আজ ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি
- আপডেট সময়ঃ ১১:০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৬ বার পড়া হয়েছে।

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে তার প্রথম সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, সোমবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। এ কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদে উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
রাষ্ট্রপতির কর্মসূচি অনুযায়ী, সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এরপর তিনি জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেবেন। পরে সার্কিট হাউসে গিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার।
সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে সংবর্ধনাস্থলে জড়ো হন হাজারো মানুষ। মাঠের পাশাপাশি আশপাশের সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের ছাদেও মানুষের ভিড় দেখা যায়।
গণসংবর্ধনায় ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা অনেকটাই অবহেলিত। জেলার মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছেন তিনি। এরই মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বিমানবন্দর চালুর জন্যও কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, মানুষের উন্নতির জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। বেকারত্ব দূর করতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যেন আর হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। শহরের প্রধান সড়ক, বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের পথ ও কর্মসূচিস্থলে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলায়।



















