০৭:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে অবৈধ মাটি কাটার দায়ে ১জনের ১০ দিনের কারাদণ্ড 

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৪৪:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • / ৬৯ বার পড়া হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর ৬, ৭ ও ৮ নং স্পার বাধ থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহনের দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাটি বহনকারী একটি ট্রাক্টরের ড্রাইভারকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে । সোমবার (৯ মার্চ) মধ্যরাতে ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় বিএমএইচ ব্রিকস (হিরো ইটভাটা)’র সামনে এই অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকরামুল হক নাহিদ।

জানা গেছে, মধ্যরাতে পদ্মা নদী হতে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন।ভূমিদ্যসুরা অভিযানের সংবাদ পেয়ে পালিয়ে যায়। তবে মাটি পরিবহনরত অবস্থায় ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় বিএমএইচ ব্রিকস (হিরো ইটভাটা)’র সামনে থেকে একটি মাটিভর্তি ট্রাক্টরসহ সাকিব রানা (১৯) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সাকিব রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে ৮ নং স্পার বাধ এলাকায় পদ্মানদী হতে মাটি উত্তোলন করে বিএমএইচ ব্রিকসে (হিরো ইটভাটা)’য় পরিবহন করছিলেন বলে জানান। বিষয়টি উক্ত ইটভাটার ম্যানেজার আলহাজ্ব এনামুল হক (৬১) অকপটে স্বীকার করেন। তাদের উভয়ের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সাকিব রানা (১৯) কে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ ধারায় ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫ ধারায় ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড সর্বমোট ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। এছাড়াও, আলহাজ্ব এনামুল হক (৬১) কে ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করে আদায় করা হয়।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান উপজেলা প্রশাসন পরিচালনা করছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আইনের এমন কঠোর প্রয়োগে নদী ভাংগন একাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, অবৈধ মাটি কাটার কারণে নদীভাঙন ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছিল। নিয়মিত অভিযান হলে এসব অনিয়ম বন্ধ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে অবৈধ মাটি কাটার দায়ে ১জনের ১০ দিনের কারাদণ্ড 

আপডেট সময়ঃ ১১:৪৪:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর ৬, ৭ ও ৮ নং স্পার বাধ থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহনের দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাটি বহনকারী একটি ট্রাক্টরের ড্রাইভারকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে । সোমবার (৯ মার্চ) মধ্যরাতে ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় বিএমএইচ ব্রিকস (হিরো ইটভাটা)’র সামনে এই অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকরামুল হক নাহিদ।

জানা গেছে, মধ্যরাতে পদ্মা নদী হতে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন।ভূমিদ্যসুরা অভিযানের সংবাদ পেয়ে পালিয়ে যায়। তবে মাটি পরিবহনরত অবস্থায় ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় বিএমএইচ ব্রিকস (হিরো ইটভাটা)’র সামনে থেকে একটি মাটিভর্তি ট্রাক্টরসহ সাকিব রানা (১৯) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সাকিব রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে ৮ নং স্পার বাধ এলাকায় পদ্মানদী হতে মাটি উত্তোলন করে বিএমএইচ ব্রিকসে (হিরো ইটভাটা)’য় পরিবহন করছিলেন বলে জানান। বিষয়টি উক্ত ইটভাটার ম্যানেজার আলহাজ্ব এনামুল হক (৬১) অকপটে স্বীকার করেন। তাদের উভয়ের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সাকিব রানা (১৯) কে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ ধারায় ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫ ধারায় ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড সর্বমোট ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। এছাড়াও, আলহাজ্ব এনামুল হক (৬১) কে ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করে আদায় করা হয়।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান উপজেলা প্রশাসন পরিচালনা করছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আইনের এমন কঠোর প্রয়োগে নদী ভাংগন একাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, অবৈধ মাটি কাটার কারণে নদীভাঙন ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছিল। নিয়মিত অভিযান হলে এসব অনিয়ম বন্ধ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।