০৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারের দাবিতে পুঠিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

আরিফুল হক রুবেল
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে।

Oplus_131072

 

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

রোপা আমনের ভরা মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর পুঠিয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কৃষকেরা। পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও খুচরা বাজারে কথিত সার সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে বিক্ষোভের একপর্যায়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বানেশ্বর বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে প্রায় ৫০০শ এর বেশি কৃষক মহাসড়কে অবস্থান নিলে উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় ৪০ মিনিট পর উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।

বিক্ষোভকারী কৃষকদের অভিযোগ, আমন ধানের জমিতে সার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্থানীয় ডিলারদের দোকানে চাহিদা অনুযায়ী সার মিলছে না। অথচ খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে।

তাদের দাবি, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি চক্র কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

সোমবার সকালে বানেশ্বর বাজারের বিসিআইসি সার ডিলার ওছমান আলীর দোকানে সার নিতে ভিড় করেন কৃষকেরা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার না পাওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

কৃষক রফিকুল ইসলাম, ৫০, বলেন, “ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সকাল ১০টার দিকে ডিলার বলেন, সার শেষ। আমরা সার না পেলে জমি রক্ষা করব কীভাবে? সিন্ডিকেট করে আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।”

তবে কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার ওছমান আলী। তিনি বলেন, “কৃষকেরা ভিত্তিহীন অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছেন। আমাদের এখানে এখন পর্যন্ত ইউরিয়ার কোনো সংকট নেই। সবাইকে সার দেওয়া হচ্ছে।”

পরে ঘটনাস্থলে যান পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান। তিনি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শোনেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পর কৃষকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ইউএনও লিয়াকত সালমান বলেন, কৃষকদের মূল দাবি হলো—বর্তমানে যে পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি সার বরাদ্দ এবং ডিলারদের বিরুদ্ধে ওঠা অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সমাধান।

“কৃষকেরা নিজেদের গ্রামে কীটনাশকের ডিলারদের দোকানেও সার বিক্রির দাবি জানিয়েছেন। তাদের এসব দাবি ও অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে,” বলেন তিনি।

বানেশ্বরের সার সরবরাহের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষকদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে ইউএনও বলেন, বানেশ্বরের পাশের চারঘাট উপজেলার অনেক কৃষকও এখানকার ডিলারদের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করেন। কিন্তু বানেশ্বরের ডিলারদের বরাদ্দ দেওয়া হয় বানেশ্বর ইউনিয়নের কৃষকদের চাহিদার ভিত্তিতে।

“এ কারণে এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে সার বিক্রির নিয়ম করা হয়েছে। বানেশ্বর ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সারে অন্য এলাকার কৃষকেরা যাতে ভাগ বসাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের চাহিদার ভিত্তিতেই সার বরাদ্দ করা হয়। স্থানীয় কৃষকেরা যাতে চাহিদা অনুযায়ী সার পান, তা নিশ্চিত করতে ডিলারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উপস্থিত রাখা হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়মিত নজরদারি করা হবে।

ইউএনও জানান, প্রায় ৪০ মিনিট মহাসড়ক অবরোধের পর কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

০১৮১৮-৪৮৩৩৪৫

তারিখ: ০৭ সেপ্টেম্বর- ২০২৬

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সারের দাবিতে পুঠিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

আপডেট সময়ঃ ০৪:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

রোপা আমনের ভরা মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর পুঠিয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কৃষকেরা। পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও খুচরা বাজারে কথিত সার সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে বিক্ষোভের একপর্যায়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বানেশ্বর বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে প্রায় ৫০০শ এর বেশি কৃষক মহাসড়কে অবস্থান নিলে উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় ৪০ মিনিট পর উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।

বিক্ষোভকারী কৃষকদের অভিযোগ, আমন ধানের জমিতে সার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্থানীয় ডিলারদের দোকানে চাহিদা অনুযায়ী সার মিলছে না। অথচ খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে।

তাদের দাবি, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি চক্র কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

সোমবার সকালে বানেশ্বর বাজারের বিসিআইসি সার ডিলার ওছমান আলীর দোকানে সার নিতে ভিড় করেন কৃষকেরা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার না পাওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

কৃষক রফিকুল ইসলাম, ৫০, বলেন, “ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সকাল ১০টার দিকে ডিলার বলেন, সার শেষ। আমরা সার না পেলে জমি রক্ষা করব কীভাবে? সিন্ডিকেট করে আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।”

তবে কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার ওছমান আলী। তিনি বলেন, “কৃষকেরা ভিত্তিহীন অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছেন। আমাদের এখানে এখন পর্যন্ত ইউরিয়ার কোনো সংকট নেই। সবাইকে সার দেওয়া হচ্ছে।”

পরে ঘটনাস্থলে যান পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান। তিনি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শোনেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পর কৃষকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ইউএনও লিয়াকত সালমান বলেন, কৃষকদের মূল দাবি হলো—বর্তমানে যে পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি সার বরাদ্দ এবং ডিলারদের বিরুদ্ধে ওঠা অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সমাধান।

“কৃষকেরা নিজেদের গ্রামে কীটনাশকের ডিলারদের দোকানেও সার বিক্রির দাবি জানিয়েছেন। তাদের এসব দাবি ও অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে,” বলেন তিনি।

বানেশ্বরের সার সরবরাহের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষকদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে ইউএনও বলেন, বানেশ্বরের পাশের চারঘাট উপজেলার অনেক কৃষকও এখানকার ডিলারদের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করেন। কিন্তু বানেশ্বরের ডিলারদের বরাদ্দ দেওয়া হয় বানেশ্বর ইউনিয়নের কৃষকদের চাহিদার ভিত্তিতে।

“এ কারণে এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে সার বিক্রির নিয়ম করা হয়েছে। বানেশ্বর ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সারে অন্য এলাকার কৃষকেরা যাতে ভাগ বসাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের চাহিদার ভিত্তিতেই সার বরাদ্দ করা হয়। স্থানীয় কৃষকেরা যাতে চাহিদা অনুযায়ী সার পান, তা নিশ্চিত করতে ডিলারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উপস্থিত রাখা হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়মিত নজরদারি করা হবে।

ইউএনও জানান, প্রায় ৪০ মিনিট মহাসড়ক অবরোধের পর কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

০১৮১৮-৪৮৩৩৪৫

তারিখ: ০৭ সেপ্টেম্বর- ২০২৬