০৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

নাটোরের খোলাবাড়িয়া ভেষজ গ্রামের সুনাম কি অনুমোদনহীন ওষুধের অভিযোগে ঝুঁকিতে?

ডিপিডি প্রতিবেদক
  • আপডেট সময়ঃ ১১:১৪:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে।

Oplus_131072

নাটোরের খোলাবাড়িয়া ভেষজ গ্রামের সুনাম কি অনুমোদনহীন ওষুধের অভিযোগে ঝুঁকিতে?

হাসান আলী সোহেল, স্টাফ রিপোর্টার

নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া ঔষধি গ্রামে অনুমোদনহীনভাবে ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, পাউডার ও যৌন উত্তেজক ভেষজ পণ্য তৈরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকটি স্থানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব পণ্য তৈরির কার্যক্রম চলছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনিক তদন্ত ও কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

খোলাবাড়িয়া দীর্ঘদিন ধরে ভেষজ উদ্ভিদ ও ঔষধি পণ্যের জন্য পরিচিত। এ এলাকার ভেষজ চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িত। স্থানীয়দের আশঙ্কা, কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের কারণে পুরো ঔষধি গ্রামের ঐতিহ্য ও সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিভিন্ন ভেষজ উপাদান ব্যবহার করে পণ্য তৈরির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও পাউডারজাত পণ্যও তৈরি করা হচ্ছে। এসব পণ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, মান নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অনুমোদনহীন উৎপাদন বন্ধ করা হলে একদিকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে বৈধ ভেষজ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

খোলাবাড়িয়া ঔষধি গ্রামের পণ্যের প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের আগ্রহ রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, অনুমোদনহীন ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলে এর প্রভাব পড়তে পারে বৈধ ব্যবসা ও ভেষজ চাষের ওপরও।

নাটোর জেলা যুবদলের সহসভাপতি কবির হোসেন বলেন, অনুমোদনহীন ওষুধ তৈরির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৃত ভেষজ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ও ভেষজ খাতের উন্নয়নে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার।

খোলাবাড়িয়া ঔষধি গ্রামের সভাপতি জয়নাল আবেদীনও অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নিয়মিত নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হলে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এলাকার ভেষজ ঐতিহ্যও রক্ষা করা সম্ভব।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অনুমোদনহীন ওষুধ তৈরির পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাউডারসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির ঘটনাও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, অনুমোদনহীন উৎপাদন থাকলে তা বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং বৈধ ভেষজ ব্যবসায়ীদের সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে খোলাবাড়িয়ার ভেষজ খাতকে আরও আধুনিক ও মানসম্মত করতে গবেষণা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নাটোরের খোলাবাড়িয়া ভেষজ গ্রামের সুনাম কি অনুমোদনহীন ওষুধের অভিযোগে ঝুঁকিতে?

আপডেট সময়ঃ ১১:১৪:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

নাটোরের খোলাবাড়িয়া ভেষজ গ্রামের সুনাম কি অনুমোদনহীন ওষুধের অভিযোগে ঝুঁকিতে?

হাসান আলী সোহেল, স্টাফ রিপোর্টার

নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া ঔষধি গ্রামে অনুমোদনহীনভাবে ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, পাউডার ও যৌন উত্তেজক ভেষজ পণ্য তৈরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকটি স্থানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব পণ্য তৈরির কার্যক্রম চলছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনিক তদন্ত ও কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

খোলাবাড়িয়া দীর্ঘদিন ধরে ভেষজ উদ্ভিদ ও ঔষধি পণ্যের জন্য পরিচিত। এ এলাকার ভেষজ চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িত। স্থানীয়দের আশঙ্কা, কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের কারণে পুরো ঔষধি গ্রামের ঐতিহ্য ও সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিভিন্ন ভেষজ উপাদান ব্যবহার করে পণ্য তৈরির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও পাউডারজাত পণ্যও তৈরি করা হচ্ছে। এসব পণ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, মান নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অনুমোদনহীন উৎপাদন বন্ধ করা হলে একদিকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে বৈধ ভেষজ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

খোলাবাড়িয়া ঔষধি গ্রামের পণ্যের প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের আগ্রহ রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, অনুমোদনহীন ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলে এর প্রভাব পড়তে পারে বৈধ ব্যবসা ও ভেষজ চাষের ওপরও।

নাটোর জেলা যুবদলের সহসভাপতি কবির হোসেন বলেন, অনুমোদনহীন ওষুধ তৈরির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৃত ভেষজ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ও ভেষজ খাতের উন্নয়নে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার।

খোলাবাড়িয়া ঔষধি গ্রামের সভাপতি জয়নাল আবেদীনও অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নিয়মিত নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হলে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এলাকার ভেষজ ঐতিহ্যও রক্ষা করা সম্ভব।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অনুমোদনহীন ওষুধ তৈরির পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাউডারসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির ঘটনাও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, অনুমোদনহীন উৎপাদন থাকলে তা বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং বৈধ ভেষজ ব্যবসায়ীদের সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে খোলাবাড়িয়ার ভেষজ খাতকে আরও আধুনিক ও মানসম্মত করতে গবেষণা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।