০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সারাদেশে তাজা মাছ বিক্রিতে শীর্ষে দুর্গাপুর

হাসিবুর রহমানঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১০:১৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৮১ বার পড়া হয়েছে।

Oplus_16908288

হাসিবুর রহমানঃ

তাজা মাছ বিক্রিতে বাংলাদেশের মধ্যেই রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর শীর্ষ স্থান দখল করে আছে । প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকার বেশি মূল্যের তাজা মাছ ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে এই উপজেলার মাছচাষিরা যেমন উৎসাহিত হচ্ছে, তেমনীভাবে লাভবান হচ্ছে, এতে বাজারে ফরমালিন মুক্ত তাজা মাছ পাচ্ছে ক্রেতারা।

এই উপজেলা মাছ চাষের সফলতার পিছনে রয়েছে এক গল্প,দুই যুগ আগে থেকেই তাজা মাছ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়,ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ময়মনসিংহ,সহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি জেলায় প্রতিদিন মাছ পাঠানো হয়। এর ফলে রাজশাহী বাইরে মানুষ ফরমালিন মুক্ত মাছ খেতে পারে, এতে করে ওইসব এলাকায় তাজা মাছের চাহিদাও বেড়েছে লাখ অনেকাংশে ।

দূর্গাপুরের হাট কানপাড়া গ্রামের সেলিম রেজা বলেন, আমি প্রায় ৩০বছর যাবত মাছ চাষ করি, রাজশাহীর ভিতরে আমরাই প্রথম তাজা মাছ বাইরে সরবরাহ করি,সত্য কথা বলতে আগে তো নদীর মাছ ছাড়া বাইরের এলাকায় তাজা মাছ দেখতাম না,আমরা প্রথম দূর্গাপুর বাসী রাজশাহী বিভাগের বাইরে তাজা মাছ বিক্রি করেছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিকেল থেকে ভোররাতের মধ্যে ৪৫ থেকে ৫০ ট্রাক তাজা মাছ নিয়ে দূর্গাপুর হতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাছ নিয়ে ছুটে যায় বিক্রয়ের জন্য । প্রতিটি ট্রাকে ৭০০ থেকে ৮০০ কেজি মাছ থাকে,বর্তমানে মাছ চাষে এই উপজেলায় ২০ হাজারেরও বেশি লোক জড়িয়ে আছে।

দূর্গাপুর উপজেলা বিভিন্ন মৎস্য আড়তদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখন শুধু পুকুর থেকে না,আড়ত থেকেও তাজা মাছ যাচ্ছে দূর্গাপুরে বাইরে।
আড়তদার আবুল হোসেন বলেন,আমরা আড়তের তাজা মাছ কিনি,সেই মাছ হাউজ অথবা টাংকিতে সংরক্ষণ করি,পরবর্তী সময় ট্রাক যোগে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করি,এতে তাজা মাছে লাভটাও দ্বিগুণ হয়।

উপজেলা মৎস্য অফিস হতে জানায়,দূর্গাপুর উপজেলায় সরকারি পুকুর রয়েছে ৩৮৯টি,জমির পরিমাপ ১৬৪ হেক্টর, মাছের উৎপাদন ৮৫৬ মেট্রিক টন। বেসরকারি মালিকানা পুকুর রয়েছে ৫৯১১টি,জমির পরিমাপ ৩৮২৬ হেক্টর,মাছের উৎপাদন ১৯৮৩২ মেট্রিক টন। দূর্গাপুরে বাষিক মাছের চাহিদা রয়েছে ৪৩৩০ মেট্রিক টন, মাছে সর্বমোট উৎপাদন ২০৩৪৯ মেট্রিক টন,অর্থাৎ বাকী উদ্দীপ্ত ১৬০১৯ মেট্রিক টন মাছ দূর্গাপুরে বাইরে সরবারহ হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ তানজিমুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপুরে মাছ চাষ করে অনেক বেকার যুবক স্বাবলম্বী হয়েছে। মাছ চাষ করার জন্য চাষীদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, কয়েক বছরে দূর্গাপুরে দ্বিগুণ মাছ উৎপাদন হয়েছে। ফলে এখন মাছ দুর্গাপুরে উদ্বৃত্ত রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাক যোগ তাজা মাছ রপ্তানি করা হচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাপ অর্থ আয় হচ্ছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সারাদেশে তাজা মাছ বিক্রিতে শীর্ষে দুর্গাপুর

আপডেট সময়ঃ ১০:১৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

হাসিবুর রহমানঃ

তাজা মাছ বিক্রিতে বাংলাদেশের মধ্যেই রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর শীর্ষ স্থান দখল করে আছে । প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকার বেশি মূল্যের তাজা মাছ ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে এই উপজেলার মাছচাষিরা যেমন উৎসাহিত হচ্ছে, তেমনীভাবে লাভবান হচ্ছে, এতে বাজারে ফরমালিন মুক্ত তাজা মাছ পাচ্ছে ক্রেতারা।

এই উপজেলা মাছ চাষের সফলতার পিছনে রয়েছে এক গল্প,দুই যুগ আগে থেকেই তাজা মাছ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়,ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ময়মনসিংহ,সহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি জেলায় প্রতিদিন মাছ পাঠানো হয়। এর ফলে রাজশাহী বাইরে মানুষ ফরমালিন মুক্ত মাছ খেতে পারে, এতে করে ওইসব এলাকায় তাজা মাছের চাহিদাও বেড়েছে লাখ অনেকাংশে ।

দূর্গাপুরের হাট কানপাড়া গ্রামের সেলিম রেজা বলেন, আমি প্রায় ৩০বছর যাবত মাছ চাষ করি, রাজশাহীর ভিতরে আমরাই প্রথম তাজা মাছ বাইরে সরবরাহ করি,সত্য কথা বলতে আগে তো নদীর মাছ ছাড়া বাইরের এলাকায় তাজা মাছ দেখতাম না,আমরা প্রথম দূর্গাপুর বাসী রাজশাহী বিভাগের বাইরে তাজা মাছ বিক্রি করেছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিকেল থেকে ভোররাতের মধ্যে ৪৫ থেকে ৫০ ট্রাক তাজা মাছ নিয়ে দূর্গাপুর হতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাছ নিয়ে ছুটে যায় বিক্রয়ের জন্য । প্রতিটি ট্রাকে ৭০০ থেকে ৮০০ কেজি মাছ থাকে,বর্তমানে মাছ চাষে এই উপজেলায় ২০ হাজারেরও বেশি লোক জড়িয়ে আছে।

দূর্গাপুর উপজেলা বিভিন্ন মৎস্য আড়তদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখন শুধু পুকুর থেকে না,আড়ত থেকেও তাজা মাছ যাচ্ছে দূর্গাপুরে বাইরে।
আড়তদার আবুল হোসেন বলেন,আমরা আড়তের তাজা মাছ কিনি,সেই মাছ হাউজ অথবা টাংকিতে সংরক্ষণ করি,পরবর্তী সময় ট্রাক যোগে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করি,এতে তাজা মাছে লাভটাও দ্বিগুণ হয়।

উপজেলা মৎস্য অফিস হতে জানায়,দূর্গাপুর উপজেলায় সরকারি পুকুর রয়েছে ৩৮৯টি,জমির পরিমাপ ১৬৪ হেক্টর, মাছের উৎপাদন ৮৫৬ মেট্রিক টন। বেসরকারি মালিকানা পুকুর রয়েছে ৫৯১১টি,জমির পরিমাপ ৩৮২৬ হেক্টর,মাছের উৎপাদন ১৯৮৩২ মেট্রিক টন। দূর্গাপুরে বাষিক মাছের চাহিদা রয়েছে ৪৩৩০ মেট্রিক টন, মাছে সর্বমোট উৎপাদন ২০৩৪৯ মেট্রিক টন,অর্থাৎ বাকী উদ্দীপ্ত ১৬০১৯ মেট্রিক টন মাছ দূর্গাপুরে বাইরে সরবারহ হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ তানজিমুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপুরে মাছ চাষ করে অনেক বেকার যুবক স্বাবলম্বী হয়েছে। মাছ চাষ করার জন্য চাষীদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, কয়েক বছরে দূর্গাপুরে দ্বিগুণ মাছ উৎপাদন হয়েছে। ফলে এখন মাছ দুর্গাপুরে উদ্বৃত্ত রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাক যোগ তাজা মাছ রপ্তানি করা হচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাপ অর্থ আয় হচ্ছে।