দুর্গাপুরে মৎস্য চাষী-জেলেদের প্রীতি ফুটবল, চ্যাম্পিয়ন মৎস্য চাষী একাডেমি
- আপডেট সময়ঃ ১০:২৭:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ৩৮ বার পড়া হয়েছে।

মোঃ হাসিবুর রহমান
ডিপিডি প্রতিবেদক:
রুপালি মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীর দুর্গাপুরে মৎস্য চাষী ও জেলেদের নিয়ে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে মৎস্য চাষী ও জেলেদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৫টায় দুর্গাপুর পৌরসভার ধরমপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে এবং দুর্গাপুর বন্ধন এন্টারপ্রাইজের সহযোগিতায় এ ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় স্থানীয় মৎস্য চাষী ফুটবল একাডেমি ১-০ গোলে জেলে ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলাকে ঘিরে মাঠজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। মৎস্য চাষী ও জেলেদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। খেলার মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের লড়াইয়ের পাশাপাশি দর্শকদের উচ্ছ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো।
খেলা শেষে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আশরাফুল কবির বুলু, পানানগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম খান (রবিন) এবং রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান স্বজল।
এ ছাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আ.ন.ম রাকিবুল ইউসুফ, উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমি সুপারভাইজার মহিদুল ইসলাম, ধরমপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস মোল্লা, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরমান কবির সুজন, যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম জেমস, মৎস্য ব্যবসায়ী রিপনসহ মৎস্য চাষী, জেলে, ক্রীড়াপ্রেমী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দুর্গাপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বাবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও পুষ্টি নিরাপত্তায় মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মৎস্য চাষী ও জেলেদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়াতে খেলাধুলার এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। মৎস্য চাষী ও জেলেরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং পারস্পারিক সম্পর্ক বৃদ্ধি হবে।
বিশেষ অতিথি মো. আশরাফুল কবির বুলু বলেন, মৎস্য চাষী ও জেলেরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা প্রয়োজন। খেলাধুলা মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বাবুল হোসেন বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের মূল উদ্দেশ্য হলো মৎস্যসম্পদের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং মৎস্য চাষী ও জেলেদের উৎসাহিত করা। ক্রীড়া আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে আনন্দ, উৎসাহ ও পারস্পারিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।
- পরে বিজয়ী মৎস্য চাষী ফুটবল একাডেমি ও রানার্সআপ জেলে ফুটবল একাদশের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, আনন্দঘন এ আয়োজন মৎস্য চাষী ও জেলেদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করার পাশাপাশি তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।



















