০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে পরাজয়ের পরও উন্নয়নের অঙ্গীকার হারুনুর রশীদের

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:৪০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনে পরাজিত হলেও এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হারুনুর রশীদ।

শুক্রবার, (১৩ই ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ০৬.০০ ঘটিকায় হারুনুর রশিদ তার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডি থেকে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে লিখিত বার্তায় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণ যে সমর্থন ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তা তিনি আজীবন স্মরণ রাখবেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হারুনুর রশীদ বলেন, দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া’র সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান-কে দেশনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। তার ভাষ্য মতে, “আমরা একটি আসনের লড়াই হেরেছি, কিন্তু মহাযুদ্ধে জয়ী হয়েছি। দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে—এটাই আমাদের বড় শক্তি।”

উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকার ঘোষণায় হারুনুর রশীদ বলেন, তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য না হলেও ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন সক্রিয় সিনিয়র নেতা হিসেবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়নে কাজ করবেন।

তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোর কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে—বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদী উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা, যুব কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়ন। পাশাপাশি দলীয়ভাবে ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার দাবি, দল ক্ষমতায় থাকায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।

ফেসবুক পোস্টের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকেই জামায়াত, বিএনপির নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এই হুমকির বিষয়টি জামায়াতের নেতৃবৃন্দদের নজরে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রক্ষমতায় না থেকেও ভয়ভীতি প্রদর্শন জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান। চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোনো ধরনের হুমকি বা অস্থিরতা বরদাশত করা হবে না। আইনের বাইরে গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ যাতে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন এবং কোনো বৈষম্যের শিকার না হন—সেটি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, “আমার লক্ষ্য ব্যক্তি ক্ষমতা নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ তথা বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠা।” একই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের অবস্থানকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সবশেষে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মহান আল্লাহর সহায়তা কামনা করেন।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে পরাজয়ের পরও উন্নয়নের অঙ্গীকার হারুনুর রশীদের

আপডেট সময়ঃ ০৮:৪০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনে পরাজিত হলেও এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হারুনুর রশীদ।

শুক্রবার, (১৩ই ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ০৬.০০ ঘটিকায় হারুনুর রশিদ তার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডি থেকে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে লিখিত বার্তায় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণ যে সমর্থন ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তা তিনি আজীবন স্মরণ রাখবেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হারুনুর রশীদ বলেন, দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া’র সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান-কে দেশনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। তার ভাষ্য মতে, “আমরা একটি আসনের লড়াই হেরেছি, কিন্তু মহাযুদ্ধে জয়ী হয়েছি। দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে—এটাই আমাদের বড় শক্তি।”

উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকার ঘোষণায় হারুনুর রশীদ বলেন, তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য না হলেও ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন সক্রিয় সিনিয়র নেতা হিসেবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়নে কাজ করবেন।

তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোর কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে—বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদী উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা, যুব কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়ন। পাশাপাশি দলীয়ভাবে ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার দাবি, দল ক্ষমতায় থাকায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।

ফেসবুক পোস্টের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকেই জামায়াত, বিএনপির নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এই হুমকির বিষয়টি জামায়াতের নেতৃবৃন্দদের নজরে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রক্ষমতায় না থেকেও ভয়ভীতি প্রদর্শন জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান। চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোনো ধরনের হুমকি বা অস্থিরতা বরদাশত করা হবে না। আইনের বাইরে গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ যাতে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন এবং কোনো বৈষম্যের শিকার না হন—সেটি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, “আমার লক্ষ্য ব্যক্তি ক্ষমতা নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ তথা বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠা।” একই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের অবস্থানকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সবশেষে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মহান আল্লাহর সহায়তা কামনা করেন।