০৮:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

রহস্যময় এক তালা: শ্রীপুরের শিমুলতলী গ্রামের শ্রম-নাটক

সুলতান মাহমুদ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:৫৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১১৭ বার পড়া হয়েছে।

সুলতান মাহমুদ গাজীপুর প্রতিনিধি:

শনিবারের (৪ অক্টোবর) সকাল, ঘড়ির কাঁটা তখন আটটা ছুঁই ছুঁই। অন্য দিনের মতোই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের শিমুলতলী গ্রামে অবস্থিত গার্ডেনিয়া ওয়ার লিমিটেড কারখানার গেটের দিকে পায়ে পায়ে এগোচ্ছিলেন শত শত শ্রমিক। তাঁদের চোখে-মুখে ছিল গত কয়েক দিনের অনিশ্চয়তা আর বকেয়া বেতনের চাপা উদ্বেগ। তাঁরা জানতেন, কর্তৃপক্ষের কথা অনুযায়ী আজ কারখানার তালা খোলার কথা।
কিন্তু গেটের কাছাকাছি আসতেই বুক কেঁপে উঠল! শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র, তাঁদের রুটিরুজির ঠিকানা—সেই মূল ফটকেই ঝুলছে এক অচেনা, রহস্যময় তালা!
যেন এক অদৃশ্য হাত রাতারাতি সব চাবি লুকিয়ে ফেলেছে।
গেটের সামনে টাঙানো হয়েছে একটি সাদামাটা নোটিশ। তাতে লেখা একটি তারিখ—৭ অক্টোবর, যেদিন নাকি বকেয়া বেতন পরিশোধ হবে। আর কারখানা ‘চালু’ হবে ৮ অক্টোবর।
এই নোটিশটি যেন শ্রমিকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিল। তাঁদের ক্ষোভ মুহূর্তে ফুঁসে উঠল, কারণ ২৯ সেপ্টেম্বরের আশ্বাসও ছিল এমনটাই—যে ৩০ সেপ্টেম্বর বেতন মিলবে। কিন্তু তা হয়নি। শ্রমিক প্রতিনিধি শামীম হতাশার সুরে জানান, “১৮ সেপ্টেম্বর বেতন দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। এরপর ১ অক্টোবরও সিদ্ধান্ত অমান্য করা হলো। আজ সকালে এই তালা দেখে আমরা আর স্থির থাকতে পারিনি।”
আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠল শিমুলতলী গ্রাম। একরাশ প্রশ্ন নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন শ্রমিকরা: কে দিল এই তালা? কেনই বা বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হচ্ছে? শ্রমিকদের মনে একটি প্রশ্ন থেকেই গেল: আসলেই কি গেট খুলবে?

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রহস্যময় এক তালা: শ্রীপুরের শিমুলতলী গ্রামের শ্রম-নাটক

আপডেট সময়ঃ ০৮:৫৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

সুলতান মাহমুদ গাজীপুর প্রতিনিধি:

শনিবারের (৪ অক্টোবর) সকাল, ঘড়ির কাঁটা তখন আটটা ছুঁই ছুঁই। অন্য দিনের মতোই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের শিমুলতলী গ্রামে অবস্থিত গার্ডেনিয়া ওয়ার লিমিটেড কারখানার গেটের দিকে পায়ে পায়ে এগোচ্ছিলেন শত শত শ্রমিক। তাঁদের চোখে-মুখে ছিল গত কয়েক দিনের অনিশ্চয়তা আর বকেয়া বেতনের চাপা উদ্বেগ। তাঁরা জানতেন, কর্তৃপক্ষের কথা অনুযায়ী আজ কারখানার তালা খোলার কথা।
কিন্তু গেটের কাছাকাছি আসতেই বুক কেঁপে উঠল! শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র, তাঁদের রুটিরুজির ঠিকানা—সেই মূল ফটকেই ঝুলছে এক অচেনা, রহস্যময় তালা!
যেন এক অদৃশ্য হাত রাতারাতি সব চাবি লুকিয়ে ফেলেছে।
গেটের সামনে টাঙানো হয়েছে একটি সাদামাটা নোটিশ। তাতে লেখা একটি তারিখ—৭ অক্টোবর, যেদিন নাকি বকেয়া বেতন পরিশোধ হবে। আর কারখানা ‘চালু’ হবে ৮ অক্টোবর।
এই নোটিশটি যেন শ্রমিকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিল। তাঁদের ক্ষোভ মুহূর্তে ফুঁসে উঠল, কারণ ২৯ সেপ্টেম্বরের আশ্বাসও ছিল এমনটাই—যে ৩০ সেপ্টেম্বর বেতন মিলবে। কিন্তু তা হয়নি। শ্রমিক প্রতিনিধি শামীম হতাশার সুরে জানান, “১৮ সেপ্টেম্বর বেতন দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। এরপর ১ অক্টোবরও সিদ্ধান্ত অমান্য করা হলো। আজ সকালে এই তালা দেখে আমরা আর স্থির থাকতে পারিনি।”
আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠল শিমুলতলী গ্রাম। একরাশ প্রশ্ন নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন শ্রমিকরা: কে দিল এই তালা? কেনই বা বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হচ্ছে? শ্রমিকদের মনে একটি প্রশ্ন থেকেই গেল: আসলেই কি গেট খুলবে?