত নিয়োগ বোর্ড করতে রাজি না হওয়ার কারণে তাকে দায়িত্ব থেকো সরিয়ে দেয়া হয়। এমনকি গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার রাজশাহী কলেজে নিয়োগ বোর্ড করার দিন ধার্য করেছিল। সে দিন রাস্ট্রীয় শোক চলছিল। কিন্তু স্থানীয় জনগণের বাধার কারণে নিয়োগ বোর্ড করতে পারেনি। সরকারিভাবে পরিপত্র জারি হয় এতে বলা হয় কলেজের কর্মচারী নিয়োগ হবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে, আর অধ্যক্ষ নিয়োগ হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে। কিন্তু তালন্দ কলেজের সভাপতি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কতিপয় শিক্ষক নেতা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে আগামী ১৬ জানুয়ারি পুনরায় নিয়োগ বোর্ড করার দিন ধার্য করেছেন। যদি কলেজে নিয়োগ বোর্ড হয় তাহলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ নিয়োগ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়াও একাধিক জৈষ্ঠ শিক্ষককে পাশ কাটিয়ে সভাপতি তার পচ্ছন্দ মতো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নজরুলকে দায়িত্ব দেন। সভাপতির এক নিকট আত্মীয়কে নিয়োগ দেয়া হবে বলেও এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। এসবের মাস্টার মাইড অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ মেতে মরিয়া প্রভাষক ওমর আলী ও তার সহযোগিরা বলে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে জোর আলোচনা রয়েছে।
এবিষয়ে প্রভাষক ওমর আলীর সঙ্গে গত সোমবার মোবাইলে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, মেধার ভিত্তিতে সব নিয়োগ হবে বলে অবহিত। নিয়োগে কোন অনিয়ম হবে না।
এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিয়োগ বিষয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সদস্যরা এবং সভাপতি ভালো বলতে পারবেন। এখানে আমার কিছুই বলার নাই। যা কিছু বলার সভাপতি বলতে পারবেন। আপনি নাকি জৈষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হয়েছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, যে কয়জন সিনিয়র শিক্ষক আছে তার মধ্যে আমি একজন। গভর্নিং বডি আমাকে ভালো মনে করেছে এজন্য দায়িত্ব দিয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কলেজের কর্মচারী নিয়োগ দিবে জেলা প্রশাসক আর অধ্যক্ষ নিয়োগ হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিপত্রের আগে যে সব কলেজে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে তারা নিয়োগ দিতে পারবে। তালন্দ কলেজে পরিপত্রের আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল এজন্য নিয়োগ দেয়া যাবে। নিয়োগ বোর্ড কবে এবং কোথায় হবে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ১৬ জানুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে, আর কলেজে হবে নিয়োগ বোর্ড।
এবিষয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি তালন্দ কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেলিম উদ্দিন কবিরাজের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে নিয়োগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে জানান, নিয়োগের এক কোটি না দশ কোটি টাকা নিয়েছি। অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে বলেন, যে শ্যালা এসব অভিযোগ দিয়েছে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আগামী ১৬ জানুয়ারি নিয়োগ বোর্ড হবে অভিযোগকারীর কতো ক্ষমতা সে যেনো সেদিন নিয়োগ বোর্ড বন্ধ করে। কারো বাবার ক্ষমতা নেই নিয়োগ বোর্ড বাতিল করার। কারণ যিনি মাথা তিনি অনুমতি দিয়েছেন। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খানের মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।#
ট্যাগসঃ



















