বাগমারার ঝিকরায় ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, ভাগ্য খুলল কৃষকদের
- আপডেট সময়ঃ ০৩:০৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৩১ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাত কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়ায় এ খাল পুনঃখনন স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। খাল পুনঃখননের ফলে অনাবাদি জমিতে চাষাবাদ বাড়বে এবং কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
গত ২ মে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ৪০ দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে গত ২৫ জুন খননকাজ শেষ হয়। প্রকল্পের আওতায় ঝিকরা ইউনিয়নের সাত কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খালের তলদেশ ১২ ফুট প্রশস্ত, গভীরতা ১০ ফুট এবং উপরিভাগ ৩০ ফুট প্রশস্ত রেখে খননকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্পের মোট বরাদ্দের মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ৮৯ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খননকাজ শেষে শ্রমিক মজুরি খাতের অব্যয়িত ২৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
তবে খাল পুনঃখনন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একটি পক্ষের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগও তোলা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, শ্রমিকদের মজুরি এবং খননকাজের পরিমাণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম হয়েছে এবং শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি থেকেও কেউ কেউ বঞ্চিত হয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা নূর-এ-শেফা এসব অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, একটি পক্ষ সরকারি প্রকল্পকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সরকারি নির্দেশনা মেনেই প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্ধারিত প্রস্থ ও গভীরতা বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার পর বরাদ্দের একটি অংশ ব্যয় না হওয়ায় তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে। শ্রমিকদের অংশগ্রহণেও কোনো ঘাটতি ছিল না এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে বলে তারা জানান।
এদিকে খাল পুনঃখননের সুফল পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। আগে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। এতে অনেক কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকত। পুনঃখননের ফলে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়বে এবং চাষাবাদে খালের পানি ব্যবহার করা যাবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
ঝিকরা গ্রামের কৃষক ও খাল খনন প্রকল্পের শ্রমিক আজাদুল ইসলাম বলেন, খাল পুনঃখননের মধ্য দিয়ে কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আমি নিজেও খননকাজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছি। আমার মতো অনেক শ্রমিক ন্যায্য মজুরি পেয়েছেন।
ঝিকরা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দ্বীন ইসলাম বলেন, খাল পুনঃখননের আগে যেখানে পানি জমে থাকত, এখন সেখানে আর পানি জমছে না। ফলে কৃষকরা সহজেই জমিতে ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। এটি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে।
ঝিকরা খাল পুনঃখনন প্রকল্পের সভাপতি মোবারক হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আমরা জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি নামত না। এ কারণে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। কৃষকবান্ধব এই উদ্যোগের ফলে এখন আর সেই ভোগান্তি থাকবে না।
স্থানীয়দের মতে, সাত কিলোমিটার খাল পুনঃখননের ফলে ঝিকরা ইউনিয়নের কৃষি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল মিলবে। জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি সেচ সুবিধা বাড়ায় কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমার এবং অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।



















