০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিদ্যালয়ের মাঠে কাঠ ব্যবসার সাম্রাজ্য, ইউএনও’র নির্দেশকেও তুচ্ছ করছে দখলদাররা

শাহিনুর রহমান সুজন (চারঘাট) রাজশাহীঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:৫৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ২২৫ বার পড়া হয়েছে।

শাহিনুর রহমান সুজন (চারঘাট) রাজশাহীঃ
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পুঠিমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ এখন আর শিশুদের খেলাধুলার জায়গা নয়—এটি পরিণত হয়েছে কাঠ ব্যবসায়ীদের দখলদারি সাম্রাজ্যে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাসি-খুশি ভরা মাঠ এখন ভরে গেছে কাঠের স্তূপ আর ট্রাকের গর্জনে। প্রশাসনের বারবার নির্দেশ ও স্থানীয়দের অভিযোগও যেন হাসির খোরাক মাত্র ওই দখলদার চক্রের কাছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইদ্রীস আলী, রেজাউল করিম, আবু তালেব, মোস্তফা, আব্দুল লতিফ, বাদল, মজিবর মহরিসহ কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে মাঠ দখল করে রেখেছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনে এনে নানা প্রজাতির গাছ কেটে বিদ্যালয়ের মাঠে স্তূপ করা হচ্ছে। তারা দাবি করছেন—এটি সরকারি ফাঁকা জমি, বিদ্যালয়ের নয়। অথচ মাঠটি বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি।

১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির শত শত শিক্ষার্থীর খেলাধুলা ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আজ বাধাগ্রস্ত। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের একমাত্র স্থানটি দখল হয়ে যাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার। বিদ্যালয়ের কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাপিয়া খাতুন বলেন,কাঠ ব্যবসায়ীদের অসংখ্যবার অনুরোধ করলেও কোনো কাজ হয়নি। আমরা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, জমিদাতা ও ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের মোট জমি ছিল ২০৭ শতক। খাজনা না দেওয়ায় ৭১ শতক খাস খতিয়ানে চলে যায়। বর্তমানে ১৩৫ শতক জমির দলিল ও রেকর্ড বিদ্যালয়ের নামে আছে। এর মধ্যে ২৬ শতক জমিতে সরকারি সড়ক নির্মিত হয়েছে। বাকি মাঠের একটি অংশ কাঠ ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে চারঘাট ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাঠ ব্যবসায়ীদের ১৫ দিনের মধ্যে মাঠ খালি করার নির্দেশ দেন। কিন্তু দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো মাঠ দখলমুক্ত হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়রা বলেন,এটা শিশুদের খেলার মাঠ, কাঠের গুদাম নয়। অবিলম্বে দখলদার চক্রকে উচ্ছেদ করে মাঠ উদ্ধার করতে হবে।

 

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিদ্যালয়ের মাঠে কাঠ ব্যবসার সাম্রাজ্য, ইউএনও’র নির্দেশকেও তুচ্ছ করছে দখলদাররা

আপডেট সময়ঃ ০৮:৫৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শাহিনুর রহমান সুজন (চারঘাট) রাজশাহীঃ
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পুঠিমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ এখন আর শিশুদের খেলাধুলার জায়গা নয়—এটি পরিণত হয়েছে কাঠ ব্যবসায়ীদের দখলদারি সাম্রাজ্যে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাসি-খুশি ভরা মাঠ এখন ভরে গেছে কাঠের স্তূপ আর ট্রাকের গর্জনে। প্রশাসনের বারবার নির্দেশ ও স্থানীয়দের অভিযোগও যেন হাসির খোরাক মাত্র ওই দখলদার চক্রের কাছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইদ্রীস আলী, রেজাউল করিম, আবু তালেব, মোস্তফা, আব্দুল লতিফ, বাদল, মজিবর মহরিসহ কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে মাঠ দখল করে রেখেছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনে এনে নানা প্রজাতির গাছ কেটে বিদ্যালয়ের মাঠে স্তূপ করা হচ্ছে। তারা দাবি করছেন—এটি সরকারি ফাঁকা জমি, বিদ্যালয়ের নয়। অথচ মাঠটি বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি।

১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির শত শত শিক্ষার্থীর খেলাধুলা ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আজ বাধাগ্রস্ত। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের একমাত্র স্থানটি দখল হয়ে যাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার। বিদ্যালয়ের কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাপিয়া খাতুন বলেন,কাঠ ব্যবসায়ীদের অসংখ্যবার অনুরোধ করলেও কোনো কাজ হয়নি। আমরা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, জমিদাতা ও ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের মোট জমি ছিল ২০৭ শতক। খাজনা না দেওয়ায় ৭১ শতক খাস খতিয়ানে চলে যায়। বর্তমানে ১৩৫ শতক জমির দলিল ও রেকর্ড বিদ্যালয়ের নামে আছে। এর মধ্যে ২৬ শতক জমিতে সরকারি সড়ক নির্মিত হয়েছে। বাকি মাঠের একটি অংশ কাঠ ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে চারঘাট ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাঠ ব্যবসায়ীদের ১৫ দিনের মধ্যে মাঠ খালি করার নির্দেশ দেন। কিন্তু দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো মাঠ দখলমুক্ত হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়রা বলেন,এটা শিশুদের খেলার মাঠ, কাঠের গুদাম নয়। অবিলম্বে দখলদার চক্রকে উচ্ছেদ করে মাঠ উদ্ধার করতে হবে।