০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

বোয়ালমারীতে সূর্য্য ওঠার আগেই শামুক কুড়াতে বেরিয়ে পড়ে স্বল্প আয়ের মানুষ

আব্দুল মতিন মুন্সী , বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৪৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১২৩ বার পড়া হয়েছে।

Oplus_16908288

আব্দুল মতিন মুন্সী , বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

দুপুর ১২ টা বাজলে রাস্তার পাশে দেখা যায় সারি সারি শামুক বুঝাই করা নৌকা। এমনই দৃশ্য ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বিল অঞ্চলের রাস্তার পাশের।

উপজেলার বিভিন্ন বিল এলাকার স্বপ্ল আয়ের মানুষ রাতের শেষ প্রহরে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে শামুক কুড়াতে বেরিয়ে পড়ে বিলে। শামুক কুড়ানোর কাজে ব্যবহার করেন বাঁশের কুনচির মাথায় জাল দিয়ে তৈরি করা শামুক ধরার ফাঁদ। ভোর থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত শামুক ধরেন তারা। শেখর ও পরমেশ্বদী ইউনিয়নের আকাশ মোল্যা (৩০), ইলিয়াস শেখ (৪০) সহ কয়েকজন জানান, সূর্য্য ওঠার আগে শামুক বেশি দেখা যায়। সূর্য্য উঠলে রোদের তাপে শামুক পানির নিচেই চলে যায়। যার কারণে রাতের শেষ প্রহরে ভোরের আলো দেখা দিলেই শামুক ধরতে নৌকা নিয়ে বিলে চলে যায়।

সরজমিনে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শামুক কুড়ানোর বিষয়ে এবং বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, দুপুর ১২ টার দিকে শামুক কুড়ানো শেষ করে চাপখন্ড ব্রীজের কাছে, বাইরকান্দি সহ কয়েকটি স্থানে নৌকা নিয়ে যায় সকলে। ওই সকল স্থানে বেপারী বসে থাকেন। ছোট বাঁশের ঝুড়ি আছে এক ঝুড়ি শামুক ১০০ টাকা করে বিক্রি করি। প্রতিদিন কেউ ৭০০ টাকা ৮০০ টাকা ১০০০ টাকা শামুক বিক্রি করি। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসলেই এই অঞ্চলের স্বল্প আয়ের মানুষেরা শামুক কুড়িয়ে সংসার চালায়।

শামুক ব্যবসায়ী পরমেশ্বদী ইউনিয়নের তামার হাজী গ্রামের রাব্বি শেখ (২৮) বলেন, বাঁশের ছোট ঝুড়ি ওই এক ঝুড়ি শামুক ১০০ টাকা ক্রয় করি। ওই শামুক বস্তায় ভরে বস্তার মুখ সেলাই করি। বিকালের দিকে ওই বস্তা গুলো ট্রাকে লোড দিয়ে খুলনা বাগেরহাট জেলায় নিয়ে যায়। খুলনার বটতলা নামক একটি বাজারে এই শামুক বিক্রি হয়। ওই বাজারে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শামুক আসে। চিংড়ির ঘের ব্যবসায়ীরা ওই বটতলা বাজারে এসে শামুক কিনে নিয়ে যায়। বস্তা হিসেবে শামুক বিক্রি করি। শামুক বিক্রি করে মোটামুটি আয় আসে।
প্রতিদিনের তা প্রতিদিনই খুলনা নিয়ে যায়।

যতদিন বিলের পানিতে নৌকা চলে তত দিন এই শামুকের ব্যবসা চলে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বোয়ালমারীতে সূর্য্য ওঠার আগেই শামুক কুড়াতে বেরিয়ে পড়ে স্বল্প আয়ের মানুষ

আপডেট সময়ঃ ০৬:৪৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আব্দুল মতিন মুন্সী , বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

দুপুর ১২ টা বাজলে রাস্তার পাশে দেখা যায় সারি সারি শামুক বুঝাই করা নৌকা। এমনই দৃশ্য ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বিল অঞ্চলের রাস্তার পাশের।

উপজেলার বিভিন্ন বিল এলাকার স্বপ্ল আয়ের মানুষ রাতের শেষ প্রহরে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে শামুক কুড়াতে বেরিয়ে পড়ে বিলে। শামুক কুড়ানোর কাজে ব্যবহার করেন বাঁশের কুনচির মাথায় জাল দিয়ে তৈরি করা শামুক ধরার ফাঁদ। ভোর থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত শামুক ধরেন তারা। শেখর ও পরমেশ্বদী ইউনিয়নের আকাশ মোল্যা (৩০), ইলিয়াস শেখ (৪০) সহ কয়েকজন জানান, সূর্য্য ওঠার আগে শামুক বেশি দেখা যায়। সূর্য্য উঠলে রোদের তাপে শামুক পানির নিচেই চলে যায়। যার কারণে রাতের শেষ প্রহরে ভোরের আলো দেখা দিলেই শামুক ধরতে নৌকা নিয়ে বিলে চলে যায়।

সরজমিনে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শামুক কুড়ানোর বিষয়ে এবং বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, দুপুর ১২ টার দিকে শামুক কুড়ানো শেষ করে চাপখন্ড ব্রীজের কাছে, বাইরকান্দি সহ কয়েকটি স্থানে নৌকা নিয়ে যায় সকলে। ওই সকল স্থানে বেপারী বসে থাকেন। ছোট বাঁশের ঝুড়ি আছে এক ঝুড়ি শামুক ১০০ টাকা করে বিক্রি করি। প্রতিদিন কেউ ৭০০ টাকা ৮০০ টাকা ১০০০ টাকা শামুক বিক্রি করি। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসলেই এই অঞ্চলের স্বল্প আয়ের মানুষেরা শামুক কুড়িয়ে সংসার চালায়।

শামুক ব্যবসায়ী পরমেশ্বদী ইউনিয়নের তামার হাজী গ্রামের রাব্বি শেখ (২৮) বলেন, বাঁশের ছোট ঝুড়ি ওই এক ঝুড়ি শামুক ১০০ টাকা ক্রয় করি। ওই শামুক বস্তায় ভরে বস্তার মুখ সেলাই করি। বিকালের দিকে ওই বস্তা গুলো ট্রাকে লোড দিয়ে খুলনা বাগেরহাট জেলায় নিয়ে যায়। খুলনার বটতলা নামক একটি বাজারে এই শামুক বিক্রি হয়। ওই বাজারে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শামুক আসে। চিংড়ির ঘের ব্যবসায়ীরা ওই বটতলা বাজারে এসে শামুক কিনে নিয়ে যায়। বস্তা হিসেবে শামুক বিক্রি করি। শামুক বিক্রি করে মোটামুটি আয় আসে।
প্রতিদিনের তা প্রতিদিনই খুলনা নিয়ে যায়।

যতদিন বিলের পানিতে নৌকা চলে তত দিন এই শামুকের ব্যবসা চলে।