সান্তাহারে শেষ ঠিকানার কারিগর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে আব্দুল হাই সিদ্দিক
- আপডেট সময়ঃ ০৪:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৯ বার পড়া হয়েছে।

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:
জীবনের শেষ সময়ে মানুষের শেষ ঠিকানা তৈরি করে দেওয়ার নীরব কারিগর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের সান্দিড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাই সিদ্দিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানুষের মৃত্যুর পর দাফনের জন্য কবর প্রস্তুত করাসহ মৃত্যু মানুষকে গোসল দেওয়ার কাজ করে আসছেন। গ্রামের কারও মৃত্যু সংবাদ পেলে কবর স্থানে ছুটে যান আব্দুল হাই সিদ্দিক। প্রয়োজন অনুযায়ী কবরের স্থান নির্ধারণ, মাটি খনন এবং দাফনের উপযোগী করে প্রস্তুত করার কাজ করেন তিনি। শোকের মুহূর্তে স্বজনদের পাশে থেকে নীরবে দায়িত্ব পালন করাই যেন তাঁর জীবনের অন্যতম কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সান্দিড়া গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা বাবলু মিয়া জানান, একজন মানুষের জীবনের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিতে আব্দুল হাই সিদ্দিকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এই কাজটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, সাহসের ও পরিশ্রমের। তবুও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি বছরের পর বছর এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাঁর এই নীরব সেবাকে এলাকাবাসী মানবিক ও মহৎ কাজ হিসেবে দেখছেন। জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানা প্রস্তুত করার এই কাজের মাধ্যমে তিনি সমাজে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি সান্দিড়া গ্রামের মৃত হাফিজার রহমান মাষ্টার ছেলে। পেশায় তিনি একজন মৎস্য ব্যবসায়ী।
দমদমা গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য শিপলু খান বলেন, বিভিন্ন মানুষের জীবনের ভিন্ন ভিন্ন গল্প থাকলেও আব্দুল হাই সিদ্দিকের গল্পটি একটু ব্যতিক্রম। তিনি হলেন মানুষের শেষ ঠিকানার কারিগর। তিনি শুধু তার নিজ গ্রাম সান্দিড়ায় নয় আশেপাশে গ্রামের মানুষের মৃত্যু সংবাদ পেলে ছুটে যান কবর প্রস্তুত করা ও মৃত্যু মানুষকে গোসল করিয়ে দেওয়ার জন্য।
এ বিষয়ে শেষ ঠিকানার কারিগর আব্দুল হাই সিদ্দিক বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের পাশে থেকে যেন মৃত্যু মানুষের দাফনের জন্য কবর প্রস্তুত ও গোসল করে দেওয়ার কাজ করে যেতে পারি। আর এই কাজ করতে আমার ভালোই লাগে। এখন পর্যন্ত আমি প্রায় শতাধিক কবর প্রস্তুত ও মৃত্যু মানুষের গোসল করে দিয়েছি।



















