০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

গোমস্তাপুরে লোডশেডিংয়ের তাণ্ডব: জনজীবন অতিষ্ঠ, গরমে কাবু শিশু ও বৃদ্ধরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে।

(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অতিরিক্ত গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ালেখা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে গোমস্তাপুর পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুতের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলে মাত্র ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম ধস নেমেছে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রাইস মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা, ফটোকপি ও কম্পিউটার কেন্দ্রগুলোর কাজ প্রায় বন্ধের মুখে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন, ফলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাঁরা।

তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে এই রেকর্ড পরিমাণ লোডশেডিং যোগ হওয়ায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে শিশু এবং বয়োবৃদ্ধরা হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও ডায়রিয়াসহ গরমজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে গরমজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে।

এদিকে, লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এবং গরমে পড়ার টেবিলে টেকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছে না।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “দিনে-রাতে কতবার যে বিদ্যুৎ যায় আর আসে, তার হিসাব নেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে, আর বাচ্চাদের পড়ালেখার তো চরম ক্ষতি হচ্ছে।”

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকেই সরবরাহ কম রয়েছে। তবে এ সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে তাঁরা আশ্বস্ত করেন।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে জনজীবনকে দুর্ভোগ মুক্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন গোমস্তাপুরের ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গোমস্তাপুরে লোডশেডিংয়ের তাণ্ডব: জনজীবন অতিষ্ঠ, গরমে কাবু শিশু ও বৃদ্ধরা

আপডেট সময়ঃ ১১:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অতিরিক্ত গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ালেখা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে গোমস্তাপুর পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুতের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলে মাত্র ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম ধস নেমেছে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রাইস মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা, ফটোকপি ও কম্পিউটার কেন্দ্রগুলোর কাজ প্রায় বন্ধের মুখে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন, ফলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাঁরা।

তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে এই রেকর্ড পরিমাণ লোডশেডিং যোগ হওয়ায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে শিশু এবং বয়োবৃদ্ধরা হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও ডায়রিয়াসহ গরমজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে গরমজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে।

এদিকে, লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এবং গরমে পড়ার টেবিলে টেকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছে না।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “দিনে-রাতে কতবার যে বিদ্যুৎ যায় আর আসে, তার হিসাব নেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে, আর বাচ্চাদের পড়ালেখার তো চরম ক্ষতি হচ্ছে।”

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকেই সরবরাহ কম রয়েছে। তবে এ সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে তাঁরা আশ্বস্ত করেন।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে জনজীবনকে দুর্ভোগ মুক্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন গোমস্তাপুরের ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।