০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবে সোফা কারখানার অগ্নিকান্ডে নিহত ১৬বাংলাদেশীর মধ্যে নওগাঁর ১৩জন

আব্দুস ছালাম, আত্রাই (নওগাঁ)
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৩৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে।

Oplus_131072

 

আব্দুস ছালাম, আত্রাই (নওগাঁ):

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে ১৬জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে নওগাঁর ১৩জন রয়েছে। নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ১২জন ও নওগাঁ সদর উপজেলার ১জন।

এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও নিহতের স্বজনরা।

রোববার(৯আগস্ট) দুপুর ২টার সময় রিয়াদের মহানগর শিফা থানার মুসা সানাইয়া এলাকায় এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

সোমবার(১০আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি,স্থানীয় বাসিন্দা,নিহতের স্বজনরা,এলাকার জনপ্রতিনিধি সুত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক ২টায় রিয়াদ মহানগীর শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় বাংলাদেশী কর্মীদের পরিচালনায় একটি সোফা কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এদূঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সাথে সাথে দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল হতে ১৬জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন বলে জানা যায়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ দুঘটনার সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের সময় রাত ১১টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে।

এ ঘটনার ওই কারখানার একমাত্র জীবিত কর্মী হাবিবুর রহমান জানান, দুপুর ১টা ৩০মিনিটে চুল কাটার জন্য সেলুনে যাই ফিরে এসে দেখি কারখানায় আগুন জ্বলছে।

তিনি আরো জানান,এ কারখানায় ১৭জন বাংলাদেশী কর্মী কাজ করতেন। দুঘটনায় ঘটনাস্থলে ১৬জন মারা গেছেন। স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা যায়,৮জন সরাসরি আগুনে পুড়ে এবং বাকি ৮জন কালো ধেঁায়ায় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান। কারখানার জীবিত কর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী অগ্নি দূঘটনায় মৃতদের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্তকরণে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। মৃতদেহের দাফন ও পরিবারের কাছে প্রেরণের জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নওগাঁর নিহত ১৩জন প্রবাসী হলেন, আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহলী গ্রামের মো: সাইদুর রহমানের ছেলে মোঃ রুবেল প্রামানিক, মৃত বজলুর প্রামানিকের ছেলে কলিমউদ্দীন, গুফফার প্রামানিকের ছেলে মোঃ মোহন ও মোঃ সুমন এবং খরস্রোতা গ্রামের মনজুর ছেলে মজিদুল রয়েছেন।

এ ছাড়া উজানপই গ্রামের ফরিদ শেখ, ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ ও সুমন, বোয়ালা গ্রামের হিদয়, খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল সাদনগর গ্রামের সাগর, মধ্য বোয়লিয়া এলাকার আক্কাস প্রামানিকের ছেলে মিনহাজ প্রামানিক, দুবাই গ্রামের বাদলের ছেরে সোহেন রানা এবং সদর উপজেলার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মজনুর ছেলে শাহিন।

আত্রাই উপজেলার নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলার কয়েকটি গ্রামের ১২জন ও নওগাঁ সদর উপজেলায় ১ আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবসময় খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। প্রায়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে সরকারের উর্দ্ধতন বিভাগের কর্মকর্তার সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ করা হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করার প্রয়োজন, তা করা হবে। এ ছাড়াও মৃতদেহগুলো দেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো নিহতদের পরিবারের কাছে যথাযথ ভাবে পৌছে দেওয়া হবে।

এদিকে মৃত্যুর খবরে উপজেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

 

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদি আরবে সোফা কারখানার অগ্নিকান্ডে নিহত ১৬বাংলাদেশীর মধ্যে নওগাঁর ১৩জন

আপডেট সময়ঃ ০৬:৩৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

 

আব্দুস ছালাম, আত্রাই (নওগাঁ):

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে ১৬জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে নওগাঁর ১৩জন রয়েছে। নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ১২জন ও নওগাঁ সদর উপজেলার ১জন।

এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও নিহতের স্বজনরা।

রোববার(৯আগস্ট) দুপুর ২টার সময় রিয়াদের মহানগর শিফা থানার মুসা সানাইয়া এলাকায় এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

সোমবার(১০আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি,স্থানীয় বাসিন্দা,নিহতের স্বজনরা,এলাকার জনপ্রতিনিধি সুত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক ২টায় রিয়াদ মহানগীর শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় বাংলাদেশী কর্মীদের পরিচালনায় একটি সোফা কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এদূঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সাথে সাথে দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল হতে ১৬জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন বলে জানা যায়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ দুঘটনার সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের সময় রাত ১১টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে।

এ ঘটনার ওই কারখানার একমাত্র জীবিত কর্মী হাবিবুর রহমান জানান, দুপুর ১টা ৩০মিনিটে চুল কাটার জন্য সেলুনে যাই ফিরে এসে দেখি কারখানায় আগুন জ্বলছে।

তিনি আরো জানান,এ কারখানায় ১৭জন বাংলাদেশী কর্মী কাজ করতেন। দুঘটনায় ঘটনাস্থলে ১৬জন মারা গেছেন। স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা যায়,৮জন সরাসরি আগুনে পুড়ে এবং বাকি ৮জন কালো ধেঁায়ায় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান। কারখানার জীবিত কর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী অগ্নি দূঘটনায় মৃতদের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্তকরণে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। মৃতদেহের দাফন ও পরিবারের কাছে প্রেরণের জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নওগাঁর নিহত ১৩জন প্রবাসী হলেন, আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহলী গ্রামের মো: সাইদুর রহমানের ছেলে মোঃ রুবেল প্রামানিক, মৃত বজলুর প্রামানিকের ছেলে কলিমউদ্দীন, গুফফার প্রামানিকের ছেলে মোঃ মোহন ও মোঃ সুমন এবং খরস্রোতা গ্রামের মনজুর ছেলে মজিদুল রয়েছেন।

এ ছাড়া উজানপই গ্রামের ফরিদ শেখ, ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ ও সুমন, বোয়ালা গ্রামের হিদয়, খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল সাদনগর গ্রামের সাগর, মধ্য বোয়লিয়া এলাকার আক্কাস প্রামানিকের ছেলে মিনহাজ প্রামানিক, দুবাই গ্রামের বাদলের ছেরে সোহেন রানা এবং সদর উপজেলার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মজনুর ছেলে শাহিন।

আত্রাই উপজেলার নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলার কয়েকটি গ্রামের ১২জন ও নওগাঁ সদর উপজেলায় ১ আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবসময় খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। প্রায়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে সরকারের উর্দ্ধতন বিভাগের কর্মকর্তার সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ করা হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করার প্রয়োজন, তা করা হবে। এ ছাড়াও মৃতদেহগুলো দেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো নিহতদের পরিবারের কাছে যথাযথ ভাবে পৌছে দেওয়া হবে।

এদিকে মৃত্যুর খবরে উপজেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।