১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বাঘায় পাম্পে মিলছে দুই লিটার পেট্রোল,খোলা বাজারে দুর্নীতি ও নৈরাজ্য

আব্দুস সামাদ মুকুল,বাঘা :
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • / ৫৯ বার পড়া হয়েছে।

আব্দুস সামাদ মুকুল,বাঘা :

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারনে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে সংকোটও দেখা দিয়েছে। আর এ ঘটনাকে ইস্যু করে রাজশাহীর বাঘায় জ্বালানি তেলের বাজারে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অস্থিরতা । এখানে উপজেলা সদরে অবস্থিত পেট্রোল পাম্পে গেলে  মিলছে মাত্র দুই লিটার পেট্রোল। আর খোলা বাজারে চলছে দুর্ণীতির নৈরাজ্য। এমনটি প্রমান মিলেছে বাঘার মনিগ্রাম বাজারে।

সুংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে হরমুজ প্রণালী ঝুঁকিতে পড়া, এবং উৎপাদনকারী দেশ গুলোর উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে । এর ফলে বাংলাদেশসহ আমদানি নির্ভর দেশগুলোতে তেল আমদানির খরচ ও খুচরা মূল্য বেড়েছে । এতে করে বাজারে তেলের সংকোট দেখা দিয়েছে। তবে এই বিষয়টিকে ইস্যু করে অনেক অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুদসহ অধিক দাম আদায় করছেন গ্রাহকদের কাছে।

সরেজমিন গত রবিবার (৮ মার্চ)সকালে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমিয়ে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে বাঘার মনিগ্রাম বাজারের অবস্থিত মেসার্স রিয়াজ অয়েল সেন্টারে। লোকজনের অভিযোগ, সুযোগ বুঝে অনেক দোকানদার তেলের বাড়তি দাম নিচ্ছেন। যাদের মধ্যে অন্যতম রিয়াজ অয়েল সেন্টার।
বাঘার মনিগ্রাম বাজারে তেল কিনতে আসা মোটরসাইকেল চালক জিল্লুর রহমান জানান, আমার মোটরসাইকেলে তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় মেসার্স রিয়াজ অয়েল সেন্টারে এসে ছিলাম। তারা আমার কাছ থেকে এক লিটার পেট্রোল ১৫০ টাকা নিয়েছে। কোনো উপায় না থাকায় আমি বাধ্য হয়ে কিনেছি। অপর একজন অনিক আলী জানান, তাঁর মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি পলিথিন নিয়ে তেল কিনতে আসেন। তখন তাঁর কাছে প্রতি লিটার ১৫০ টাকা চাওয়া হয়। এরপর তারা পলিথিনে তেল দিতে না চাওয়ায় আমি মোটরসাইকেল ঠেলে আনতে বাধ্য হই। পরক্ষনে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনা স্থালে পৌছালে তাঁরা ১২৫ টাকা হারে তেল বিক্রয় করেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিগ্রাম বাজারে অবস্থিত মেসার্স রিয়াজ অয়েল সেন্টারের স্বত্বাধিকারী এনামুল হাজি এবং মেসার্স মনির অয়েল সেন্টারের পরিচালক অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে মেসার্স বাঘা পেট্রোলিয়াম এজেন্সিসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের দাম নিয়ে অভিযোগ না থাকলেও সরবরাহে সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজনকে দুই লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। এতে দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম ভুগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবিহা সুলতানা ডলি বলেন, “গত ৭ মার্চ আমরা বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও খুচরা দোকানে অভিযান চালিয়েছি। খুচরা বিক্রেতাদের অবৈধ মজুত না করতে এবং সরকারি মূল্যের বেশি টাকা না নিতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের অভিযোগ পেলে আবারও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।তিনি মনিগ্রামের ঘটনাটি তদন্ত করবেন বলে উল্লেখ করেন।
তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত জ্বালানি তেলের বাজার মনিটরিং এর দাবি জানিয়েছেন বাঘার সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাঘায় পাম্পে মিলছে দুই লিটার পেট্রোল,খোলা বাজারে দুর্নীতি ও নৈরাজ্য

আপডেট সময়ঃ ০৩:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

আব্দুস সামাদ মুকুল,বাঘা :

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারনে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে সংকোটও দেখা দিয়েছে। আর এ ঘটনাকে ইস্যু করে রাজশাহীর বাঘায় জ্বালানি তেলের বাজারে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অস্থিরতা । এখানে উপজেলা সদরে অবস্থিত পেট্রোল পাম্পে গেলে  মিলছে মাত্র দুই লিটার পেট্রোল। আর খোলা বাজারে চলছে দুর্ণীতির নৈরাজ্য। এমনটি প্রমান মিলেছে বাঘার মনিগ্রাম বাজারে।

সুংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে হরমুজ প্রণালী ঝুঁকিতে পড়া, এবং উৎপাদনকারী দেশ গুলোর উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে । এর ফলে বাংলাদেশসহ আমদানি নির্ভর দেশগুলোতে তেল আমদানির খরচ ও খুচরা মূল্য বেড়েছে । এতে করে বাজারে তেলের সংকোট দেখা দিয়েছে। তবে এই বিষয়টিকে ইস্যু করে অনেক অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুদসহ অধিক দাম আদায় করছেন গ্রাহকদের কাছে।

সরেজমিন গত রবিবার (৮ মার্চ)সকালে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমিয়ে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে বাঘার মনিগ্রাম বাজারের অবস্থিত মেসার্স রিয়াজ অয়েল সেন্টারে। লোকজনের অভিযোগ, সুযোগ বুঝে অনেক দোকানদার তেলের বাড়তি দাম নিচ্ছেন। যাদের মধ্যে অন্যতম রিয়াজ অয়েল সেন্টার।
বাঘার মনিগ্রাম বাজারে তেল কিনতে আসা মোটরসাইকেল চালক জিল্লুর রহমান জানান, আমার মোটরসাইকেলে তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় মেসার্স রিয়াজ অয়েল সেন্টারে এসে ছিলাম। তারা আমার কাছ থেকে এক লিটার পেট্রোল ১৫০ টাকা নিয়েছে। কোনো উপায় না থাকায় আমি বাধ্য হয়ে কিনেছি। অপর একজন অনিক আলী জানান, তাঁর মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি পলিথিন নিয়ে তেল কিনতে আসেন। তখন তাঁর কাছে প্রতি লিটার ১৫০ টাকা চাওয়া হয়। এরপর তারা পলিথিনে তেল দিতে না চাওয়ায় আমি মোটরসাইকেল ঠেলে আনতে বাধ্য হই। পরক্ষনে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনা স্থালে পৌছালে তাঁরা ১২৫ টাকা হারে তেল বিক্রয় করেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিগ্রাম বাজারে অবস্থিত মেসার্স রিয়াজ অয়েল সেন্টারের স্বত্বাধিকারী এনামুল হাজি এবং মেসার্স মনির অয়েল সেন্টারের পরিচালক অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে মেসার্স বাঘা পেট্রোলিয়াম এজেন্সিসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের দাম নিয়ে অভিযোগ না থাকলেও সরবরাহে সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজনকে দুই লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। এতে দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম ভুগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবিহা সুলতানা ডলি বলেন, “গত ৭ মার্চ আমরা বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও খুচরা দোকানে অভিযান চালিয়েছি। খুচরা বিক্রেতাদের অবৈধ মজুত না করতে এবং সরকারি মূল্যের বেশি টাকা না নিতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের অভিযোগ পেলে আবারও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।তিনি মনিগ্রামের ঘটনাটি তদন্ত করবেন বলে উল্লেখ করেন।
তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত জ্বালানি তেলের বাজার মনিটরিং এর দাবি জানিয়েছেন বাঘার সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।