০৮:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

পুঠিয়ায় দোকান চুরির হিড়িক, জিম্মি ব্যবসায়ীরা! পুলিশের ভূমিকা নিরব

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:১৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৩৮ বার পড়া হয়েছে।

Oplus_16908288

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

‎‎রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ত্রিমোহনী বাজারে নাফিস এন্টারপ্রাইজ নামে একটি অটোরিকশা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আবারো চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ৮টি তালা ভেঙে প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চক্র। এর আগে একই প্রতিষ্ঠানে দুই দফায় চুরি হয়েছে।

‎ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, “চুরির পর থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসিকে পাইনি, বারবার ফোন করেও তেমন কথা হয়নি। পরদিন আবার গেলেও জিডি বা অভিযোগ কোনটাই নেয়নি ওসি। আগেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এখন মনে হচ্ছে আমরা চোরের কাছে জিম্মি।

‎দোকানের কর্মচারী ফিরোজ হোসেন জানান, দোকানের আটটি তালা কেটে ভিতরের মালামাল নিয়ে গেছে চোরেরা। কাটা তালাগুলো পরে জঙ্গলে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

‎ত্রিমোহনী বাজারেই নয়, পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বারবার চুরির ঘটনা ঘটছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত এক বছরে ৫০টিরও বেশি চুরির ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর কোনোটিরই সুরাহা করতে পারেনি পুলিশ। এতে অনেকে থানায় অভিযোগ করতেও ভয় পাচ্ছেন।

‎এর আগে উপজেলার মেনগেটের সামনে মুদি দোকান, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ইলেকট্রনিক্স শোরুম, বানেশ্বরে সাউন্ড সিস্টেম ও ধোপাপাড়া মোবাইল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একইভাবে চুরি হয়। কোথাও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জমা দেওয়া হলেও তদন্তে অগ্রগতি নেই। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় মাদকাসক্তির বিস্তার ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চোরেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

‎পুঠিয়া বণিক সমিতির আহ্বায়ক মামুন হোসেন বলেন, “বাজারে ৬০০ দোকানের জন্য ৯ জন নাইট গার্ড থাকলেও একের পর এক চুরি হচ্ছে। থানায় অভিযোগ দিলেও ভুক্তভোগীরা কোনো সহযোগিতা পান না। ব্যবসায়ীরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”

‎‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন বলেন, “বাজার কমিটির সঙ্গে কথা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, চোর ধরার চেষ্টা চলছে।”

‎স্থানীয়রা বলছেন চুরির ঘটনায় পুলিশের কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে দিন দিন চক্রের ভয়েই জিম্মি হয়ে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পুঠিয়ায় দোকান চুরির হিড়িক, জিম্মি ব্যবসায়ীরা! পুলিশের ভূমিকা নিরব

আপডেট সময়ঃ ০৬:১৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

‎‎রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ত্রিমোহনী বাজারে নাফিস এন্টারপ্রাইজ নামে একটি অটোরিকশা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আবারো চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ৮টি তালা ভেঙে প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চক্র। এর আগে একই প্রতিষ্ঠানে দুই দফায় চুরি হয়েছে।

‎ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, “চুরির পর থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসিকে পাইনি, বারবার ফোন করেও তেমন কথা হয়নি। পরদিন আবার গেলেও জিডি বা অভিযোগ কোনটাই নেয়নি ওসি। আগেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এখন মনে হচ্ছে আমরা চোরের কাছে জিম্মি।

‎দোকানের কর্মচারী ফিরোজ হোসেন জানান, দোকানের আটটি তালা কেটে ভিতরের মালামাল নিয়ে গেছে চোরেরা। কাটা তালাগুলো পরে জঙ্গলে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

‎ত্রিমোহনী বাজারেই নয়, পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বারবার চুরির ঘটনা ঘটছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত এক বছরে ৫০টিরও বেশি চুরির ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর কোনোটিরই সুরাহা করতে পারেনি পুলিশ। এতে অনেকে থানায় অভিযোগ করতেও ভয় পাচ্ছেন।

‎এর আগে উপজেলার মেনগেটের সামনে মুদি দোকান, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ইলেকট্রনিক্স শোরুম, বানেশ্বরে সাউন্ড সিস্টেম ও ধোপাপাড়া মোবাইল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একইভাবে চুরি হয়। কোথাও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জমা দেওয়া হলেও তদন্তে অগ্রগতি নেই। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় মাদকাসক্তির বিস্তার ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চোরেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

‎পুঠিয়া বণিক সমিতির আহ্বায়ক মামুন হোসেন বলেন, “বাজারে ৬০০ দোকানের জন্য ৯ জন নাইট গার্ড থাকলেও একের পর এক চুরি হচ্ছে। থানায় অভিযোগ দিলেও ভুক্তভোগীরা কোনো সহযোগিতা পান না। ব্যবসায়ীরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”

‎‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন বলেন, “বাজার কমিটির সঙ্গে কথা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, চোর ধরার চেষ্টা চলছে।”

‎স্থানীয়রা বলছেন চুরির ঘটনায় পুলিশের কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে দিন দিন চক্রের ভয়েই জিম্মি হয়ে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।