০৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫ বার পড়া হয়েছে।

 

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান, জীবন ও সুস্থতার সুরক্ষায় তাদের অবদান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সেক্রেটারি ও সদর উপজেলার পারগানার সভাপতি কর্নেলিয়াস মুরমুর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের তথ্য, যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম, আদিবাসী যুবনেতা সিপোনেন মেহব্রুম, ফোরামের সম্পাদিকা মলিকা সরণ, এনজিও সিনেরিয়া ম্যানেজার ও সমাজকর্মী নিকোলাস মুরমু, আদিবাসী কোল নেত্রী কল্পনা কোল মুরমু, রেডিও মহানন্দার স্টেশন মাস্টার রেজাউল করিম টুটুলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শোভাযাত্রাটি শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে শুরু হয়ে উদয়ন মোড়, নিউমার্কেট, সেন্টু মার্কেট ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ডিসি অফিস) চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য ও প্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। সমাবেশ থেকে তারা সাত দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংবিধানে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান; সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন; আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমি দখল বন্ধ করে কার্যকর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা; আদিবাসীদের সংস্কৃতি সংরক্ষণে রাজধানীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা; সাঁওতালসহ সকল আদিবাসী শিশুর জন্য প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত চালু করা; জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে আদিবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। এ ছাড়া আলফ্রেড সরেন, চুডু সরেন, বাগদা ফার্মের তিন সাঁওতাল নেতা শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডী ও রমেশ টুডু, চলেশ রিছিল, পীরেন স্নালসহ সমতল ও পাহাড়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং আদিবাসীদের ভূমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘তারা আদিবাসী, তবে আদিম নয়।’ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা বলেন, অনেক আদিবাসী পরিবার কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও শিক্ষা ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাশাপাশি নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ না থাকায় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, তারা নিজেদের ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ পরিচয়ের পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ভূমি সমস্যা সমাধান, দখল হয়ে যাওয়া ভূমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং আদিবাসীদের অধিকার ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে এসব দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

আপডেট সময়ঃ ০৭:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

 

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান, জীবন ও সুস্থতার সুরক্ষায় তাদের অবদান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সেক্রেটারি ও সদর উপজেলার পারগানার সভাপতি কর্নেলিয়াস মুরমুর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের তথ্য, যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম, আদিবাসী যুবনেতা সিপোনেন মেহব্রুম, ফোরামের সম্পাদিকা মলিকা সরণ, এনজিও সিনেরিয়া ম্যানেজার ও সমাজকর্মী নিকোলাস মুরমু, আদিবাসী কোল নেত্রী কল্পনা কোল মুরমু, রেডিও মহানন্দার স্টেশন মাস্টার রেজাউল করিম টুটুলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শোভাযাত্রাটি শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে শুরু হয়ে উদয়ন মোড়, নিউমার্কেট, সেন্টু মার্কেট ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ডিসি অফিস) চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য ও প্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। সমাবেশ থেকে তারা সাত দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংবিধানে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান; সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন; আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমি দখল বন্ধ করে কার্যকর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা; আদিবাসীদের সংস্কৃতি সংরক্ষণে রাজধানীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা; সাঁওতালসহ সকল আদিবাসী শিশুর জন্য প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত চালু করা; জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে আদিবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। এ ছাড়া আলফ্রেড সরেন, চুডু সরেন, বাগদা ফার্মের তিন সাঁওতাল নেতা শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডী ও রমেশ টুডু, চলেশ রিছিল, পীরেন স্নালসহ সমতল ও পাহাড়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং আদিবাসীদের ভূমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘তারা আদিবাসী, তবে আদিম নয়।’ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা বলেন, অনেক আদিবাসী পরিবার কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও শিক্ষা ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাশাপাশি নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ না থাকায় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, তারা নিজেদের ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ পরিচয়ের পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ভূমি সমস্যা সমাধান, দখল হয়ে যাওয়া ভূমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং আদিবাসীদের অধিকার ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে এসব দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।