ভূমিমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার পেলেন উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারি গোলাম সাকলায়েন
- আপডেট সময়ঃ ০৭:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫ বার পড়া হয়েছে।

রাকিবুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারি হিসেবে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন এস এস মৎস্য খামারের স্বত্বাধিকারী গোলাম সাকলায়েন। মৎস্য চাষে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ সম্মাননা লাভ করেন।
রোববার (১৬ আগস্ট)দুপুরে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে গোলাম সাকলায়েনের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে গোলাম সাকলায়েনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, একটা সময় গোলাম সাকলায়েন আমার কাছে বিদ্যালয়ে চাকরির জন্য এসেছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হতে। মন্ত্রী বলেন, আজ গর্বের সঙ্গে বলতে হয়, উত্তরবঙ্গের মৎস্য চাষে যার বিশেষ অবদান রয়েছে, তিনি হলেন গোলাম সাকলায়েন।
ভূমিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে অনুষ্ঠানে গোলাম সাকলায়েনের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। চাকরির পেছনে না ছুটে মৎস্য খাতকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তারই স্বীকৃতি হিসেবে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারির পুরস্কার লাভ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহীর তাজা মাছ কার্গো বিমানে করে বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য রাজশাহীর বিমানবন্দরকে আরও সম্প্রসারিত করে মাছ রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তিনি বলেন, যত দিন যাবে রাজশাহী তত এগিয়ে যাবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ মৎস্য খাতে সবদিক দিয়ে এগিয়ে যাবে। বর্তমানে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। কোনো কোনো ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানেও রয়েছে। আগামী দিনে ইনশাআল্লাহ এ খাত আরও এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, আগামী দিনে পৃথিবীতে বড় ধরনের প্রতিযোগিতা হবে মিষ্টি পানি বা সুইট ওয়াটারকে ঘিরে। পেট্রোলের চেয়েও মিষ্টি পানির মূল্য অনেক বেশি হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে নদীর পানি নিয়ে বিরোধ ও যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের রয়েছে মিষ্টি পানির বড় সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর আশপাশের খাল-বিলগুলোকে মাছ চাষের উপযোগী করে তোলা হবে। চাষিরা সেখানে মাছ উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করবেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবেন। তিনি রাজশাহীর মৎস্যচাষিদের দেশীয় পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহী কালেক্টরেট পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন ভূমিমন্ত্রী। পরে নগরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম ড. বজলুর রশিদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ফয়েজুল কবির, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো. শামীম হোসেন, রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম। “রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর, রাজশাহীর উদ্যোগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারি হিসেবে এস এস মৎস্য খামারের স্বত্বাধিকারী গোলাম সাকলায়েনের পুরস্কারপ্রাপ্তি রাজশাহীর মৎস্য খাতের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। ভূমিমন্ত্রীর হাত থেকে পাওয়া এ সম্মাননা তার দীর্ঘদিনের মৎস্য চাষ, উদ্যোক্তা মানসিকতা ও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।



















