সততা স্টোর উদ্বোধনে জয়কৃষ্ণপুর মাদ্রাসায় ইউএনও, নজরে এলো ক্লাসরুম সংকট
- আপডেট সময়ঃ ০৫:৫২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৮১ বার পড়া হয়েছে।

ডিপিডি প্রতিবেদক:
দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের মাঝে সততা ও নৈতিকতার চর্চা ছড়িয়ে দিতে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ‘সততা স্টোর’ উদ্বোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসরুমের সংকটে ভুগতে থাকা মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিত্যক্ত ভবনের বাস্তব চিত্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসতুরা আমিনা।
৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ইউএনও আনুষ্ঠানিকভাবে সততা স্টোর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ, পরিত্যক্ত ভবন ও সার্বিক শিক্ষা পরিবেশ ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
রাজশাহী দুর্নীতি দমন কমিশনের উদ্যোগে এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এবিএম সিদ্দিকুর রহমানের বাস্তবায়নে জয়কৃষ্ণপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও গোয়ালবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে এই সততা স্টোর স্থাপন করা হয়।
সততা স্টোরের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও আত্মদায়িত্ববোধ সৃষ্টি করা। এ স্টোরে কোনো বিক্রেতা নেই। বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও খাদ্যসামগ্রী নির্ধারিত মূল্যে রাখা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পণ্য নিয়ে সঠিক মূল্য পরিশোধ করে সততার সঙ্গে ক্রয় করছে—যা বাস্তব জীবনে সততার একটি কার্যকর অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে ইউএনও মাদ্রাসার দীর্ঘদিনের ক্লাসরুম সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত জয়কৃষ্ণপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি এক সময় টিনের বেড়া ও টিনের ছাউনি দেওয়া অস্থায়ী কাঠামোতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করত। শিক্ষার্থীদের কষ্টের মধ্যেই চলেছে পাঠদান। পরে ৬ জুলাই ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হলে মাদ্রাসাটি চার কক্ষবিশিষ্ট একটি সরকারি ভবন পায়।
তবে চারটি কক্ষের একটি অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় বাকি তিনটি কক্ষেই প্রথম শ্রেণির ইফতেদায়ি থেকে শুরু করে দশম শ্রেণির দাখিল পর্যন্ত সব শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে। কখনো একই কক্ষে দুই থেকে তিনটি শ্রেণির ক্লাস, আবার কখনো পর্যায়ক্রমে ভাগ করে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে ২২ জন শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। সীমিত অবকাঠামোর মধ্যেও তাঁরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষকরা ইউএনওর কাছে শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জয়কৃষ্ণপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ আবুল হাশেম, মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ মোস্তফা কবির, সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান, ৬ নং মাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ আব্দুল গাফফার মন্টু, ৬ নং মাড়িয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ শাহাদাত হোসেন, বিএনপি নেতা মুক্তার হোসেন, মাড়িয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোসাঃ আলেয়া বেগমসহ মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সততা স্টোর উদ্বোধনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার পথে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছালেও, মাদ্রাসাটির দীর্ঘদিনের ক্লাসরুম সংকট এখনো বড় বাস্তবতা হয়ে রয়ে গেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা—ইউএনওর এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আরও জোরালোভাবে পড়বে মাদ্রাসাটির অবকাঠামোগত সমস্যার দিকে এবং শিগগিরই শিক্ষার্থীরা পাবে একটি উপযুক্ত ও স্বস্তিদায়ক শিক্ষার পরিবেশ।




















