১১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’ প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ, বাগমারার সেই আঁখি সাড়ে চার বছর পর গ্রেপ্তার

শামীম রেজা
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:
‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’ ও ‘শতভাগ ক্যাশব্যাক’-এর প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের শত শত গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে থাকা আলোচিত ‘আঁখি সুপার শপ’-এর পরিচালক আসমা শারমিন আঁখি (৩২)কে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহীর বাগমারা থানা পুলিশ। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে রোববার রাতে রাজশাহী নগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসমা শারমিন আঁখি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের হাসনিপুর গ্রামের আশরাফ হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম (৩৭) পাবনার বেড়া উপজেলার পুনডুরিয়া গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, আঁখির বিরুদ্ধে ১৫টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। সোমবার তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে তার সঙ্গে থাকা স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাগমারা থানার উপপরিদর্শক শিহাব উদ্দিন জানান, ২০২২ সালে সিলেটে মামলা হওয়ার পর থেকেই আঁখিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল পুলিশ। তবে তিনি বিভিন্ন কৌশলে আত্মগোপনে ছিলেন। অন্যের নামে নিবন্ধিত মোবাইল সিম ব্যবহার করে গাজীপুরে অবস্থান করে ‘এসএম ওয়েল মিলস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করে অনলাইনে তেল বিক্রি শুরু করেন। এছাড়া অন্যের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে নগদ হিসাব খুলে টাকা লেনদেন করতেন।

সম্প্রতি পিরোজপুরের এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ চালুর সূত্র ধরে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। পরে আঁখি প্রায় সাত মাস ধরে রাজশাহী শহরে অবস্থান করছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার থেকে রাজশাহী নগরীতে অবস্থান করে বাগমারা থানা পুলিশ। কয়েক দফা অবস্থান পরিবর্তন করেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী নগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ‘আঁখি সুপার শপ’ ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ‘একটি পণ্য কিনলে একই পণ্য আরেকটি ফ্রি’ এবং ‘শতভাগ ক্যাশব্যাক’সহ নানা আকর্ষণীয় অফারের প্রচারণা চালাত। মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিকস পণ্য ও গ্রোসারি সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের নামে ৩০ ও ৯০ দিনের প্যাকেজ ঘোষণা করা হতো। এসব অফারে আকৃষ্ট হয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাহক টাকা জমা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, এভাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। পরে ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে দিয়ে আঁখি ও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান। এরপর প্রতারিত গ্রাহকেরা মামলা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার এবং টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামিকে গ্রেপ্তারে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালানো হয়। বিভিন্ন কৌশলে অবস্থান পরিবর্তন করেও শেষ পর্যন্ত তিনি পুলিশের নজর এড়াতে পারেননি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আঁখির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’ প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ, বাগমারার সেই আঁখি সাড়ে চার বছর পর গ্রেপ্তার

আপডেট সময়ঃ ০৪:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাগমারা প্রতিনিধি:
‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’ ও ‘শতভাগ ক্যাশব্যাক’-এর প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের শত শত গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে থাকা আলোচিত ‘আঁখি সুপার শপ’-এর পরিচালক আসমা শারমিন আঁখি (৩২)কে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহীর বাগমারা থানা পুলিশ। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে রোববার রাতে রাজশাহী নগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসমা শারমিন আঁখি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের হাসনিপুর গ্রামের আশরাফ হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম (৩৭) পাবনার বেড়া উপজেলার পুনডুরিয়া গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, আঁখির বিরুদ্ধে ১৫টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। সোমবার তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে তার সঙ্গে থাকা স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাগমারা থানার উপপরিদর্শক শিহাব উদ্দিন জানান, ২০২২ সালে সিলেটে মামলা হওয়ার পর থেকেই আঁখিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল পুলিশ। তবে তিনি বিভিন্ন কৌশলে আত্মগোপনে ছিলেন। অন্যের নামে নিবন্ধিত মোবাইল সিম ব্যবহার করে গাজীপুরে অবস্থান করে ‘এসএম ওয়েল মিলস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করে অনলাইনে তেল বিক্রি শুরু করেন। এছাড়া অন্যের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে নগদ হিসাব খুলে টাকা লেনদেন করতেন।

সম্প্রতি পিরোজপুরের এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ চালুর সূত্র ধরে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। পরে আঁখি প্রায় সাত মাস ধরে রাজশাহী শহরে অবস্থান করছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার থেকে রাজশাহী নগরীতে অবস্থান করে বাগমারা থানা পুলিশ। কয়েক দফা অবস্থান পরিবর্তন করেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী নগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ‘আঁখি সুপার শপ’ ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ‘একটি পণ্য কিনলে একই পণ্য আরেকটি ফ্রি’ এবং ‘শতভাগ ক্যাশব্যাক’সহ নানা আকর্ষণীয় অফারের প্রচারণা চালাত। মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিকস পণ্য ও গ্রোসারি সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের নামে ৩০ ও ৯০ দিনের প্যাকেজ ঘোষণা করা হতো। এসব অফারে আকৃষ্ট হয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাহক টাকা জমা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, এভাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। পরে ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে দিয়ে আঁখি ও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান। এরপর প্রতারিত গ্রাহকেরা মামলা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার এবং টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামিকে গ্রেপ্তারে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালানো হয়। বিভিন্ন কৌশলে অবস্থান পরিবর্তন করেও শেষ পর্যন্ত তিনি পুলিশের নজর এড়াতে পারেননি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আঁখির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।