০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

উৎসবের রঙে রঙিন গোদাগাড়ী মঙ্গল শোভাযাত্রা ও পান্তা উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ

রবিউল ইসলাম মিনাল:
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:১৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩৮ বার পড়া হয়েছে।

রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি​​​:
​​ঢোলের বাড়ি আর ‘এসো হে বৈশাখ’ গানে মুখরিত আকাশ-বাতাস। সব ভেদাভেদ ভুলে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় মেতেছে বরেন্দ্র জনপদ। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও জমকালো আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। উপজেলা প্রশাসনের নিপুণ ব্যবস্থাপনায় মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তা-ইলিশের আমেজ আর গ্রামীণ মেলা সব মিলিয়ে গোদাগাড়ীতে আজ যেন বসেছিল বাঙালির মিলনমেলা।
​পথে রঙের মিছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা
​মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় উপজেলা প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করা হয় বর্ণিল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। বৈশাখী সাজে সজ্জিত মানুষের পদচারণায় রাজপথ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। শোভাযাত্রাটি উপজেলা পরিষদ ও ডাংপাড়া মোড় প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়। এতে বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ প্রদর্শনের মাধ্যমে বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়।
​পান্তা-ইলিশ ও সাংস্কৃতিক জোয়ারে
​শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা অডিটোরিয়ামে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পান্তা ইলিশ ভোজের আয়োজন করা হয়। গরমের সকালে পান্তার আমেজ উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের লোকগান ও নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
​পহেলা বৈশাখ আমাদের অস্তিত্বের অংশ। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে এই উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ
​উপস্থিত অতিথিবৃন্দ​অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব নাজমুস শাদাৎ রত্ন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
​শামসুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
​মোমিনুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত), গোদাগাড়ী মডেল থানা।

​​এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
​জনপদ জুড়ে মেলা ও উৎসব
​উপজেলা সদরের পাশাপাশি মাঠজুড়ে বসা গ্রামীণ মেলায় ছিল লোকশিল্পের বাহারি প্রদর্শনী। বৈশাখী পোশাক আর মাটির গয়নায় সেজে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই মেতেছিলেন নতুন বছরের আনন্দ উৎসবে। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এই উৎসব উদযাপন গোদাগাড়ীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

উৎসবের রঙে রঙিন গোদাগাড়ী মঙ্গল শোভাযাত্রা ও পান্তা উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ

আপডেট সময়ঃ ০৬:১৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি​​​:
​​ঢোলের বাড়ি আর ‘এসো হে বৈশাখ’ গানে মুখরিত আকাশ-বাতাস। সব ভেদাভেদ ভুলে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় মেতেছে বরেন্দ্র জনপদ। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও জমকালো আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। উপজেলা প্রশাসনের নিপুণ ব্যবস্থাপনায় মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তা-ইলিশের আমেজ আর গ্রামীণ মেলা সব মিলিয়ে গোদাগাড়ীতে আজ যেন বসেছিল বাঙালির মিলনমেলা।
​পথে রঙের মিছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা
​মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় উপজেলা প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করা হয় বর্ণিল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। বৈশাখী সাজে সজ্জিত মানুষের পদচারণায় রাজপথ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। শোভাযাত্রাটি উপজেলা পরিষদ ও ডাংপাড়া মোড় প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়। এতে বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ প্রদর্শনের মাধ্যমে বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়।
​পান্তা-ইলিশ ও সাংস্কৃতিক জোয়ারে
​শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা অডিটোরিয়ামে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পান্তা ইলিশ ভোজের আয়োজন করা হয়। গরমের সকালে পান্তার আমেজ উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের লোকগান ও নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
​পহেলা বৈশাখ আমাদের অস্তিত্বের অংশ। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে এই উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ
​উপস্থিত অতিথিবৃন্দ​অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব নাজমুস শাদাৎ রত্ন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
​শামসুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
​মোমিনুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত), গোদাগাড়ী মডেল থানা।

​​এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
​জনপদ জুড়ে মেলা ও উৎসব
​উপজেলা সদরের পাশাপাশি মাঠজুড়ে বসা গ্রামীণ মেলায় ছিল লোকশিল্পের বাহারি প্রদর্শনী। বৈশাখী পোশাক আর মাটির গয়নায় সেজে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই মেতেছিলেন নতুন বছরের আনন্দ উৎসবে। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এই উৎসব উদযাপন গোদাগাড়ীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।