১২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

সোহরাব-রুস্তম’ সিনেমায় ইলিয়াস কাঞ্চনের নায়িকার জীবনের অবসান!

ডিপিডি ডেক্সঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:৪১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৩৯ বার পড়া হয়েছে।

ডিপিডি ডেক্সঃ
‘সোহরাব-রুস্তম’ সিনেমায় ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয়ের জন্য আলোচিত চিত্রনায়িকা বনশ্রীর করুণ জীবনের অবসান হলো। শহুরে জীবনের চড়াই-উতরাই শেষে নিজ এলাকা মাদারীপুরের শিবচরে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু তাঁর জীবনে জৌলুস দূরের কথা স্বচ্ছলতাও ছিল না।

নানা জায়গায় ঘুরে অবশেষে ঠাঁই পেয়েছিলেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে। অভাবের তাড়নায় কিছুদিন ভিক্ষাও করেছেন তিনি। মৃত্যুর কিছুদিন আগে দেশের বিত্তবান ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের কাছে সহযোগিতা চাইলেও তেমন কোনো সাড়া পাননি বনশ্রী।

দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছিলন তিনি, ভালো চিকিৎসাও জুটেনি। অবশেষে আজ মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৫ বছর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে উপজেলার পল্লী কুমেরপাড় মামা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয় বলে বনশ্রীর ভগ্নিপতি আবুল বাশার নিশ্চিত করেছেন।

শিবচরের মাদবরেরচর ইউনিয়নের শিকদার কান্দি এলাকার বাবা মজিবুর রহমান মজনু শিকদার ও মা সবুরজান রিনার দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে বনশ্রী বড়। সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি।
১৯৯৪ সালে ‘সোহরাব রুস্তম’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় আবির্ভাব ঘটে বনশ্রীর। নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে ছবিটি ব্যবসা সফল হয়। পরিচিতি পান বনশ্রী। এরপর আরও গোটা দশেক সিনেমায় অভিনয় করেন। নায়ক মান্না, আমিন খান, রুবেলের বিপরীতেও নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন বনশ্রী। রুপালি পর্দার মতো জীবনও হয়ে ওঠে আলো ঝলমল। তবে আলো ঝলমলে দিন বেশি দিন টেকেনি।
শিবচর থানার পাঁচ্চর এলাকার একটি সরকারি গুচ্ছগ্রামের ছোট্ট ঘরেই ছিল তার শেষ আশ্রয়। রান্না করতে না পারায় মাঝে মধ্যেই প্রতিবেশীদের কাছে খাবার চাইতে হতো। ঢাকায় মামার কাছে থাকা একমাত্র ছেলেও মায়ের খোঁজখবর নিতেন না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘পাঁচ দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিলেন বনশ্রী। হৃদরোগ, কিডনি জটিলতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’

এই চিকিৎসক আরো বলেন, ‘বনশ্রী একাই প্রায়ই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতেন। গত ৯ তারিখ এসে ভর্তি হন। তাঁর দেখাশোনার কেউ ছিল না। আমরা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে অনুদানের ব্যবস্থা করেছিলাম।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সোহরাব-রুস্তম’ সিনেমায় ইলিয়াস কাঞ্চনের নায়িকার জীবনের অবসান!

আপডেট সময়ঃ ০৪:৪১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ডিপিডি ডেক্সঃ
‘সোহরাব-রুস্তম’ সিনেমায় ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয়ের জন্য আলোচিত চিত্রনায়িকা বনশ্রীর করুণ জীবনের অবসান হলো। শহুরে জীবনের চড়াই-উতরাই শেষে নিজ এলাকা মাদারীপুরের শিবচরে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু তাঁর জীবনে জৌলুস দূরের কথা স্বচ্ছলতাও ছিল না।

নানা জায়গায় ঘুরে অবশেষে ঠাঁই পেয়েছিলেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে। অভাবের তাড়নায় কিছুদিন ভিক্ষাও করেছেন তিনি। মৃত্যুর কিছুদিন আগে দেশের বিত্তবান ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের কাছে সহযোগিতা চাইলেও তেমন কোনো সাড়া পাননি বনশ্রী।

দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছিলন তিনি, ভালো চিকিৎসাও জুটেনি। অবশেষে আজ মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৫ বছর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে উপজেলার পল্লী কুমেরপাড় মামা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয় বলে বনশ্রীর ভগ্নিপতি আবুল বাশার নিশ্চিত করেছেন।

শিবচরের মাদবরেরচর ইউনিয়নের শিকদার কান্দি এলাকার বাবা মজিবুর রহমান মজনু শিকদার ও মা সবুরজান রিনার দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে বনশ্রী বড়। সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি।
১৯৯৪ সালে ‘সোহরাব রুস্তম’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় আবির্ভাব ঘটে বনশ্রীর। নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে ছবিটি ব্যবসা সফল হয়। পরিচিতি পান বনশ্রী। এরপর আরও গোটা দশেক সিনেমায় অভিনয় করেন। নায়ক মান্না, আমিন খান, রুবেলের বিপরীতেও নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন বনশ্রী। রুপালি পর্দার মতো জীবনও হয়ে ওঠে আলো ঝলমল। তবে আলো ঝলমলে দিন বেশি দিন টেকেনি।
শিবচর থানার পাঁচ্চর এলাকার একটি সরকারি গুচ্ছগ্রামের ছোট্ট ঘরেই ছিল তার শেষ আশ্রয়। রান্না করতে না পারায় মাঝে মধ্যেই প্রতিবেশীদের কাছে খাবার চাইতে হতো। ঢাকায় মামার কাছে থাকা একমাত্র ছেলেও মায়ের খোঁজখবর নিতেন না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘পাঁচ দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিলেন বনশ্রী। হৃদরোগ, কিডনি জটিলতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’

এই চিকিৎসক আরো বলেন, ‘বনশ্রী একাই প্রায়ই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতেন। গত ৯ তারিখ এসে ভর্তি হন। তাঁর দেখাশোনার কেউ ছিল না। আমরা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে অনুদানের ব্যবস্থা করেছিলাম।