১১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

তানোরে ধর্ষণ চেস্টার কথিত অভিযোগে দিনমজুরের সোয়া ৩ লাখ টাকা জরিমানা 

আলিফ হোসেন
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:১৭:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫৭ বার পড়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর তানোরে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ চেস্টার কথিত অভিযোগ এনে দিনমজুর এক কৃষক পরিবারকে জিম্মি করে সালিশ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। মুন্ডুমালা পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাসারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে দিনমজুর মনিরুল ইসলাম মনিরের ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেস্টা আপোষ যোগ্য অপরাধ নয়,তাই এ ঘটনা আপোষেরও কোনো সুযোগ নাই।এনিয়ে এলাকাবাসির মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। উঠেছে সমালোচনার ঝড় বইছে মুখরোচক নানা গুঞ্জন,প্রতিনিয়ত গুঞ্জনের ডালপালা মেলছে।স্থানীয়রা ঘটনার অধিকতর তদন্ত ও সালিশ বাণিজ্যর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
জানা গেছে,গত ৩০ জুলাই মুন্ডুমালা পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের  প্রকাশনগর গুচ্ছগ্রাম মহল্লার মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র ও দিনমজুর মনিরুল ইসলাম মনির (৫৫) একই গ্রামের এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন বলে এলাকায় প্রচার করা হয়।মনিরের স্বজনরা বলেন, সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাসারের লোকজন এমন প্রচারণা করে, তারাই আবার তার কাছে বিচার প্রার্থী হয়।
এদিকে  ঘটনার কোনো সতত্যা যাচাই-বাছাই না করেই সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাসারের সভাপতিত্বে গুচ্ছগ্রাম ফুটবল মাঠে সালিশ বৈঠক আয়োজন করা হয়।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান,এদিন সালিশ বৈঠকে সভাপতি আবুল বাসার রাশেল ও রোকন মব সৃষ্টি এবং মনিরকে জিম্মি করে স্বীকারোক্তি আদায় ও তিন লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।কিন্ত্ত তাদের কাছে নগদ টাকা না থাকায় ফাঁকা চেক ও তিনশ’ টাকা মুল্যর ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে মনিরের স্বাক্ষর নিয়ে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়।এসময় সভাপতি বাসার ঘোষণা দেন উক্ত সময়ের মধ্যে টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তার বাড়ির গরু-মহিষ বিক্রি করে টাকা আদায় করা হবে।
এদিকে রোববার(২৩আগষ্ট)সভাপতি আবুল বাসার জরিমানার তিন লাখ ১০ হাজার টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা মাফ দিয়ে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা আদায় করেন।এসব টাকা তার সহযোগী রোকনের কাছে জমা রাখা হয়। মনিরুল ইসলাম মনিরের পুত্র নাজমুল বলেন, তারা গরিব অসহায় তাই তাদের জিম্মি করে জরিমানার নামে সালিশ বানিজ্য করা হয়েছে।

এদিকে অসমর্থিত একটি সুত্র জানায়,জরিমানার দু’লাখ ৯০ হাজার টাকার মধ্যে বোর্ড খরচরের নামে সিংহভাগ টাকা গায়েব করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও মহিলা আইনজীবী সমিতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জৈষ্ঠ আইনজীবী বলেন,সন্দেহ বা ঘটনা প্রমাণ না করেই ধর্ষণ চেস্টার কথিত  অভিযোগে শোয়া তিন লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা কোনো ভাবেই সমর্থন করা যায় না। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে দিবালোকে এমন ঘটনা ঘটেছে,তাই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা
এবিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিবেন এটাই প্রত্যাশা। যাতে এমন সালিশ বাণিজ্য বন্ধ হয়,তবে অপরাধীর বিচার হোক সেটা সবাই চাই।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সালিশ বৈঠকের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাসার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে  বলেন, পুরো গ্রামবাসি মিলে বিচার করা হয়েছে।ধর্ষণ চেষ্টা আপোষযোগ্য অপরাধ নয়,আপনি বিচার করলেন কিভাবে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,বাদি থানায় অভিযোগ করবে না,তাই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিচার করা হয়েছে এতে সমস্যা কি ?
এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন,বিষয়টি তার জানা নাই,তিনি বলেন,ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেস্টা আপোষযোগ্য অপরাধ নয়,লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।#

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোরে ধর্ষণ চেস্টার কথিত অভিযোগে দিনমজুরের সোয়া ৩ লাখ টাকা জরিমানা 

আপডেট সময়ঃ ০৯:১৭:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর তানোরে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ চেস্টার কথিত অভিযোগ এনে দিনমজুর এক কৃষক পরিবারকে জিম্মি করে সালিশ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। মুন্ডুমালা পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাসারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে দিনমজুর মনিরুল ইসলাম মনিরের ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেস্টা আপোষ যোগ্য অপরাধ নয়,তাই এ ঘটনা আপোষেরও কোনো সুযোগ নাই।এনিয়ে এলাকাবাসির মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। উঠেছে সমালোচনার ঝড় বইছে মুখরোচক নানা গুঞ্জন,প্রতিনিয়ত গুঞ্জনের ডালপালা মেলছে।স্থানীয়রা ঘটনার অধিকতর তদন্ত ও সালিশ বাণিজ্যর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
জানা গেছে,গত ৩০ জুলাই মুন্ডুমালা পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের  প্রকাশনগর গুচ্ছগ্রাম মহল্লার মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র ও দিনমজুর মনিরুল ইসলাম মনির (৫৫) একই গ্রামের এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন বলে এলাকায় প্রচার করা হয়।মনিরের স্বজনরা বলেন, সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাসারের লোকজন এমন প্রচারণা করে, তারাই আবার তার কাছে বিচার প্রার্থী হয়।
এদিকে  ঘটনার কোনো সতত্যা যাচাই-বাছাই না করেই সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাসারের সভাপতিত্বে গুচ্ছগ্রাম ফুটবল মাঠে সালিশ বৈঠক আয়োজন করা হয়।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান,এদিন সালিশ বৈঠকে সভাপতি আবুল বাসার রাশেল ও রোকন মব সৃষ্টি এবং মনিরকে জিম্মি করে স্বীকারোক্তি আদায় ও তিন লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।কিন্ত্ত তাদের কাছে নগদ টাকা না থাকায় ফাঁকা চেক ও তিনশ’ টাকা মুল্যর ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে মনিরের স্বাক্ষর নিয়ে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়।এসময় সভাপতি বাসার ঘোষণা দেন উক্ত সময়ের মধ্যে টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তার বাড়ির গরু-মহিষ বিক্রি করে টাকা আদায় করা হবে।
এদিকে রোববার(২৩আগষ্ট)সভাপতি আবুল বাসার জরিমানার তিন লাখ ১০ হাজার টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা মাফ দিয়ে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা আদায় করেন।এসব টাকা তার সহযোগী রোকনের কাছে জমা রাখা হয়। মনিরুল ইসলাম মনিরের পুত্র নাজমুল বলেন, তারা গরিব অসহায় তাই তাদের জিম্মি করে জরিমানার নামে সালিশ বানিজ্য করা হয়েছে।

এদিকে অসমর্থিত একটি সুত্র জানায়,জরিমানার দু’লাখ ৯০ হাজার টাকার মধ্যে বোর্ড খরচরের নামে সিংহভাগ টাকা গায়েব করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও মহিলা আইনজীবী সমিতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জৈষ্ঠ আইনজীবী বলেন,সন্দেহ বা ঘটনা প্রমাণ না করেই ধর্ষণ চেস্টার কথিত  অভিযোগে শোয়া তিন লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা কোনো ভাবেই সমর্থন করা যায় না। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে দিবালোকে এমন ঘটনা ঘটেছে,তাই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা
এবিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিবেন এটাই প্রত্যাশা। যাতে এমন সালিশ বাণিজ্য বন্ধ হয়,তবে অপরাধীর বিচার হোক সেটা সবাই চাই।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সালিশ বৈঠকের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাসার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে  বলেন, পুরো গ্রামবাসি মিলে বিচার করা হয়েছে।ধর্ষণ চেষ্টা আপোষযোগ্য অপরাধ নয়,আপনি বিচার করলেন কিভাবে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,বাদি থানায় অভিযোগ করবে না,তাই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিচার করা হয়েছে এতে সমস্যা কি ?
এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন,বিষয়টি তার জানা নাই,তিনি বলেন,ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেস্টা আপোষযোগ্য অপরাধ নয়,লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।#