০৯:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

কষ্ট করলেও কেষ্ট মিলছেনা বাগমারার মৃৎশিল্পীদের ভাগ্যে

শামীম রেজা, বাগমারা:
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৩৬:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১০৪ বার পড়া হয়েছে।

শামীম রেজা, বাগমারা:

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পীরা এখন সংগ্রাম করছে নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য। এ যেন নিজের সাথে নিজের লড়াই। এই শিল্পের শুরুতেই লড়াই করেছে দ্বারে দ্বারে চাহিদা মতন পণ্য সরবরাহ করতে। সে সময়ের হয়েছে অনেক পরিবর্তন এখন আর মৃৎশিল্প তৈরিতে লড়াই করতে হচ্ছে না। এখন লড়াই করতে হচ্ছে এই শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে। এটি যেন সেই কথাকেই স্মরণ করিয়ে দেয় কষ্ট করলেও কেষ্ট মিলছে না।

এক সময় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে হাঁড়ি-পাতিল, কলস, সরা সহ মাটির সকল জিনিসপত্র তৈরি হতো। এই শিল্পের ওপর নির্ভর করেই চলত শত শত পরিবার। এ শিল্পের মূল কাঁচামাল হচ্ছে মাটি। কাঁচা মাটির সরবরাহ থাকলেও কমেছে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের কদর। বর্তমানে উৎপাদন খরচ বেশি হলেও লাভের পরিমাণ কম। সেই সাথে
জ্বালানি সমস্যা এবং বাজারে প্লাস্টিক ও সীসাজাত পণ্যের আগ্রাসনে ধ্বংসের পথে এই শিল্প।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার রামকৃষ্ণপুর, শ্রীপুর ইউনিয়নের বাঙালপাড়া, দাউদপুর, গনিপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর ঢেঁকিপাড়া সহ বেশ কয়েকটি স্থানে মাটির বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করা হচ্ছে। এক সময় মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল প্রায় শতাধিক পরিবার। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে।

বর্তমানে মৃৎশিল্প এর কারিগররা তাদের পারিবারিক পেশা বদল করে ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এ শিল্পকে টিকে থাকলেও বর্তমানে তা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভবানীগঞ্জ পৌরসভার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষ্ণপদ পাল নামের মৃৎশিল্পী বলেন, আগে নদীর পাড় কিংবা আশপাশের জমি থেকে সহজেই মাটি পাওয়া যেত। এখন সব জায়গা ভরাট হয়ে গেছে। মাটি তুলতেও নিষেধাজ্ঞা আছে। অনেক দূর থেকে মাটি কিনে আনতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়। কিন্তু হাঁড়ি-পাতিলের দাম আগের মতো নেই। দাম অনেক কম।

একই এলাকার শীতল পাল বলেন, একসময় ধানের নাড়া দিয়েই হাঁড়ি-পাতিল পোড়ানো হত। এখন লাকড়ি কিনতে হয়। খরচ বাড়লেও বাজারে মাটির জিনিসের দাম নেই। সংসার চালানোই কষ্টকর। এখন হাটে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে বসে থাকলেও নেই ক্রেতা। এক সময় অনেক চাহিদা ছিল মাটির জিনিসপত্রের।

সময়ের সাথে সাথে অনেকে পেশাবদল করেছে। এই পেশা অনেক কষ্টের তবে আয় কম। তাই নতুন প্রজন্ম এতে থাকতে চাইছে না।

মৃতশিল্পীরা মনে করেন, কাঁচামাটি সহজলভ্য করা এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মাটির জিনিসের চাহিদা বাড়বে। পাশাপাশি তাদের সহায়তায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। নতুন ডিজাইন ও আধুনিক বাজারজাতকরণের মাধ্যমে পুরনো ঐতিহ্যে আবারও ঘুরে আসবে মানুষ।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কষ্ট করলেও কেষ্ট মিলছেনা বাগমারার মৃৎশিল্পীদের ভাগ্যে

আপডেট সময়ঃ ১১:৩৬:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শামীম রেজা, বাগমারা:

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পীরা এখন সংগ্রাম করছে নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য। এ যেন নিজের সাথে নিজের লড়াই। এই শিল্পের শুরুতেই লড়াই করেছে দ্বারে দ্বারে চাহিদা মতন পণ্য সরবরাহ করতে। সে সময়ের হয়েছে অনেক পরিবর্তন এখন আর মৃৎশিল্প তৈরিতে লড়াই করতে হচ্ছে না। এখন লড়াই করতে হচ্ছে এই শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে। এটি যেন সেই কথাকেই স্মরণ করিয়ে দেয় কষ্ট করলেও কেষ্ট মিলছে না।

এক সময় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে হাঁড়ি-পাতিল, কলস, সরা সহ মাটির সকল জিনিসপত্র তৈরি হতো। এই শিল্পের ওপর নির্ভর করেই চলত শত শত পরিবার। এ শিল্পের মূল কাঁচামাল হচ্ছে মাটি। কাঁচা মাটির সরবরাহ থাকলেও কমেছে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের কদর। বর্তমানে উৎপাদন খরচ বেশি হলেও লাভের পরিমাণ কম। সেই সাথে
জ্বালানি সমস্যা এবং বাজারে প্লাস্টিক ও সীসাজাত পণ্যের আগ্রাসনে ধ্বংসের পথে এই শিল্প।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার রামকৃষ্ণপুর, শ্রীপুর ইউনিয়নের বাঙালপাড়া, দাউদপুর, গনিপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর ঢেঁকিপাড়া সহ বেশ কয়েকটি স্থানে মাটির বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করা হচ্ছে। এক সময় মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল প্রায় শতাধিক পরিবার। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে।

বর্তমানে মৃৎশিল্প এর কারিগররা তাদের পারিবারিক পেশা বদল করে ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এ শিল্পকে টিকে থাকলেও বর্তমানে তা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভবানীগঞ্জ পৌরসভার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষ্ণপদ পাল নামের মৃৎশিল্পী বলেন, আগে নদীর পাড় কিংবা আশপাশের জমি থেকে সহজেই মাটি পাওয়া যেত। এখন সব জায়গা ভরাট হয়ে গেছে। মাটি তুলতেও নিষেধাজ্ঞা আছে। অনেক দূর থেকে মাটি কিনে আনতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়। কিন্তু হাঁড়ি-পাতিলের দাম আগের মতো নেই। দাম অনেক কম।

একই এলাকার শীতল পাল বলেন, একসময় ধানের নাড়া দিয়েই হাঁড়ি-পাতিল পোড়ানো হত। এখন লাকড়ি কিনতে হয়। খরচ বাড়লেও বাজারে মাটির জিনিসের দাম নেই। সংসার চালানোই কষ্টকর। এখন হাটে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে বসে থাকলেও নেই ক্রেতা। এক সময় অনেক চাহিদা ছিল মাটির জিনিসপত্রের।

সময়ের সাথে সাথে অনেকে পেশাবদল করেছে। এই পেশা অনেক কষ্টের তবে আয় কম। তাই নতুন প্রজন্ম এতে থাকতে চাইছে না।

মৃতশিল্পীরা মনে করেন, কাঁচামাটি সহজলভ্য করা এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মাটির জিনিসের চাহিদা বাড়বে। পাশাপাশি তাদের সহায়তায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। নতুন ডিজাইন ও আধুনিক বাজারজাতকরণের মাধ্যমে পুরনো ঐতিহ্যে আবারও ঘুরে আসবে মানুষ।