১০:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

বাগমারায় পুকুর খনন বন্ধে জোরালো অভিযান, ১৬ অভিযানে ২১ ভেকু অকেজো

শামীম রেজা
  • আপডেট সময়ঃ ১০:১৭:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / ১ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবাধে পুকুর খনন চললেও তা বন্ধে এখন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় পরিচালিত এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ১৬টি অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ২১টি ভেকু (খননযন্ত্র) অকেজো করা হয়েছে এবং ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অপর একজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খনন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও তা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী চক্র এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সরকারি কঠোর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে মাঠে নামে।

সম্প্রতি বাগমারায় অবৈধ পুকুর খননের বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল বারী সরদার। এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রীও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুধু দিনের বেলাতেই নয়, রাতেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ এর নেতৃত্বে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞার সক্রিয় অংশগ্রহণে এসব অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, অবৈধভাবে পুকুর খনন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। কৃষিজমি রক্ষায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত অভিযান চলমান থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। অবৈধভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খনন করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল বারী সরদার বলেন, কৃষিজমি রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। পুকুর খননের নামে যেভাবে আবাদি জমি নষ্ট করা হচ্ছিল, তা বন্ধে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অপরিকল্পিত পুকুর খননের ফলে একদিকে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিবেশগত নানা সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসনের এই ধারাবাহিক অভিযানে ইতোমধ্যে এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা আশা করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ পুকুর খনন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগমারায় পুকুর খনন বন্ধে জোরালো অভিযান, ১৬ অভিযানে ২১ ভেকু অকেজো

আপডেট সময়ঃ ১০:১৭:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

বাগমারা প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবাধে পুকুর খনন চললেও তা বন্ধে এখন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় পরিচালিত এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ১৬টি অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ২১টি ভেকু (খননযন্ত্র) অকেজো করা হয়েছে এবং ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অপর একজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খনন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও তা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী চক্র এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সরকারি কঠোর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে মাঠে নামে।

সম্প্রতি বাগমারায় অবৈধ পুকুর খননের বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল বারী সরদার। এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রীও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুধু দিনের বেলাতেই নয়, রাতেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ এর নেতৃত্বে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞার সক্রিয় অংশগ্রহণে এসব অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, অবৈধভাবে পুকুর খনন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। কৃষিজমি রক্ষায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত অভিযান চলমান থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। অবৈধভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খনন করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল বারী সরদার বলেন, কৃষিজমি রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। পুকুর খননের নামে যেভাবে আবাদি জমি নষ্ট করা হচ্ছিল, তা বন্ধে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অপরিকল্পিত পুকুর খননের ফলে একদিকে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিবেশগত নানা সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসনের এই ধারাবাহিক অভিযানে ইতোমধ্যে এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা আশা করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ পুকুর খনন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।