মান্দায় শিশুদের ড্যান্ডি নেশা করানোর অভিযোগ সাইকেল মেকারের বিরুদ্ধে
- আপডেট সময়ঃ ০৭:২৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৬ বার পড়া হয়েছে।

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি :
নওগাঁর মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ি বাজারের এক সাইকেল মেকারের বিরুদ্ধে শিশুদের সলিউশন আঠায় ড্যান্ডি নেশায় আসক্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে অন্তত চার শিশু নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে তাদের লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে গেছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে মান্দা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ড্যান্ডি নেশায় আসক্ত শিশু ফয়সাল হোসেনের বাবা সোহেল রানা।
সংবাদ সম্মেলনে সোহেল রানা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে ফয়সাল হোসেন মাঝে-মধ্যে সাইকেল মেরামতের জন্য দেলুয়াবাড়ি বাজারের সাইকেল মেকার আব্দুল জলিলের দোকানে যেত। এভাবে যাওয়া-আসার সুযোগে আব্দুল জলিল পলিথিনে সলিউশন আঠা দিয়ে ফয়সালকে নেশায় আসক্ত করেন বলে তাঁর অভিযোগ। একপর্যায়ে ওই শিশুকে দিয়ে বাসা থেকে কাঁসার থালা, বাটি ও গ্লাস এনে নেওয়া হতো এবং এর বিনিময়ে তাকে সলিউশন আঠা দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করা হয়।
পরিবারের দাবি, নেশায় আসক্ত হওয়ার পর ফয়সাল বাড়িতে থাকা ডেকোরেটর ব্যবসার প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের বৈদ্যুতিক তার পরিবারের অগোচরে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেয়। সম্প্রতি সাড়ে সাত হাজার টাকা মূল্যের একটি সাইকেলও মাত্র ৯০০ টাকায় আব্দুল জলিলের কাছে বিক্রি করে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সাইকেলটি ৯০০ টাকায় মেকার আব্দুল জলিলের কাছে বিক্রির কথা স্বীকার করে।
সোহেল রানা আরও অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার এসব বিষয়ে আব্দুল জলিলের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ওই ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে আব্দুল জলিল মান্দা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সোহেল রানা ও তাঁর কয়েকজন স্বজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই ঘটনার একটি কাল্পনিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন সোহেল রানা।
এদিকে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু শিশু ফয়সাল নয় জিহাদ, রাসেল ও তানভির নামের আরও তিন শিশু আব্দুল জলিলের সংস্পর্শে এসে ড্যান্ডির নেশায় আসক্ত হয়েছে। নেশায় জড়িয়ে পড়ায় ওই শিশুদেরও লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে দেলুয়াবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী লালচাঁদ শেখ, আনোয়ার হোসেন ও লিটন হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত মেকার আব্দুল জলিল। তিনি বলেন, মারধর ও চাঁদাদাবির বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।#




















