০৩:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি তেল সংকট, মজুদদারদের বিরুদ্ধে মনিরামপুর প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময়ঃ ০২:২০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে।

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি;

দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার জ্বালানি তেলের মজুদ থাকার কথা বললেও ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পেট্রোল ও অকটেন নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা। তাও মিলছে মাত্র ২ শত টাকার তেল।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে ফিলিং স্টেশন কতৃপক্ষ জনগণকে সামান্য জ্বালানি তেল দিয়ে বাকি তেল বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে খোলা বাজারে বিক্রি করাচ্ছে। প্রতি লিটার ৫০ টাকা বেশি দিলেই মিলছে পেট্রোল ও অকটেন। এই অবস্থায় মনিরামপুরবাসির মনে যখন নাভিশ্বাস চরমে ঠিক তখন স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে উপজেলা প্রশাসন। ১ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে সহকারী কমিশনার ভূমি মাহির দায়ান আমিন সদর বাজারের গরুহাটা মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে নিঝুম মোটরস থেকে উদ্ধার করে প্রায় ১,৮০০ লিটার ডিজেল।
‎‎প্রতিষ্ঠানটির মালিক রবিউল ইসলাম মিঠু জানান, তার মালিকানাধীন ১৪টি গাড়ি ও ১০টি ভেকু (খননযন্ত্র) রয়েছে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয়।এ জন্য তেল সংরক্ষণ করা হয়েছে।
‎কাগজপত্র যাচাই শেষে সকল যানবাহন প্রশাসনকে দেখানোর এবং জ্বালানি ভর্তির সময় প্রশাসনের উপস্থিতিতে বাধ্যতামূলক সহ মজুদকৃত জ্বালানি তেল তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট যানবাহনে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়।
‎এ সময় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৫১(১) ধারায় রবিউল ইসলাম মিঠুকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

‎অন্যদিকে একই দিনে মোহনপুর বটতলা এলাকায় আসাদ এন্টারপ্রাইজ এন্ড স্যানিটারি নামক দোকান ও সংলগ্ন বসতবাড়িতে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন অভিযান পরিচালনা করে মজুদ জ্বালানি তেলের সন্ধান পান।
‎পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক আসাদুজ্জামানকে একই আইনের ১৫১(১) ধারায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে পেট্রোল অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। বিক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিলেই চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল দিচ্ছে।
নেটিজেনদের ভাষায় একটি বিশেষ মহল সরকারের উপর জনগণের আক্রোশ বাড়াতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভুগান্তি সৃষ্টি করছে। প্রশাসনের আরো কঠোর হবার আহ্বান নেটিজেনদের।
‎‎উপজেলা প্রশাসন জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জ্বালানি তেল সংকট, মজুদদারদের বিরুদ্ধে মনিরামপুর প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে

আপডেট সময়ঃ ০২:২০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি;

দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার জ্বালানি তেলের মজুদ থাকার কথা বললেও ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পেট্রোল ও অকটেন নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা। তাও মিলছে মাত্র ২ শত টাকার তেল।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে ফিলিং স্টেশন কতৃপক্ষ জনগণকে সামান্য জ্বালানি তেল দিয়ে বাকি তেল বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে খোলা বাজারে বিক্রি করাচ্ছে। প্রতি লিটার ৫০ টাকা বেশি দিলেই মিলছে পেট্রোল ও অকটেন। এই অবস্থায় মনিরামপুরবাসির মনে যখন নাভিশ্বাস চরমে ঠিক তখন স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে উপজেলা প্রশাসন। ১ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে সহকারী কমিশনার ভূমি মাহির দায়ান আমিন সদর বাজারের গরুহাটা মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে নিঝুম মোটরস থেকে উদ্ধার করে প্রায় ১,৮০০ লিটার ডিজেল।
‎‎প্রতিষ্ঠানটির মালিক রবিউল ইসলাম মিঠু জানান, তার মালিকানাধীন ১৪টি গাড়ি ও ১০টি ভেকু (খননযন্ত্র) রয়েছে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয়।এ জন্য তেল সংরক্ষণ করা হয়েছে।
‎কাগজপত্র যাচাই শেষে সকল যানবাহন প্রশাসনকে দেখানোর এবং জ্বালানি ভর্তির সময় প্রশাসনের উপস্থিতিতে বাধ্যতামূলক সহ মজুদকৃত জ্বালানি তেল তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট যানবাহনে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়।
‎এ সময় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৫১(১) ধারায় রবিউল ইসলাম মিঠুকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

‎অন্যদিকে একই দিনে মোহনপুর বটতলা এলাকায় আসাদ এন্টারপ্রাইজ এন্ড স্যানিটারি নামক দোকান ও সংলগ্ন বসতবাড়িতে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন অভিযান পরিচালনা করে মজুদ জ্বালানি তেলের সন্ধান পান।
‎পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক আসাদুজ্জামানকে একই আইনের ১৫১(১) ধারায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে পেট্রোল অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। বিক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিলেই চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল দিচ্ছে।
নেটিজেনদের ভাষায় একটি বিশেষ মহল সরকারের উপর জনগণের আক্রোশ বাড়াতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভুগান্তি সৃষ্টি করছে। প্রশাসনের আরো কঠোর হবার আহ্বান নেটিজেনদের।
‎‎উপজেলা প্রশাসন জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।